ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পানিতে প্লাবিত বর-কনের গ্রাম, বিয়ে হলো মাদরাসায়

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

দুবাইয়ে দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে বিয়ের আয়োজন করলেন রাকিব নামে এক যুবক। বর-কনে পরস্পরের প্রতিবেশী। বিগত সাতদিন ধরে বর ও কনের বাড়িতে আলোকসজ্জাও হয় বর্ণিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রণে ভঙ্গ দিল আড়ম্বর আয়োজনের। অতিবৃষ্টির পানির জোয়ারে উভয়ের বাড়ি প্লাবিত। শেষে নিকটস্থ একটি মাদরাসায় অতিথি আপ্যায়ন সেরে সম্পন্ন হলো বিয়ের আয়োজন। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বকশিরচরের।

জানা গেছে, বকশিরচর গ্রামের কালাম হাওলাদারের বিদেশ ফেরত ছেলে রাকিব হাওলাদারের সঙ্গে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ফাতিমার বিয়ে ঠিক হয়।

আনোয়ার হোসেন জানান, উভয় পরিবারের ৩০০ অতিথি দাওয়াত দেওয়া ছিল। ভেবেছিলাম বৃষ্টি কমবে। সেইসঙ্গে নেমে যাবে পানি। বুধবার বৃষ্টি কমলেও উঠানে পানি কমেনি। এজন্য কিছুটা কষ্ট হলেও পাশেই চাঁদপাশা মহিলা দাখিল মাদরাসায় অতিথি আপ্যায়ন করেছি। গাড়ি রাস্তায় ঢুকাতে না পেরে ভ্যানে করে মেয়ে-জামাতাকে আমার বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে।

কালাম হাওলাদার বলেন, সন্তানদের বিয়ের আয়োজন নিয়ে আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাড়িতে পানি ওঠায় তা সম্ভব হয়নি, যতটুকু সম্ভব ততটুকুতেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছি। তিনি জানান, রাকিব আমার বড় ছেলে এবং পুত্রবধূ ফাতিমা ওই পরিবারের সবার ছোট মেয়ে।

বর রাকিব হাওলাদারের চাচাত ভাই রুহুল আমিন বলেন, পূর্ব থেকেই দুই পরিবার প্রতিবেশী ছিল না। কনের মূল বাড়ি ছিল উপজেলার অন্য এলাকায়। তবে কয়েক বছর পূর্বে তারা কালাম হাওলাদার চাচার বাড়ির পাশে জমি কিনে বাড়ি করে সেখানে বসবাস করেন।

চাঁদপাশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন খান বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি বা টানা বৃষ্টি হলেই চাঁদপাশা ইউনিয়নের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। বকশিরচর তারমধ্যে অন্যতম নিচু একটি গ্রাম। আজকে সেখানে একটি বিয়ের আয়োজন ছিল। পানিতে পুরো গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পাশের একটি মহিলা মাদরাসায় বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

পানিতে প্লাবিত বর-কনের গ্রাম, বিয়ে হলো মাদরাসায়

আপডেট সময় ১০:২০:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

দুবাইয়ে দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে বিয়ের আয়োজন করলেন রাকিব নামে এক যুবক। বর-কনে পরস্পরের প্রতিবেশী। বিগত সাতদিন ধরে বর ও কনের বাড়িতে আলোকসজ্জাও হয় বর্ণিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রণে ভঙ্গ দিল আড়ম্বর আয়োজনের। অতিবৃষ্টির পানির জোয়ারে উভয়ের বাড়ি প্লাবিত। শেষে নিকটস্থ একটি মাদরাসায় অতিথি আপ্যায়ন সেরে সম্পন্ন হলো বিয়ের আয়োজন। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের বকশিরচরের।

জানা গেছে, বকশিরচর গ্রামের কালাম হাওলাদারের বিদেশ ফেরত ছেলে রাকিব হাওলাদারের সঙ্গে একই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে ফাতিমার বিয়ে ঠিক হয়।

আনোয়ার হোসেন জানান, উভয় পরিবারের ৩০০ অতিথি দাওয়াত দেওয়া ছিল। ভেবেছিলাম বৃষ্টি কমবে। সেইসঙ্গে নেমে যাবে পানি। বুধবার বৃষ্টি কমলেও উঠানে পানি কমেনি। এজন্য কিছুটা কষ্ট হলেও পাশেই চাঁদপাশা মহিলা দাখিল মাদরাসায় অতিথি আপ্যায়ন করেছি। গাড়ি রাস্তায় ঢুকাতে না পেরে ভ্যানে করে মেয়ে-জামাতাকে আমার বাড়ি থেকে নিয়ে গেছে।

কালাম হাওলাদার বলেন, সন্তানদের বিয়ের আয়োজন নিয়ে আমাদের অনেক বড় পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু বাড়িতে পানি ওঠায় তা সম্ভব হয়নি, যতটুকু সম্ভব ততটুকুতেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেছি। তিনি জানান, রাকিব আমার বড় ছেলে এবং পুত্রবধূ ফাতিমা ওই পরিবারের সবার ছোট মেয়ে।

বর রাকিব হাওলাদারের চাচাত ভাই রুহুল আমিন বলেন, পূর্ব থেকেই দুই পরিবার প্রতিবেশী ছিল না। কনের মূল বাড়ি ছিল উপজেলার অন্য এলাকায়। তবে কয়েক বছর পূর্বে তারা কালাম হাওলাদার চাচার বাড়ির পাশে জমি কিনে বাড়ি করে সেখানে বসবাস করেন।

চাঁদপাশা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মামুন খান বলেন, নদীর পানি বৃদ্ধি বা টানা বৃষ্টি হলেই চাঁদপাশা ইউনিয়নের অনেক এলাকা প্লাবিত হয়। বকশিরচর তারমধ্যে অন্যতম নিচু একটি গ্রাম। আজকে সেখানে একটি বিয়ের আয়োজন ছিল। পানিতে পুরো গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় পাশের একটি মহিলা মাদরাসায় বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়েছে।