আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। লাশ উদ্ধারে চার দিনের মধ্যে পুলিশ এ রহস্য উন্মোচন করল। প্রেমিকা রিয়ার সঙ্গে দেখা করতে গেলে শ্বাসরোধ করে জাহিদুলকে হত্যা করা হয়। প্রেমিকার বাড়িতে হত্যার পর জাহিদুল ইসলামের লাশ মাঠের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৪ জনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ৬ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফজলুর রহমান মহসিন বৃহস্পতিবার বিকালে এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, লাশ উদ্ধারের পর থেকে পুলিশ প্রেমঘটিত বিষয়সহ কয়েকটি রহস্য নিয়ে তদন্ত শুরু করে। ওই দিনই নিহত জাহিদুলের প্রেমিকা নাটোর সদরের পীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী তার বড়ভাই কলেজছাত্র রেজাউল ইসলাম, বাবা মোবারক হোসেন এবং খালা মাছুরা বেগমকে পুলিশ আটক করে। আটক সবার বাড়ি পার্শ্ববর্তী নাটোর সদরের বুড়ির বটতলার মহনপুর এলাকায়। তাদের আটকের পর পুলিশের কাছে তারা হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেন।
তাদের বর্ণনা দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, নাটোর সদরের বুড়ির বটতলার মহনপুর এলাকার মোবারকের মেয়ে রিয়া খাতুনের সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরে গত ২৭ আগস্ট শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাহিদুল তার প্রেমিকা রিয়ার বাড়িতে যান। বিষয়টি জানতে পেরে রিয়ার মা রিয়ার বড়ভাই রেজাউলকে জানান। রেজাউল তার খালা মাছুরা বেগম ও খালাতো ভাই মাসুমকে জানালে তারা কয়েকজন মিলে রিয়ার ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় রিয়া ও জাহিদুলকে একসঙ্গে দেখতে পেয়ে রেজাউল ক্ষিপ্ত হয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে জাহিদুলের মুখের ওপর কিলঘুসি মারেন। এতে জাহিদুলের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে থাকা রশি দিয়ে জাহিদুলের গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে। পরে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসককে ডেকে আনলে তিনি জাহিদুল মারা গেছেন জানিয়ে ফিরে যান।
এ ঘটনার পর রেজাউল ও তার পরিবারের লোকজন তাদের বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে বাগাতিপাড়ার কাকফো এলাকার কালারা ব্রিজ এলাকার মাঠের মধ্যে কাঁচা রাস্তার ওপর জাহিদুলের লাশ ফেলে রাখেন। পরদিন ২৮ আগস্ট সকালে স্থানীয় কৃষকরা লাশটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
বাগাতিপাড়া মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধারের পর ওই দিন রাতে নিহতের মা জাহেদা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এদিকে প্রেমিকা রিয়ার বড়ভাই রেজাউলকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী রেজাউলের বাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে পুলিশ নিহত জাহিদুলের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। এছাড়াও রেজাউলের বাড়িতে রিয়ার ঘরের সামনে এবং রান্নাঘরের পাশে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোস্তফা জানান, অভিযুক্তদের আটকের পর ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে গত সোমবার রিয়া খাতুনকে রাজশাহীর সেফ কাস্টডিতে এবং অন্যদের নাটোর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ আগস্ট রোববার নাটোর-তমালতলা সড়কের কাকফো গ্রামের কালারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার মাঠের মধ্য থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী জাহিদুল ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত জাহিদুল নাটোর সদরের পীরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভোকেশনাল শাখার মেকানিক্যাল ট্রেডের ছাত্র ছিল। সে কাকফো গ্রামের রাশেদুল ইসলাম রাশুর ছেলে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















