ঢাকা ০১:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভের হিসাব পরিবর্তন করতে বললো আইএমএফ, কেন?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভের হিসাব পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এছাড়া খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়েও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব পদ্ধতি নিয়ে ফের আপত্তি তোলে সংস্থাটি।

জানা যায়, বর্তমানে রিজার্ভের অর্থে ইডিএফে ৭০০ কোটি, জিটিএফে ২০ কোটি, এলটিএফএফে ৩ কোটি ৮৫ লাখ এবং সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে ৬৪ কোটি ডলার ও বাংলাদেশ বিমানকে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার ঋণ দেওয়া হয়েছে। এই ৭৯২ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের বাইরে কারেন্সি সোয়াপের আওতায় শ্রীলংকাকে দেওয়া হয়েছে ২০ কোটি ডলার। এটা রিজার্ভ থেকে বাদ দিলে প্রকৃত রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আইএমএফের পক্ষ থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হিসাব করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংককে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থা বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ও চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উন্নতির বিষয়ে পরামর্শ এসেছে।

আইএমএফ বলেছে, রিজার্ভের অর্থে গঠিত ইডিএফসহ বিভিন্ন ঋণ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনো রিজার্ভ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে। অথচ এগুলো নন লিকুইড সম্পদ বা ইনভেস্টমেন্ট গ্রেড সিকিউরিটিজ। সংস্থাটির ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন (বিপিএম-৬) ম্যানুয়াল অনুযায়ী এসব দায় রিজার্ভ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এছাড়া আলোচনায় মহামারির মধ্যে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুদ্রানীতি পদ্ধতির পরিবর্তন, বাণিজ্য ঘাটতি এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্যের উন্নতির তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ জানতে চেয়েছে আইএমএফ।

বৈঠকে প্রয়োজনের তাগিদে ব্যবসায়িক নীতি পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের রেপো রেট, কল মানি, ট্রেজারি বিল, বন্ড, আমানত এবং ঋণের সুদের হার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। করোনার মধ্যে ব্যাংকের গ্রাহক ও ঋণ খেলাপিদের দেওয়া বিশেষ সুবিধাগুলোর মাধ্যমে কতটুকু উপকৃত হয়েছে দেশের অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কী পরিমাণ ঋণ পেয়েছেন সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার পরামর্শ এসেছে আইএমএফের পক্ষ থেকে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ঋণের সুদ হার নির্ধারণ না করে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হিসাব পদ্ধতি সংশোধনের যে প্রস্তাব দিয়েছে আইএমএফ তা মানতে রাজি নয় বাংলাদেশ ব্যাংক।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে রিজার্ভের হিসাব পরিবর্তন করতে বললো আইএমএফ, কেন?

আপডেট সময় ১২:১৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ জুলাই ২০২২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বাংলাদেশ ব্যাংককে রিজার্ভের হিসাব পরিবর্তনের তাগিদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এছাড়া খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার বিষয়েও সংস্থাটির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আইএমএফের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের হিসাব পদ্ধতি নিয়ে ফের আপত্তি তোলে সংস্থাটি।

জানা যায়, বর্তমানে রিজার্ভের অর্থে ইডিএফে ৭০০ কোটি, জিটিএফে ২০ কোটি, এলটিএফএফে ৩ কোটি ৮৫ লাখ এবং সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষকে ৬৪ কোটি ডলার ও বাংলাদেশ বিমানকে ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার ঋণ দেওয়া হয়েছে। এই ৭৯২ কোটি ৬৫ লাখ ডলারের বাইরে কারেন্সি সোয়াপের আওতায় শ্রীলংকাকে দেওয়া হয়েছে ২০ কোটি ডলার। এটা রিজার্ভ থেকে বাদ দিলে প্রকৃত রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসবে।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আইএমএফের পক্ষ থেকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ হিসাব করার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংককে। একই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ব্যবস্থা বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ও চলতি হিসাবের ভারসাম্যে উন্নতির বিষয়ে পরামর্শ এসেছে।

আইএমএফ বলেছে, রিজার্ভের অর্থে গঠিত ইডিএফসহ বিভিন্ন ঋণ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এখনো রিজার্ভ হিসেবেই দেখানো হচ্ছে। অথচ এগুলো নন লিকুইড সম্পদ বা ইনভেস্টমেন্ট গ্রেড সিকিউরিটিজ। সংস্থাটির ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন (বিপিএম-৬) ম্যানুয়াল অনুযায়ী এসব দায় রিজার্ভ হিসেবে বিবেচিত হবে না।

এছাড়া আলোচনায় মহামারির মধ্যে ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মুদ্রানীতি পদ্ধতির পরিবর্তন, বাণিজ্য ঘাটতি এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্যের উন্নতির তাগিদ দেওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ জানতে চেয়েছে আইএমএফ।

বৈঠকে প্রয়োজনের তাগিদে ব্যবসায়িক নীতি পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকের রেপো রেট, কল মানি, ট্রেজারি বিল, বন্ড, আমানত এবং ঋণের সুদের হার নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। করোনার মধ্যে ব্যাংকের গ্রাহক ও ঋণ খেলাপিদের দেওয়া বিশেষ সুবিধাগুলোর মাধ্যমে কতটুকু উপকৃত হয়েছে দেশের অর্থনীতি এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কী পরিমাণ ঋণ পেয়েছেন সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এবিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার পরামর্শ এসেছে আইএমএফের পক্ষ থেকে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ঋণের সুদ হার নির্ধারণ না করে বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তারা। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হিসাব পদ্ধতি সংশোধনের যে প্রস্তাব দিয়েছে আইএমএফ তা মানতে রাজি নয় বাংলাদেশ ব্যাংক।’