ঢাকা ০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ‘জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চিকিৎসকদের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন’:মির্জা ফখরুল লন্ডনে প্রকাশ্যে ডাব খাওয়ার সময় তোপের মুখে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে: সার্জিও গর কু‌ড়িগ্রা‌মে এন‌সি‌পির মি‌ছি‌লে হামলা, আহত ১০ আলিফের চোখ ফেরত দিন, আমরা চুপ হয়ে যাব: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রামপুরায় চলন্ত বাসে উঠতে গিয়ে যাত্রীর মৃত্যু জামালপুরে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ ফাঁসি দিয়ে দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি- ট্রাইব্যুনালে বললেন লতিফ সিদ্দিকী ৬০ লাখ টাকায়ও মেলেনি মুক্তি, আরও ২৭ লাখ দিতে দেরি হওয়ায় হত্যা

দেড় বছর ধরে গৃহকর্তীর নির্মম নির্যাতনের শিকার শিশু আকলিমা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকার মিরপুর-২ এলাকার একটি বাসায় লিপি খাতুন নামে এক গৃহকর্তীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১ বছরের শিশু আকলিমা। মাগুরা সদর উপজেলার বাহার বাগ গ্রামে তার বাড়ি। দীর্ঘ আঠারো মাস ঢাকায় বাসায় বন্দী রেখে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে তার উপর। এমনকি বঞ্চিত করা হয়েছে নূন্যতম খাদ্যের অধিকার থেকে। যা তাকে করেছে রোগাক্রান্ত ও হাড্ডিসার।

মাগুরা সদর উপজেলার বাহারবাগ গ্রামের কুবাদ শেখের মেয়ে এই আকলিমা। ঢাকার মিরপুর-২ এলাকায় মাসুদুর রহমান বাবু নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাড়িতে গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করার সময় গত ১৮ মাস ধরে বাবুর স্ত্রী লিপি খাতুনের এই নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে সে। পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নির্যাতিতাসহ অভিযুক্ত লিপি খাতুন ও তার স্বামী বুধবার মাগুরায় আসে। আকলিমার স্বজনরা বৃহস্পতিবার আকলিমার সাথে দেখা করে তার কঙ্কালসার ও অসুস্থ অবস্থা দেখে একই দিন বিকালে মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করেন। আকলিমার মুখে জানতে পারেন নির্যাতনের ওইসব বর্ণনা। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ মাগুরা শহরের কলেজ পাড়ায় আকলিমার গৃহকর্তা মাসুদুর রহমান বাবুর নিজ বাসা থেকে লিপি খাতুনকে আটক করেছে। অন্যদিকে বাবু পলাতক রয়েছে। বাবু একটি ওষুধ কোম্পানীতে ঢাকায় কর্মরত। মাসুদুর রহমান ও লিপি খাতুনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় আকলিমার দাদা তজলু শেখ মামলা দিয়েছেন।

শিশুটির দাদি মনোয়ারা বেগম জানান, বাবা মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে মাগুরা সদরের বাহারবাগ গ্রামে দাদা তজলু শেখ ও দাদি মনোয়ারা বেগমের কাছেই থাকছিলো আকলিমা। পড়তো স্থানীয় একটি মাদ্রাসায়। এরই মধ্যে অভাবের সুযোগ নিয়ে বাহারবাগের গ্রাম্য প্রতিবেশী মাসুদুর রহমান বাবু ও তার স্ত্রী লিপি খাতুন আকলিমাকে তাদের ঢাকার বাসায় শিশুপুত্রকে দেখাশোনার জন্য প্রস্তাব দেয়। মাসিক পারিশ্রমিক ১ হাজার টাকা। সঙ্গে থাকা খাওয়া। রাজি হয়ে যান আকলিমার দাদা দাদি। বাবু ও লিপি দম্পতি আকলিমাকে প্রথমে নিয়ে আসে মাগুরা শহরের কলেজ পাড়ার বাসায়। পরে কর্মসূত্রে আকলিমাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মিরপুর-২ এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। সেখানেই বাবুর স্ত্রী লিপি খাতুন গত আঠারো মাস ধরে চালিয়েছে এই নির্মম নির্যাতন। ধারালো সুচ, খুনতি, পেন্সিল, কলমের খোচা ও ছ্যাকা পর্যন্ত দিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে চড়, লাথি, বেত্রাঘাত ছিলো নিত্য দিনের ঘটনা। শুধু তাই নয় তাকে তিন বেলা খাবার পর্যন্ত দেয়া হয়নি। যা দেয়া হতো তা বাসি ও পচা খাবার। নানা এ দুরাবস্থার মধ্যে পড়ে দীর্ঘ দিনের অপুষ্টিতে কঙ্কালসার দেহ নিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে গেছে আকলিমা। মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রফিকুল আহসান জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে শিশুটি ভতির্র সময় তার শরীরে একাধিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিছু চিহ্ন গরম কিছুর ছ্যাকা জাতীয়। সবচেয়ে বড় কথা দীর্ঘদিনের অপুষ্টিতে তার শরীর কঙ্কালসার হয়ে গেছে। তাকে সব ধরনের চিকিৎসা দেয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত লিপির স্বামী বাবু বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘শিশুটির দাদা তজলু শেখর মামলার ভিত্তিতে বাবুর স্ত্রী লিপি খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বাবুকে আটকের চেষ্টা চলছে’।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগনির্ভর ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায় সরকার : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

দেড় বছর ধরে গৃহকর্তীর নির্মম নির্যাতনের শিকার শিশু আকলিমা

আপডেট সময় ০৬:৪৮:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঢাকার মিরপুর-২ এলাকার একটি বাসায় লিপি খাতুন নামে এক গৃহকর্তীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১ বছরের শিশু আকলিমা। মাগুরা সদর উপজেলার বাহার বাগ গ্রামে তার বাড়ি। দীর্ঘ আঠারো মাস ঢাকায় বাসায় বন্দী রেখে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়েছে তার উপর। এমনকি বঞ্চিত করা হয়েছে নূন্যতম খাদ্যের অধিকার থেকে। যা তাকে করেছে রোগাক্রান্ত ও হাড্ডিসার।

মাগুরা সদর উপজেলার বাহারবাগ গ্রামের কুবাদ শেখের মেয়ে এই আকলিমা। ঢাকার মিরপুর-২ এলাকায় মাসুদুর রহমান বাবু নামে এক ব্যক্তির ভাড়া বাড়িতে গৃহকর্মী হিসাবে কাজ করার সময় গত ১৮ মাস ধরে বাবুর স্ত্রী লিপি খাতুনের এই নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে সে। পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নির্যাতিতাসহ অভিযুক্ত লিপি খাতুন ও তার স্বামী বুধবার মাগুরায় আসে। আকলিমার স্বজনরা বৃহস্পতিবার আকলিমার সাথে দেখা করে তার কঙ্কালসার ও অসুস্থ অবস্থা দেখে একই দিন বিকালে মাগুরা ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি করেন। আকলিমার মুখে জানতে পারেন নির্যাতনের ওইসব বর্ণনা। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সদর থানা পুলিশ মাগুরা শহরের কলেজ পাড়ায় আকলিমার গৃহকর্তা মাসুদুর রহমান বাবুর নিজ বাসা থেকে লিপি খাতুনকে আটক করেছে। অন্যদিকে বাবু পলাতক রয়েছে। বাবু একটি ওষুধ কোম্পানীতে ঢাকায় কর্মরত। মাসুদুর রহমান ও লিপি খাতুনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় আকলিমার দাদা তজলু শেখ মামলা দিয়েছেন।

শিশুটির দাদি মনোয়ারা বেগম জানান, বাবা মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে মাগুরা সদরের বাহারবাগ গ্রামে দাদা তজলু শেখ ও দাদি মনোয়ারা বেগমের কাছেই থাকছিলো আকলিমা। পড়তো স্থানীয় একটি মাদ্রাসায়। এরই মধ্যে অভাবের সুযোগ নিয়ে বাহারবাগের গ্রাম্য প্রতিবেশী মাসুদুর রহমান বাবু ও তার স্ত্রী লিপি খাতুন আকলিমাকে তাদের ঢাকার বাসায় শিশুপুত্রকে দেখাশোনার জন্য প্রস্তাব দেয়। মাসিক পারিশ্রমিক ১ হাজার টাকা। সঙ্গে থাকা খাওয়া। রাজি হয়ে যান আকলিমার দাদা দাদি। বাবু ও লিপি দম্পতি আকলিমাকে প্রথমে নিয়ে আসে মাগুরা শহরের কলেজ পাড়ার বাসায়। পরে কর্মসূত্রে আকলিমাকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মিরপুর-২ এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। সেখানেই বাবুর স্ত্রী লিপি খাতুন গত আঠারো মাস ধরে চালিয়েছে এই নির্মম নির্যাতন। ধারালো সুচ, খুনতি, পেন্সিল, কলমের খোচা ও ছ্যাকা পর্যন্ত দিয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে চড়, লাথি, বেত্রাঘাত ছিলো নিত্য দিনের ঘটনা। শুধু তাই নয় তাকে তিন বেলা খাবার পর্যন্ত দেয়া হয়নি। যা দেয়া হতো তা বাসি ও পচা খাবার। নানা এ দুরাবস্থার মধ্যে পড়ে দীর্ঘ দিনের অপুষ্টিতে কঙ্কালসার দেহ নিয়ে শয্যাশায়ী হয়ে গেছে আকলিমা। মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।

মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রফিকুল আহসান জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে শিশুটি ভতির্র সময় তার শরীরে একাধিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কিছু চিহ্ন গরম কিছুর ছ্যাকা জাতীয়। সবচেয়ে বড় কথা দীর্ঘদিনের অপুষ্টিতে তার শরীর কঙ্কালসার হয়ে গেছে। তাকে সব ধরনের চিকিৎসা দেয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত লিপির স্বামী বাবু বিশ্বাসের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।

মাগুরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘শিশুটির দাদা তজলু শেখর মামলার ভিত্তিতে বাবুর স্ত্রী লিপি খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। বাবুকে আটকের চেষ্টা চলছে’।