ঢাকা ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

পানি, তেল পড়া আর তাবিজ দিয়ে চলছে জটিল রোগের সমাধান!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হতদরিদ্র রিকশাচালক মুর্শিদ মিয়া (৩২) গেল দু’মাস আগে জিনের (স্থানীয়দের ভাষ্যমতে) সান্নিধ্য পেয়ে বনে গেছেন আধ্যাত্মিক কবিরাজ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী আর স্বজনদের ভিড়ে নৈশকালীন আসর বসিয়ে পানি আর তেল পড়া দিয়ে চলছে তার কবিরাজি চিকিৎসা। যা দিয়ে মাথা ব্যথা, প্রতিবন্ধীদের শারীরিক সমস্যা, প্যারালাইজড ও হাঁপানির মতো জটিল রোগ সারবে বলে আশ্বাস কবিরাজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজনের।

সব ধরনের রোগ ভালো করে দিচ্ছে কথিত এই কবিরাজ, এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে। প্রতিদিন রাত ১০টা বাজার আগেই সরিষার তেল পানির বোতল আর তাবিজ নিয়ে ছুটছেন হাজারো মানুষ। যে যেভাবে পাচ্ছে সেভাবে ভিড় করছে এই কবিরাজের বাড়িতে।

এমন আধ্যাত্মিক চিকিৎসা চলছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার আশ্রমপাড়া গ্রামের নেওয়াজ আলীর বাড়িতে। কথিত কবিরাজ মুর্শিদ মিয়া নেওয়াজ আলীর ছেলে বলে জানা যায়।

সচেতন মহলরা বলছেন, তাবিজ বা পানি পড়া দিয়ে এসব রোগ মুক্তির ব্যাখ্যা আদৌ আছে কিনা জানা নেই। আর উপজেলা প্রশাসন বলছে প্রতারণার অভিযোগ পেলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।

সরেজমিন জানা যায়, মুর্শিদ মিয়া কিছুদিন আগেও ছিলেন রিকশাচালক ও পাশাপাশি ইটভাটার শ্রমিক। দিনরাত কাজ করে টানতেন সংসারের হাল। সেই লোকটি হঠাৎ-ই বনে গেছেন কবিরাজ। প্রতিদিন শত শত মানুষকে দিচ্ছেন পানি ও তেল পড়া।

তার বাবা নেওয়াজ আলীর দাবি, জিনের পরামর্শে পাওয়া কিছু নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগে প্রতিবেশী এক প্যারালাইজড রোগী আমার ছেলের কাছে আসে। পরে তাকে জিনের পরামর্শ অনুযায়ী ফুঁ ও তেল পড়া দেওয়া হয়। কয়েকদিন পর ওই মানুষটা ভালো হয়ে যায়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে এভাবেই মানুষ আসতে থাকে।

চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার ঝাউগড়া ভূইয়া বাড়ির বয়োবৃদ্ধ ইছব আলী বলেন, অনেকদিন ধরে প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়ে আছি। গত দু’দিন ধরে ভালো হওয়ার আশায় এখানে আসতে হচ্ছে। এখনো কোনো উন্নতি হয়নি।

নালিতাবাড়ী উপজেলার মাথাফাটা এলাকার স্বপন মিয়া জানান, কোমরের ব্যথার নিরাময় পেতে সরাসরি ওই কবিরাজের শরণাপন্ন হই। কিন্তু কোমরের ব্যথা কাটেনি আগের মতই রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একাধিক ব্যক্তি জানান, কথিত এই কবিরাজ সরাসরি কারো কাছ থেকে টাকা না নিলেও ভিন্ন উপায়ে জটিল রোগীদের কাছ থেকে ওষুধ সরবরাহ করতে হবে বলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও নারী রোগীদের বেলায় ভিন্ন কক্ষে নিয়ে তেল ও ঝাড়ফুঁক করেছেন। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর।

কথিত ওই কবিরাজের সাথে দেখা ও কথা বলতে গেলে সহযোগীদের বাধার মুখে ফিরে আসতে হয়। তবে ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও কবিরাজের সহযোগী রাজীব বলেন, ওনি জিনের নির্দেশনা মোতাবেক মানুষের সঠিক চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। প্রত্যেক দিন আগত মানুষদের পরিস্থিতি বলে দেয়, আমাদের পক্ষ থেকে সঠিক সেবাটা পাচ্ছে। এতে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহের অবকাশ নেই। বিষয়টি খোলাসা করতে রোগীদের সাথে কথা বলতে বলেন ওই সহযোগী।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ ধরনের বিষয় গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নে জানতে চাইলে হালুয়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনীর আহমেদ জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ ধরনের কোনো চিকিৎসা নেই। এটা মূলত অপচিকিৎসা। সাধারণ মানুষদের অপচিকিৎসার শিকার না হতে তিনি পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম বলেন, আমি কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ছবি পেয়েছি। তবে অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন এমন কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

পানি, তেল পড়া আর তাবিজ দিয়ে চলছে জটিল রোগের সমাধান!

আপডেট সময় ০৯:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হতদরিদ্র রিকশাচালক মুর্শিদ মিয়া (৩২) গেল দু’মাস আগে জিনের (স্থানীয়দের ভাষ্যমতে) সান্নিধ্য পেয়ে বনে গেছেন আধ্যাত্মিক কবিরাজ। দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী আর স্বজনদের ভিড়ে নৈশকালীন আসর বসিয়ে পানি আর তেল পড়া দিয়ে চলছে তার কবিরাজি চিকিৎসা। যা দিয়ে মাথা ব্যথা, প্রতিবন্ধীদের শারীরিক সমস্যা, প্যারালাইজড ও হাঁপানির মতো জটিল রোগ সারবে বলে আশ্বাস কবিরাজের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লোকজনের।

সব ধরনের রোগ ভালো করে দিচ্ছে কথিত এই কবিরাজ, এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে। প্রতিদিন রাত ১০টা বাজার আগেই সরিষার তেল পানির বোতল আর তাবিজ নিয়ে ছুটছেন হাজারো মানুষ। যে যেভাবে পাচ্ছে সেভাবে ভিড় করছে এই কবিরাজের বাড়িতে।

এমন আধ্যাত্মিক চিকিৎসা চলছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার আশ্রমপাড়া গ্রামের নেওয়াজ আলীর বাড়িতে। কথিত কবিরাজ মুর্শিদ মিয়া নেওয়াজ আলীর ছেলে বলে জানা যায়।

সচেতন মহলরা বলছেন, তাবিজ বা পানি পড়া দিয়ে এসব রোগ মুক্তির ব্যাখ্যা আদৌ আছে কিনা জানা নেই। আর উপজেলা প্রশাসন বলছে প্রতারণার অভিযোগ পেলে নেওয়া হবে ব্যবস্থা।

সরেজমিন জানা যায়, মুর্শিদ মিয়া কিছুদিন আগেও ছিলেন রিকশাচালক ও পাশাপাশি ইটভাটার শ্রমিক। দিনরাত কাজ করে টানতেন সংসারের হাল। সেই লোকটি হঠাৎ-ই বনে গেছেন কবিরাজ। প্রতিদিন শত শত মানুষকে দিচ্ছেন পানি ও তেল পড়া।

তার বাবা নেওয়াজ আলীর দাবি, জিনের পরামর্শে পাওয়া কিছু নির্দেশনা অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগে প্রতিবেশী এক প্যারালাইজড রোগী আমার ছেলের কাছে আসে। পরে তাকে জিনের পরামর্শ অনুযায়ী ফুঁ ও তেল পড়া দেওয়া হয়। কয়েকদিন পর ওই মানুষটা ভালো হয়ে যায়। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে এভাবেই মানুষ আসতে থাকে।

চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার ঝাউগড়া ভূইয়া বাড়ির বয়োবৃদ্ধ ইছব আলী বলেন, অনেকদিন ধরে প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় পড়ে আছি। গত দু’দিন ধরে ভালো হওয়ার আশায় এখানে আসতে হচ্ছে। এখনো কোনো উন্নতি হয়নি।

নালিতাবাড়ী উপজেলার মাথাফাটা এলাকার স্বপন মিয়া জানান, কোমরের ব্যথার নিরাময় পেতে সরাসরি ওই কবিরাজের শরণাপন্ন হই। কিন্তু কোমরের ব্যথা কাটেনি আগের মতই রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরও একাধিক ব্যক্তি জানান, কথিত এই কবিরাজ সরাসরি কারো কাছ থেকে টাকা না নিলেও ভিন্ন উপায়ে জটিল রোগীদের কাছ থেকে ওষুধ সরবরাহ করতে হবে বলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়াও নারী রোগীদের বেলায় ভিন্ন কক্ষে নিয়ে তেল ও ঝাড়ফুঁক করেছেন। বিষয়টি দৃষ্টিগোচর।

কথিত ওই কবিরাজের সাথে দেখা ও কথা বলতে গেলে সহযোগীদের বাধার মুখে ফিরে আসতে হয়। তবে ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও কবিরাজের সহযোগী রাজীব বলেন, ওনি জিনের নির্দেশনা মোতাবেক মানুষের সঠিক চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। প্রত্যেক দিন আগত মানুষদের পরিস্থিতি বলে দেয়, আমাদের পক্ষ থেকে সঠিক সেবাটা পাচ্ছে। এতে বিন্দু পরিমাণ সন্দেহের অবকাশ নেই। বিষয়টি খোলাসা করতে রোগীদের সাথে কথা বলতে বলেন ওই সহযোগী।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ ধরনের বিষয় গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নে জানতে চাইলে হালুয়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনীর আহমেদ জানান, চিকিৎসা বিজ্ঞানে এ ধরনের কোনো চিকিৎসা নেই। এটা মূলত অপচিকিৎসা। সাধারণ মানুষদের অপচিকিৎসার শিকার না হতে তিনি পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজাউল করিম বলেন, আমি কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ছবি পেয়েছি। তবে অপচিকিৎসার শিকার হয়েছেন এমন কারও কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।