ঢাকা ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম শেখ হাসিনা চাচ্ছে না বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হোক : মেজর হাফিজ ৫৪ বছরে ক্ষমতায় যারা ছিল, তাদের শ্বশুরবাড়ির সম্পদ হু হু করে বেড়েছে:শফিকুর রহমান ৫ দশমিক ৯ মাত্রায় ফের ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থানকারী দলের ইতিহাস বিকৃতিতে জাতি স্তব্ধ: মাহদী আমিন সাপ আর ভারতীয়র দেখা একসঙ্গে পেলে, আগে ভারতীয়কে মারা উচিত: এপস্টেইন নথি ‘আগামীতে এমনও শুনতে হবে জামায়াত দেশের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ করেছিল’:সালাহউদ্দিন দায়িত্ব শেষে আমি নাগরিক সমাজের কাজে ফিরে যাবো : শিক্ষা উপদেষ্টা আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভিয়েতনাম, গোপন নথি ফাঁস পাতানো নির্বাচনের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই, অধিকার আদায়ে জনগণ জীবন দিতে প্রস্তুত: আসিফ মাহমুদ

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ চাইলেন ৪০ নারী অধিকারকর্মী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের অপসারণ দাবি করেছেন ৪০ নারী অধিকারকর্মী।

গত রোববার (৫ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান।

নারী অধিকারকর্মীরা বলেন, রাষ্ট্রীয় পদে আসীন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর মুখে এ ভাষা বাংলাদেশের আপামর নারীদের অপমান এবং অসম্মান করেছে বলে আমরা মনে করি। জনগণের করের টাকায় বেতনভুক্ত বাংলাদেশের মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় সংসদে, রাজনৈতিক সভায়, গণমাধ্যমে, সম্মেলনে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে পার পেয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি যৌন হয়রানিকে সমাজ এবং রাষ্ট্রে কাঠামোগত প্রতিষ্ঠিত করার বৈধতা দেওয়া হয়।

তারা আরও বলেন, আমরা জানতে চাই, কীভাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ঔদ্ধত্যভাবে বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না’। আমাদের পর্যবেক্ষণ বলে ক্ষমতাসীন দলগুলোর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদে প্রায়শই এ ধরনের রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার নাম করে তাদের আধিপত্যমূলক ক্ষমতাকাঠামো টিকিয়ে রাখার জন্য এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ‘নারীকে’ই বিভিন্ন যৌন অসংবেদনশীল বক্তব্যের মাধ্যমে হেয় করে থাকে। আর এই রাষ্ট্রব্যবস্থা এভাবেই সংসদ, আদালত, প্রশাসন তথা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নারীদের নিয়ে বিভিন্ন রকম যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য, তামাশা এবং মতামত দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ নারীর জন্য ভীতির পরিবেশ তৈরিতে উৎসাহিত করে। বিগত বছরগুলোতে আমাদের গণতন্ত্রহীনতা এত চরমে পৌঁছেছে যে, নারীদের নিয়ে এ ধরনের যৌনবাদী মন্তব্য করার পরও বেশির ভাগ সময়ে প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় বাহিনী, আদালত, সাংসদকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

নারী অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি অনলাইন মাধ্যমে নারীবিদ্বেষী, বর্ণবাদী এবং যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় আমরা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় এনে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি। আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, আমাদের দেশের নারীরা তাদের চলতি জীবনে বারবার এসব যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্যের শিকার হয়ে থাকে।

বিবৃতিদাতারা হলেন—ফরিদা আখতার, মির্জা তাসলিমা সুলতানা, জোবাইদা নাসরিন, নাসরিন খন্দকার, সায়দিয়া গুলরুখ, নাসরিন সিরাজ, স্নিগ্ধা রেজওয়ানা, সুপ্রীতি ধর, সম্পাদক, মিথিলা মাহফুজ, বীথি ঘোষ, তাসলিমা মিজি, মুনমুন শারমীন শামস, ইশরাত জাহান উর্মি, পূরবী তালুকদার, মোশফেক আরা শিমুল, নাসরিন আক্তার সুমি, সুমি রেক্সোনা, দিলশানা পারুল, মনজুন নাহার, ফেরদৌস আরা রুমী, মাহফুজা মালা, প্রমা ইসরাত, নাইমা খালেদ মনিকা, সীমা দত্ত, তানিয়াহ মাহমুদ তিন্নী, সুমাইয়া নাসরিন সুমু, অপরাজিতা সংগীতা, অর্ণি আনজুম, শ্রবণা শফিক দীপ্তি, রিমঝিম আহমেদ, শাফিনুর শাফিন, জেসমিন দীনা রায়, রেবেকা নীলা, লামিয়া ইসলাম, অপরাজিতা সংগীতা, মারজিয়া প্রভা, প্রাপ্তি তাপসী, ইসাবা শুহরাত, নাজিফা জান্নাত, মোরসালিনা আনিকা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা সংসদে গেলে স্বর্ণের দেশে পরিণত হবে’: রেজাউল করিম

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ চাইলেন ৪০ নারী অধিকারকর্মী

আপডেট সময় ০৬:২১:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের অপসারণ দাবি করেছেন ৪০ নারী অধিকারকর্মী।

গত রোববার (৫ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তারা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান।

নারী অধিকারকর্মীরা বলেন, রাষ্ট্রীয় পদে আসীন একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর মুখে এ ভাষা বাংলাদেশের আপামর নারীদের অপমান এবং অসম্মান করেছে বলে আমরা মনে করি। জনগণের করের টাকায় বেতনভুক্ত বাংলাদেশের মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় সংসদে, রাজনৈতিক সভায়, গণমাধ্যমে, সম্মেলনে নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করে পার পেয়ে যান। এর মধ্য দিয়ে নারীর প্রতি যৌন হয়রানিকে সমাজ এবং রাষ্ট্রে কাঠামোগত প্রতিষ্ঠিত করার বৈধতা দেওয়া হয়।

তারা আরও বলেন, আমরা জানতে চাই, কীভাবে তথ্য প্রতিমন্ত্রী ঔদ্ধত্যভাবে বলেন, ‘ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না’। আমাদের পর্যবেক্ষণ বলে ক্ষমতাসীন দলগুলোর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ মদদে প্রায়শই এ ধরনের রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্র পরিচালনার নাম করে তাদের আধিপত্যমূলক ক্ষমতাকাঠামো টিকিয়ে রাখার জন্য এবং রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ‘নারীকে’ই বিভিন্ন যৌন অসংবেদনশীল বক্তব্যের মাধ্যমে হেয় করে থাকে। আর এই রাষ্ট্রব্যবস্থা এভাবেই সংসদ, আদালত, প্রশাসন তথা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় নারীদের নিয়ে বিভিন্ন রকম যৌন হয়রানিমূলক মন্তব্য, তামাশা এবং মতামত দেওয়ার মাধ্যমে সাধারণ নারীর জন্য ভীতির পরিবেশ তৈরিতে উৎসাহিত করে। বিগত বছরগুলোতে আমাদের গণতন্ত্রহীনতা এত চরমে পৌঁছেছে যে, নারীদের নিয়ে এ ধরনের যৌনবাদী মন্তব্য করার পরও বেশির ভাগ সময়ে প্রশাসন, রাষ্ট্রীয় বাহিনী, আদালত, সাংসদকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

নারী অধিকারকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি অনলাইন মাধ্যমে নারীবিদ্বেষী, বর্ণবাদী এবং যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় আমরা তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানকে যথাযথ জবাবদিহির আওতায় এনে অপসারণের দাবি জানাচ্ছি। আমরা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, আমাদের দেশের নারীরা তাদের চলতি জীবনে বারবার এসব যৌন হয়রানিমূলক বক্তব্যের শিকার হয়ে থাকে।

বিবৃতিদাতারা হলেন—ফরিদা আখতার, মির্জা তাসলিমা সুলতানা, জোবাইদা নাসরিন, নাসরিন খন্দকার, সায়দিয়া গুলরুখ, নাসরিন সিরাজ, স্নিগ্ধা রেজওয়ানা, সুপ্রীতি ধর, সম্পাদক, মিথিলা মাহফুজ, বীথি ঘোষ, তাসলিমা মিজি, মুনমুন শারমীন শামস, ইশরাত জাহান উর্মি, পূরবী তালুকদার, মোশফেক আরা শিমুল, নাসরিন আক্তার সুমি, সুমি রেক্সোনা, দিলশানা পারুল, মনজুন নাহার, ফেরদৌস আরা রুমী, মাহফুজা মালা, প্রমা ইসরাত, নাইমা খালেদ মনিকা, সীমা দত্ত, তানিয়াহ মাহমুদ তিন্নী, সুমাইয়া নাসরিন সুমু, অপরাজিতা সংগীতা, অর্ণি আনজুম, শ্রবণা শফিক দীপ্তি, রিমঝিম আহমেদ, শাফিনুর শাফিন, জেসমিন দীনা রায়, রেবেকা নীলা, লামিয়া ইসলাম, অপরাজিতা সংগীতা, মারজিয়া প্রভা, প্রাপ্তি তাপসী, ইসাবা শুহরাত, নাজিফা জান্নাত, মোরসালিনা আনিকা।