ঢাকা ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদি আরবে আরামকো’র হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহীর মৃত্যু ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় ফ্রান্সে ১১ জনের মৃত্যু বাংলাদেশকে ১৪০ রানে অলআউট করল জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশের জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে আগ্রহী সুইজারল্যান্ড কোরীয় উপদ্বীপে ফের উত্তেজনা, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামরিক শক্তি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৯ জুলাই আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ জানাজা ও দাফন, অংশ নিতে পারেন দুই কোটি মানুষ প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজ অন্তর্বর্তী সরকারের ভুলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখতে হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার চট্টগ্রামে গ্যাসের পাইপ ফেটে আগুন, নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস

গ্যাস বিস্ফোরণে মা হারা শিশুর দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ফ্ল্যাট বাসায় জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত মঙ্গলী রানীর দুই শিশু কন্যা ও বৃদ্ধ শাশুড়ির দায়িত্ব নিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফা জহুরা।

নিহত মঙ্গলী রানী সিলেট জেলার ছাতক উপজেলার মৃত. নন্দ দাসের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় মেয়ে পূর্ণিমাকে (১০) নিয়ে ছোট মেয়ে স্বর্ণিমাকে তার দাদীর কাছে রেখে সিলেট থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় লালখার মোড় এলাকায় মাজহারুল ইসলামের বাড়িতে একটি রুম ভাড়া নিয়ে চলে আসেন। এরপর থেকে লালখা এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজে যোগ দেন মঙ্গলী রানী।

এদিকে সোমবার সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ ঝুমা রানীর তার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোক্তার মিয়ার বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় পাশের বাড়ির মায়া রানী পথচারী মঙ্গলী রানীসহ তিন নারীর মৃত্যু হলো। আইসিইউতে ঝুমার মা তুলসী রানী চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শরীরে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

তুলসী রানীর ছেলে রুবেল বলেন, গত শুক্রবার ভোরে ফতুল্লার লালখাঁর মোড় এলাকায় মোক্তার মিয়ার পাঁচতলা বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। এতে ওই বাসার নিচতলার আরেকটি ফ্ল্যাটে আমার মা তুলসী রানী ও বোন ঝুমা রানীকে নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করতাম। বিস্ফোরণে আমার পরিবারে মা-বোনসহ তিনজনই দগ্ধ হয়েছি। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দগ্ধ হয়েছে বোন ঝুমা রানী।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফা জহুরা জানান, হতাহত সবাইকেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিহত মঙ্গলী রানীর পরিবারের মধ্যে দুই শিশু কন্যা ও বৃদ্ধ এক মা রয়েছে। তাদের থাকা খাওয়া ও চলার মতো কোনো কিছুই নেই। এজন্য সিলেটের ছাতক উপজেলার ইউএনওকে অনুরোধ করেছি মঙ্গলী রানীর দুটি শিশু কন্যা ও মাকে থাকার জন্য একটি জমি ও ঘর সরকারিভাবে যেন ব্যবস্থা করে দেন। একই সঙ্গে বৃদ্ধ মাকে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করে দিবেন ইউএনও। এছাড়া আপাতত তাদের থাকা খাওয়ার জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যে বাড়িটিতে বিস্ফোরণে এত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বাড়ির বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদি আরবে আরামকো’র হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহীর মৃত্যু

গ্যাস বিস্ফোরণে মা হারা শিশুর দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

আপডেট সময় ০৯:২৬:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ নভেম্বর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ফ্ল্যাট বাসায় জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত মঙ্গলী রানীর দুই শিশু কন্যা ও বৃদ্ধ শাশুড়ির দায়িত্ব নিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফা জহুরা।

নিহত মঙ্গলী রানী সিলেট জেলার ছাতক উপজেলার মৃত. নন্দ দাসের স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর পর বড় মেয়ে পূর্ণিমাকে (১০) নিয়ে ছোট মেয়ে স্বর্ণিমাকে তার দাদীর কাছে রেখে সিলেট থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় লালখার মোড় এলাকায় মাজহারুল ইসলামের বাড়িতে একটি রুম ভাড়া নিয়ে চলে আসেন। এরপর থেকে লালখা এলাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজে যোগ দেন মঙ্গলী রানী।

এদিকে সোমবার সকালে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দগ্ধ ঝুমা রানীর তার মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোক্তার মিয়ার বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় পাশের বাড়ির মায়া রানী পথচারী মঙ্গলী রানীসহ তিন নারীর মৃত্যু হলো। আইসিইউতে ঝুমার মা তুলসী রানী চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শরীরে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

তুলসী রানীর ছেলে রুবেল বলেন, গত শুক্রবার ভোরে ফতুল্লার লালখাঁর মোড় এলাকায় মোক্তার মিয়ার পাঁচতলা বাড়ির নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। এতে ওই বাসার নিচতলার আরেকটি ফ্ল্যাটে আমার মা তুলসী রানী ও বোন ঝুমা রানীকে নিয়ে ভাড়ায় বসবাস করতাম। বিস্ফোরণে আমার পরিবারে মা-বোনসহ তিনজনই দগ্ধ হয়েছি। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দগ্ধ হয়েছে বোন ঝুমা রানী।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফা জহুরা জানান, হতাহত সবাইকেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নিহত মঙ্গলী রানীর পরিবারের মধ্যে দুই শিশু কন্যা ও বৃদ্ধ এক মা রয়েছে। তাদের থাকা খাওয়া ও চলার মতো কোনো কিছুই নেই। এজন্য সিলেটের ছাতক উপজেলার ইউএনওকে অনুরোধ করেছি মঙ্গলী রানীর দুটি শিশু কন্যা ও মাকে থাকার জন্য একটি জমি ও ঘর সরকারিভাবে যেন ব্যবস্থা করে দেন। একই সঙ্গে বৃদ্ধ মাকে বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করে দিবেন ইউএনও। এছাড়া আপাতত তাদের থাকা খাওয়ার জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, যে বাড়িটিতে বিস্ফোরণে এত হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে বাড়ির বিষয়ে জেলা প্রশাসন থেকে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।