আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের ২০২০ সালে প্রায় দুই কোটি টাকা লভ্যাংশ কম দেওয়ার অভিযোগ আসার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ কম দিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্স সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে কি-না ব্যাখ্যাও চেয়েছে ডিএসই।
জানা গেছে, শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় সোনালী লাইফের ডিভিডেন্ড ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে শিগগিরই। এরইমধ্যে ব্যবস্থা নিতে ডিএসইর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিজিট এক্সচেঞ্জ কমিশনকেও জানানো হয়েছে।
তবে সোনালী লাইফ ইনস্যুরেন্সের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিমা আইন মেনেই তারা ২০২০ সালের লভ্যাংশ বিতরণ করা হয়েছে। যদিও সব বিনিয়োগকারী লভ্যাংশ না পেলেও স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শ্রেণিমানও উন্নীত করে ‘এন’ থেকে ‘এ’ করা হয়েছে। এ নিয়েও আলোচনা চলছে পুজিঁবাজার পাড়ায়।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তারিকুল আমিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ডিভিডেন্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স শেয়ারবাজারের বিধি-বিধান যথাযথভাবে পরিপালন করেনি। এ বিষয়ে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি আমরা সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনকেও জানিয়েছি। তারা ব্যবস্থা নেবে।’
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ –
২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ওই অর্থবছরের জন্য সংশ্লিষ্ট শেয়ার ধারণকারীদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে। এতে আইপিও পরবর্তী কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডাররা কোম্পানিটির ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির শেয়ারের লেনদেন শুরু হওয়ার পর কোম্পানির পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে। কোম্পানিটির পর্ষদ সমাপ্ত হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ ক্যাশও চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের জন্য ২ শতাংশ অন্তর্বর্তী ক্যাশডিভিডেন্ড ঘোষণা করে। একই সঙ্গে কোম্পানিটি এ সংক্রান্ত মূল্য সংবেদনশীল তথ্যে (পিএসআই) প্রকাশ করে।
তবে ওই পিএসআইতে গত বছরের জন্য ঘোষিত ডিভিডেন্ড কেবল ২০২০ সালে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বা আইপিও পূর্ববর্তী শেয়ার ধারণকারীরা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বাকি ২ শতাংশ ক্যাশডিভিডেন্ড গত ৪ আগস্ট রেকর্ড ডেটের দিন শেয়ার ধারণকারী সব শেয়ারহোল্ডার পাবেন বলে জানানো হয়।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাকে শেয়ারহোল্ডারসহ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের নজরে না আসলেও গত ১৬ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির পক্ষ থেকে ডিএসইর ওয়েবসাইটে জানানো হয়, ঘোষিত ১০ শতাংশ ক্যাশডিভিডেন্ড ব্যাংক হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আইপিও পূর্ববর্তী শেয়ার ধারণকারীদের ব্যাংক হিসাবে ঘোষিত ডিভিডেন্ডের অর্থ গেলেও, সাধারণ শেয়ারহোল্ডারা কিছুই পাননি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ডিভিডেন্ড প্রদানের বিষয়ে ইতিমধ্যে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএসইসি ও ডিএসই। তবে কোম্পানিটির প্রদান করা ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
কী ছিল ডিএসইর চিঠিতে?
ডিএসই চিঠিতে উল্লেখ করেছে, গত ৭ অক্টোবর সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স থেকে পাঠানো একটি চিঠিতে আইপিও’র পূর্ব শেয়ারধারীদের ডিভিডেন্ড প্রদানের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স শেয়ারবাজারের বিদ্যমান বিধি-বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও প্রদান করেনি।
আইপিওর পূর্ব শেয়ারধারীদের ডিভিডেন্ড প্রদানের বিষয়ে আপনাদের প্রদানকৃত ব্যাখ্যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের সিদ্ধান্ত শেয়ারবাজারের প্রবৃদ্ধির অন্তরায় ও ক্ষতিকর।
এদিকে বিএসইসর নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভায় ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত যে ঘোষণা করা হবে, তা রেকর্ড ডেটের দিন শেয়ারধারণ করা সব শেয়ারহোল্ডাররা পাবেন। এক্ষেত্রে রেকর্ড ডেটের শেয়ারহোল্ডারদের কোনো অংশকে বাদ দিয়ে ডিভিডেন্ড প্রদান করার সুযোগ নেই।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে এমন প্রশ্নের ডিএসইর এমডি বলেন, ‘এখন কমিশন চাইলে তাদের সংশোধনের নির্দেশ দিতে পারে। আবার জরিমানাও করতে পারে। পুরোটাই তাদের ওপর নির্ভর করবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে এটা নিশ্চিত।’
যদিও ডিএসইর এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন সোনালী লাইফের কোম্পানি সচিব মো. রাফি-উজ-জামান। তিনি বলেন, বিমা আইন ২০১০ অনুযায়ী বছরভিত্তিক মূল্যায়নের ভিত্তিতেই সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ২০২০ সালে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। এখানে বিমা আইনের ৩০ এবং ৮২ ধারা একসঙ্গে প্রয়োগ করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যার তৈরী হয়েছে। যা হয়েছে পুরোটাই অনিচ্ছাকৃত এবং এটি প্রথমবার হয়েছে। আর হবেও না।’
‘তারপরও আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছি। আশা করি তারা ব্যাখ্যার উপযুক্ত জবাব পেয়েছেন। তারপরও কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত এলে সেটা পরিপালনে আমরা বদ্ধপরিকর’-যোগ করেন সোনালী লাইফের কোম্পানি সচিব।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























