ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

একটু খাবারের আশায় ছেলের বিরুদ্ধে থানায় বাবার অভিযোগ!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নওগাঁর নিয়ামতপুরে শুধু দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার আশায় ছেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ময়েজ উদ্দীন (৮০) নামে এক অসহায় বাবা।

সোমবার ওই বৃদ্ধ তার ছেলে মুনছের আলী (৩৫) ও পুত্রবধূ সুলতানা বেগমের (৩০) বিরুদ্ধে নিয়ামতপুর থানায় এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়নের দিঘীপাড়া (পশ্চিম পাহাড়) গ্রামের বাসিন্দা ময়েজ উদ্দীন বার্ধক্যজনিত কারণে বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ছেলে ভরণপোষণ না দেওয়ায় এ বয়সে শুধু বাঁচার তাগিদে নিজেকেই নিজের খাবার রান্না করে খেতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, ওই বৃদ্ধ বাবার প্রতি তার ছেলে খুবই উদাসীন। কোনো খোঁজখবর রাখে না তার। বৃদ্ধ বাবার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তুমুল ঝগড়া করে ছেলে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশও হয়েছে। তবে প্রতিকার হয়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ভরণপোষণের দাবিতে আইনের আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী বাবা ময়েজ উদ্দীন ছেলের প্রতি আক্ষেপ করে জানান, যোগ্য কর্মক্ষম ছেলে থাকলেও না খেয়ে দিন কাটে তার। বয়সের ভারে কিছুই করতে পারেন না তিনি। সম্প্রতি তার ভরণপোষণও বন্ধ করে দিয়েছে ছেলে। পুত্রবধূর প্রতি কিছুটা ভরসা করলেও সেও তার ছেলের মতোই আচরণ শুরু করেছে এখন। যেদিন শরীর খুব খারাপ থাকে রান্না হয় না তার। উপোস থাকতে হয় সারাদিন। পাড়া-প্রতিবেশীরা খোঁজ নিয়ে কিছু দিলে পেটে যায় তার। সব মিলিয়ে অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটছে এখন। অসুখ-বিসুখ, চিকিৎসার কথা বলতেই দুই চোখ বেয়ে অশ্রু নামে তার।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, শুনেছি সরকার নাকি বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে আইন করেছে। সেই ভরসায় শুধু দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার আশায় ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি।

থানার ওসি হুমায়ন কবীর জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

একটু খাবারের আশায় ছেলের বিরুদ্ধে থানায় বাবার অভিযোগ!

আপডেট সময় ১০:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ অক্টোবর ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নওগাঁর নিয়ামতপুরে শুধু দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার আশায় ছেলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ময়েজ উদ্দীন (৮০) নামে এক অসহায় বাবা।

সোমবার ওই বৃদ্ধ তার ছেলে মুনছের আলী (৩৫) ও পুত্রবধূ সুলতানা বেগমের (৩০) বিরুদ্ধে নিয়ামতপুর থানায় এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁড়ইল ইউনিয়নের দিঘীপাড়া (পশ্চিম পাহাড়) গ্রামের বাসিন্দা ময়েজ উদ্দীন বার্ধক্যজনিত কারণে বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কিন্তু ছেলে ভরণপোষণ না দেওয়ায় এ বয়সে শুধু বাঁচার তাগিদে নিজেকেই নিজের খাবার রান্না করে খেতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, ওই বৃদ্ধ বাবার প্রতি তার ছেলে খুবই উদাসীন। কোনো খোঁজখবর রাখে না তার। বৃদ্ধ বাবার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তুমুল ঝগড়া করে ছেলে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশও হয়েছে। তবে প্রতিকার হয়নি। অবশেষে নিরুপায় হয়ে ভরণপোষণের দাবিতে আইনের আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন তিনি।

ভুক্তভোগী বাবা ময়েজ উদ্দীন ছেলের প্রতি আক্ষেপ করে জানান, যোগ্য কর্মক্ষম ছেলে থাকলেও না খেয়ে দিন কাটে তার। বয়সের ভারে কিছুই করতে পারেন না তিনি। সম্প্রতি তার ভরণপোষণও বন্ধ করে দিয়েছে ছেলে। পুত্রবধূর প্রতি কিছুটা ভরসা করলেও সেও তার ছেলের মতোই আচরণ শুরু করেছে এখন। যেদিন শরীর খুব খারাপ থাকে রান্না হয় না তার। উপোস থাকতে হয় সারাদিন। পাড়া-প্রতিবেশীরা খোঁজ নিয়ে কিছু দিলে পেটে যায় তার। সব মিলিয়ে অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটছে এখন। অসুখ-বিসুখ, চিকিৎসার কথা বলতেই দুই চোখ বেয়ে অশ্রু নামে তার।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, শুনেছি সরকার নাকি বৃদ্ধ পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে আইন করেছে। সেই ভরসায় শুধু দু’মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার আশায় ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি।

থানার ওসি হুমায়ন কবীর জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।