ঢাকা ০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা, বিএনপির নেতাসহ গ্রেফতার ৫

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মাধবদীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরী মেয়েকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ সরিষা ক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বিচারক মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও মাধবদী কোতয়ালীরচর নাজির দেওয়ানের ছেলে আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), ধর্ষক নুরার চাচাতো ভাই ও একই এলাকার মৃত সাহাবুদ্দিনের ছেলে এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০) ও হোসেন বাজার এলাকার মৃত মজিবুরে ছেলে গাফফার (৩৪)।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও ধর্ষকসহ সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

তিনি বলেন, ধর্ষক ও হত্যাকারীসহ সব অপরাধীদের জন্য আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অপরাধী যে দলেরই হোক তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যেই ধর্ষক নুরাসহ সব অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীদের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সার্বিক খোঁজ-খবর নিতে বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা নিহতের বাড়ি যাচ্ছি এবং তাদের সর্বাক্তক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাধে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের পর বিচার চেয়ে নিহতের পরিবার মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ানের দারস্থ হয়। সেখানে ধর্ষক ও তাদের সঙ্গীরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে রফাদফার চেষ্টা করেন। ওই সময় রফদফা না হওয়ায় ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এর পর বুধবার রাতে বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নুরার নেতৃত্বে আরও পাঁচজন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিরেরর লোকজনসহ বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পর না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো লাশটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ময়নাতদন্ত শেষে এ ব্যাপারে নিহতের বাবা মো. আশরাফ জানান, নুরার নেতৃত্বে ৫/৬ জন লোক আমার সামনে থেকে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাতে আর পাইনি। সকালে আমরা জানতে পারি আমেনার লাশ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুরের সঙ্গে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক

তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা, বিএনপির নেতাসহ গ্রেফতার ৫

আপডেট সময় ১০:২০:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নরসিংদীর মাধবদীতে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভুক্তভোগী কিশোরীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহম্মদ আলী দেওয়ানসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে মাধবদীর বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরী মেয়েকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পুনরায় ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ সরিষা ক্ষেতে ফেলে দেওয়া হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বিচারক মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও মাধবদী কোতয়ালীরচর নাজির দেওয়ানের ছেলে আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তার ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), ধর্ষক নুরার চাচাতো ভাই ও একই এলাকার মৃত সাহাবুদ্দিনের ছেলে এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০) ও হোসেন বাজার এলাকার মৃত মজিবুরে ছেলে গাফফার (৩৪)।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ ও ধর্ষকসহ সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও নরসিংদী সদর আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

তিনি বলেন, ধর্ষক ও হত্যাকারীসহ সব অপরাধীদের জন্য আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। অপরাধী যে দলেরই হোক তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইতোমধ্যেই ধর্ষক নুরাসহ সব অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীদের সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সার্বিক খোঁজ-খবর নিতে বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা নিহতের বাড়ি যাচ্ছি এবং তাদের সর্বাক্তক সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সুবাধে স্ত্রী-কন্যাসহ মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করতেন। গত ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ৫/৬ জনের একটি দল এলাকা থেকে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ধর্ষণের পর বিচার চেয়ে নিহতের পরিবার মহিসাষুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ দেওয়ানের দারস্থ হয়। সেখানে ধর্ষক ও তাদের সঙ্গীরা মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে রফাদফার চেষ্টা করেন। ওই সময় রফদফা না হওয়ায় ধর্ষিতার পরিবারকে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয়। এর পর বুধবার রাতে বাবা আশরাফ হোসেন তার কাজ শেষে মেয়েকে নিয়ে খালার বাড়িতে রেখে আসতে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে নুরার নেতৃত্বে আরও পাঁচজন মিলে তার বাবার কাছ থেকে আমেনাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে পরিরেরর লোকজনসহ বেশ কিছুক্ষণ খোঁজাখুজির পর না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে একই এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেচানো লাশটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ময়নাতদন্ত শেষে এ ব্যাপারে নিহতের বাবা মো. আশরাফ জানান, নুরার নেতৃত্বে ৫/৬ জন লোক আমার সামনে থেকে আমার মেয়েকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করে রাতে আর পাইনি। সকালে আমরা জানতে পারি আমেনার লাশ ঘটনাস্থলে পড়ে আছে। আমার সন্তানকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

মাধবদী থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।