ঢাকা ১২:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

‘জীবনে আর নির্বাচনই করমু না’, কোন অভিমানে এ কথা বললেন ডিপজল?

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে ভয়ংকর চেহারার খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। যদিও বর্তমানে তিনি খল চরিত্রে নয়, নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। আবার তিনি একজন প্রযোজক, পাশাপাশি শিল্পী নেতা। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। গুঞ্জন উঠেছে, আগামী নির্বাচনেও তিনি জায়েদ খানের প্যানেল থেকে নির্বাচন করবেন।

আসলেই কি তাই? এ প্রসঙ্গে জানতে ডিপজলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিনেতার কণ্ঠে শোনা গেল অভিমানের সুর। তিনি বলেন, ‘শুধু শিল্পী সমিতি কেন, জীবনে আর কোনো নির্বাচনই করমু না।’ কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যম তো বলছে, ডিপজল নির্বাচন করছেন? এবার বিরক্তির সুরে তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন করুম আর আমিই জানুম না, এইডা কেমুন কথা? আমার লগে কেউ কথা না কইয়া নিউজ ছাপায় কেমনে?’

কিন্তু কোন অভিমান থেকে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একসময়ের ভয়ংকর এই খল অভিনেতা? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার শরীর ঠিক নাই। ওপেন হার্ট সার্জারি করছি। কয়দিন আগে চোখ অপারেশন করাইলাম। শরীর ফিট নাই। তাই শুধু শিল্পী সমিতি না, কোনো নির্বাচনই করব না। ভাবছিলাম সংসদ নির্বাচন করব, কিন্তু এখন আর নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনাই নাই।’

এদিকে ঢালিউডপাড়ায় ফিসফাস, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার কারণেই মনক্ষুণ্ন প্রভাবশালী এই অভিনেতা। এ জন্যই তার মনে এত অভিমান জমা হয়েছে। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ঢাকা-১৪ আসনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংসদ সদস্য আসলামুল হক হৃদরোগে মারা যান। ফলে ওই আসনটি শুন্য হয়ে যায়। বন্ধু আসলামের ওই আসনে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ডিপজল। চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।

এরপর গত ১০ জুন থেকে ঢাকা-১৪ আসনের উপ-নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে আওয়ামী লীগ। সেদিন অন্যদের মতো ডিপজলও গিয়েছিলেন ধানমন্ডিতে ক্ষমতাসীন দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র কিনতে। সঙ্গে নিয়েছিলেন জায়েদ খান, মিশা সওদাগর, চিত্রনায়ক রুবেল, চিত্রনায়িকা রোজিনা, অঞ্জনা, দিলারা, নৃত্যশিল্পী মাসুম বাবুলসহ শিল্পীদের বড় একটি বহর।

কিন্তু সে সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে খালি হাতে ফিরে আসতে হয় ডিপজলকে। তার কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেনি আওয়ামী লীগ। সেই অভিমানেই অভিনেতা জীবনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে মনস্থির করেছেন- এমন গুঞ্জনই উঠেছে ঢালিউডপাড়ায়।

কিন্তু কেন সেদিন ডিপজলের কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেনি আওয়ামী লীগ? এ ব্যাপারে জানতে ডিপজলকে সে সময় বারবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। পরে একটি বিশেষ সূত্র মারফত জানা যায়, আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের প্রাথমিক সদস্য নন ডিপজল। তাই শর্ত পূরণ না হওয়ায় তার কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেনি দলটি। তাছাড়া ডিপজল বিএনপি সমর্থিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তাই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কেনার যোগ্যতা তার ছিল না।

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও ঢাকা-১৪ আসন থেকে নৌকার টিকিট চেয়েছিলেন ডিপজল। কিন্তু দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় আসলামুল হককে। সে সময়ও তার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। বিএনপির ব্যানারে তিনি কাউন্সিলরও নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে গুঞ্জন উঠেছিল।

কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এ বিষয় অস্বীকার করেন ডিপজল। দাবি করেন, ‘আমি কোনো কালেই বিএনপি ছিলাম না। আমাকে বিএনপি বানিয়ে রাখা হয়েছিল। বিএনপির কোথাও আমার নাম নাই। আমার প্রথম দল আওয়ামী লীগ। এ দল থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’ এছাড়া তিনি বিএনপি নয় বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘জীবনে আর নির্বাচনই করমু না’, কোন অভিমানে এ কথা বললেন ডিপজল?

আপডেট সময় ০২:০৩:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

আকাশ বিনোদন ডেস্ক :

ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে ভয়ংকর চেহারার খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। যদিও বর্তমানে তিনি খল চরিত্রে নয়, নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। আবার তিনি একজন প্রযোজক, পাশাপাশি শিল্পী নেতা। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটিতে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। গুঞ্জন উঠেছে, আগামী নির্বাচনেও তিনি জায়েদ খানের প্যানেল থেকে নির্বাচন করবেন।

আসলেই কি তাই? এ প্রসঙ্গে জানতে ডিপজলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে অভিনেতার কণ্ঠে শোনা গেল অভিমানের সুর। তিনি বলেন, ‘শুধু শিল্পী সমিতি কেন, জীবনে আর কোনো নির্বাচনই করমু না।’ কিন্তু বিভিন্ন গণমাধ্যম তো বলছে, ডিপজল নির্বাচন করছেন? এবার বিরক্তির সুরে তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচন করুম আর আমিই জানুম না, এইডা কেমুন কথা? আমার লগে কেউ কথা না কইয়া নিউজ ছাপায় কেমনে?’

কিন্তু কোন অভিমান থেকে নির্বাচন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন একসময়ের ভয়ংকর এই খল অভিনেতা? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার শরীর ঠিক নাই। ওপেন হার্ট সার্জারি করছি। কয়দিন আগে চোখ অপারেশন করাইলাম। শরীর ফিট নাই। তাই শুধু শিল্পী সমিতি না, কোনো নির্বাচনই করব না। ভাবছিলাম সংসদ নির্বাচন করব, কিন্তু এখন আর নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনাই নাই।’

এদিকে ঢালিউডপাড়ায় ফিসফাস, জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার কারণেই মনক্ষুণ্ন প্রভাবশালী এই অভিনেতা। এ জন্যই তার মনে এত অভিমান জমা হয়েছে। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ঢাকা-১৪ আসনের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংসদ সদস্য আসলামুল হক হৃদরোগে মারা যান। ফলে ওই আসনটি শুন্য হয়ে যায়। বন্ধু আসলামের ওই আসনে নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ডিপজল। চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন।

এরপর গত ১০ জুন থেকে ঢাকা-১৪ আসনের উপ-নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে আওয়ামী লীগ। সেদিন অন্যদের মতো ডিপজলও গিয়েছিলেন ধানমন্ডিতে ক্ষমতাসীন দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র কিনতে। সঙ্গে নিয়েছিলেন জায়েদ খান, মিশা সওদাগর, চিত্রনায়ক রুবেল, চিত্রনায়িকা রোজিনা, অঞ্জনা, দিলারা, নৃত্যশিল্পী মাসুম বাবুলসহ শিল্পীদের বড় একটি বহর।

কিন্তু সে সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে খালি হাতে ফিরে আসতে হয় ডিপজলকে। তার কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেনি আওয়ামী লীগ। সেই অভিমানেই অভিনেতা জীবনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে মনস্থির করেছেন- এমন গুঞ্জনই উঠেছে ঢালিউডপাড়ায়।

কিন্তু কেন সেদিন ডিপজলের কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেনি আওয়ামী লীগ? এ ব্যাপারে জানতে ডিপজলকে সে সময় বারবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়নি। পরে একটি বিশেষ সূত্র মারফত জানা যায়, আওয়ামী লীগের কোনো পর্যায়ের প্রাথমিক সদস্য নন ডিপজল। তাই শর্ত পূরণ না হওয়ায় তার কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি করেনি দলটি। তাছাড়া ডিপজল বিএনপি সমর্থিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর। তাই আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কেনার যোগ্যতা তার ছিল না।

এর আগে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ও ঢাকা-১৪ আসন থেকে নৌকার টিকিট চেয়েছিলেন ডিপজল। কিন্তু দল থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় আসলামুল হককে। সে সময়ও তার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। বিএনপির ব্যানারে তিনি কাউন্সিলরও নির্বাচিত হয়েছিলেন বলে গুঞ্জন উঠেছিল।

কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এ বিষয় অস্বীকার করেন ডিপজল। দাবি করেন, ‘আমি কোনো কালেই বিএনপি ছিলাম না। আমাকে বিএনপি বানিয়ে রাখা হয়েছিল। বিএনপির কোথাও আমার নাম নাই। আমার প্রথম দল আওয়ামী লীগ। এ দল থেকেই নির্বাচনে অংশ নিতে চাই।’ এছাড়া তিনি বিএনপি নয় বরং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন।