আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সিএনজিতে পাওয়া ব্যাগ নিয়ে যাত্রী ও চালকের মাঝে ঝগড়ার সময় পুলিশ তা উদ্ধার করেন। পরে ব্যাগটি প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।
ঘটনাটি গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ডেমরার সুলতানা কামাল সেতু পুলিশ চেকপোস্টে ঘটে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, কঠোর বিধিনিষেধে ডেমরার কোনোপাড়া থেকে লাকি আক্তার নামে এক যাত্রী সিএনজি অটোরিকশায় ব্রাক্ষ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলার বিষ্ণদী ফেরিঘাট যান। সিএনজি থেকে নামার সময় ভুলবশত তিনি তার হাতব্যাগটি গাড়িতে ফেলে যান।
সিএনজিচালক গাড়ি নিয়ে ঢাকায় ফেরার সময় পথে আরেক যাত্রীকে গাড়িতে উঠান। পরে এই যাত্রীকে ডেমরায় নামিয়ে দেওয়ার সময়- সিএনজি চালক দেখতে পান আগের যাত্রীর ফেলে যাওয়া ব্যাগ তার হাতে।
সিএনজি চালক ব্যাগটি আগের যাত্রীর এবং নিজে তা পৌঁছে দেবেন বলে জানালে এই যাত্রীরা চালককে ব্যাগটি দিতে অস্বীকার করে। ব্যাগ নিয়ে চলে চালক-যাত্রীর কাড়াকাড়ি, অদূরে ডিউটিরত ট্রাফিক সার্জেন্ট সবুজ ঘোষ বিষয়টি দেখতে পেয়ে এগিয়ে যান।
এ সময় দু’জন ব্যাগ এর বিষয়ে অসংলগ্ন কথা বললে সার্জেন্ট সবুজের সন্দেহ হয়। কিছু সময়ের মধ্যেই বুঝতে পারেন প্রকৃত ঘটনা। প্রকৃত মালিককে ফেরত দেওয়ার জন্য সার্জেন্ট সবুজ ব্যাগটি নিজের জিম্মায় নেন।
সে সময় ব্যাগে থাকা মোবাইল ফোনটি বেজে ওঠে। কল রিসিভ করেন সার্জেন্ট সবুজ।
অপরপ্রান্ত থেকে এক নারীকণ্ঠ জানান, এই ব্যাগটি তার। ভুলে সিএনজি ফেলে এসেছেন। এরপরও বিষয়টি নিশ্চিত হতে সার্জেন্ট সবুজ ওই নারীর কাছে জানতে চান ব্যাগে কি কি রয়েছে। সেই নারীর দেওয়া সব তথ্য সত্য হলে সার্জেন্ট সবুজ নিশ্চিত হন তিনিই ব্যাগের প্রকৃত মালিক।
এমন পরিস্থিতিতে ব্যাগ নিয়ে কাড়াকাড়ি করা যাত্রী ও সিএনজিচালককে মৃদু ভৎর্সনা করলে তার দ্রুত প্রস্থান করেন।
সার্জেন্ট সবুজ জানান, যাত্রী ও চালকের মাঝে ব্যাগ নিয়ে ঝগড়া দেখে আমার সন্দেহ হয়। পরে আমি ব্যাগটি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিককে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেই। ব্যাগে একটি দামি আইফোন, নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পাওয়া গেছে। ব্যাগের মালিক লাকি আক্তারের পক্ষে তার ছেলে আরাফাত সরকার ও তার ভাইয়ের মেয়ে খাদিজা আক্তার রিক্তা এসে ব্যাগটি সংগ্রহ করে নিয়ে গেছে।
লাকি আক্তারের পক্ষে তার ছেলে আরাফাত সরকার জানান, জরুরি কাজে মা সিএনজি অটোরিকশায় গ্রামের বাড়ি যান। ভুল করে সিএনজিতে হাতব্যাগটি ফেলে যান। পরে পুলিশ ব্যাগটি উদ্ধার করে আমাদেরকে ফেরত দেন। পুলিশ সার্জেন্টের কারণে ব্যাগ, মোবাইল, টাকা সব পেয়েছি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 

























