ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ত্রাণের স্লিপ চাওয়ায় চেয়ারম্যানের স্ত্রীর ধাক্কা, জখম শতবর্ষী বৃদ্ধা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ত্রাণের স্লিপ চাওয়ায় চেয়ারম্যানের স্ত্রীর গলা ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন প্রায় শতবর্ষী বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া (৯৫)।

সোমবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তিনি।

আহত বৃদ্ধা উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি মদনপুর গ্রামের মৃত ছপির উদ্দিনের স্ত্রী ও রিকশাচালক নুরুজ্জামানের মা।

জানা যায়, অতি দরিদ্র আলেমা বেওয়া রিকশাচালক ছেলে নুরুজ্জামানের সংসারে বসবাস করেন। সম্প্রতি করোনার লকডাউনে রিকশাচালক ছেলের আয় রোজগার কমে যাওয়ায় নিদারুন অর্থ কষ্টে পড়েন পরিবারটি। চারদিন আগে পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলী ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে বৃদ্ধা আলেমার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি গ্রহণ করেন। সেই ত্রাণ নিতে সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকেন চেয়ারম্যান। সকালে পান্তা ভাত খেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চলে যান। তখন চেয়ারম্যান তার বাড়িতে রাখা স্লিপ নিয়ে আসতে বললে বৃদ্ধা পরিষদের পাশে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। সেখানে দুপুর পর্যন্ত স্লিপের জন্য অপেক্ষা করেন ক্ষুধার্ত বৃদ্ধা। এরই মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষ করে চেয়ারম্যান বাড়িতে চলে আসলে স্লিপ দাবি করেন বৃদ্ধা। এ সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) ও মেয়ে সুহিন আক্তার (১৯) বৃদ্ধা আলেমাকে গলা ধাক্কা দিলে ক্ষুধার্ত বৃদ্ধা মেঝেতে পড়ে যান। এসময় তার দাঁত ভেঙে রক্ত ঝরতে থাকে এবং হাত, পা ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে সজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

বিপদ দেখে দ্রুত পল্লী চিকিৎসক নিয়ে নিজ বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন চেয়ারম্যান। মায়ের অসুস্থতার খবরে রিকশাচালক ছেলে নুরুজ্জামান স্থানীয়দের সহায়তায় বৃদ্ধা আলেমাকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধার ছেলে নুরুজ্জামান বাদী হয়ে চেয়ারম্যান শওকত আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করে চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও মেয়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হাসপাতালের বেডে কান্না জড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া বলেন, হামরা গরিব জন্য সরকারি তেরান নিবার গেছি। চেয়ারম্যানের কথা মত স্লিপ নিবার গেছি তার বাড়িত। সারাদিন বসি থাকি বিকেলে তেরান তো নাই, স্লিপটাও না দিয়া চলি যাবার কছে (বলছে)। বাড়ি থেকে বের হতে দেরি করায় বউ-বেটি গলা ধাক্কা দিয়া পাকার উপর ফেলে দিছে। তারপর কি হইছে মুই যানো (আমি জানি) না বাপু।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধের দায়ের করা অভিযোগটি বাদীর সঙ্গে আপসের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গত সপ্তাহে মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে সালিশ বৈঠকে স্ত্রী সন্তানের সামনে এক ব্যবসায়ীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে আদিতমারী থানায় চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন আহত ব্যবসায়ী। সেটিও রহস্যজনক ভাবে নথিভুক্ত হয়নি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ত্রাণের স্লিপ চাওয়ায় চেয়ারম্যানের স্ত্রীর ধাক্কা, জখম শতবর্ষী বৃদ্ধা

আপডেট সময় ০৯:৪৯:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ত্রাণের স্লিপ চাওয়ায় চেয়ারম্যানের স্ত্রীর গলা ধাক্কায় গুরুতর জখম হয়ে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন প্রায় শতবর্ষী বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া (৯৫)।

সোমবার (১৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন তিনি।

আহত বৃদ্ধা উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি মদনপুর গ্রামের মৃত ছপির উদ্দিনের স্ত্রী ও রিকশাচালক নুরুজ্জামানের মা।

জানা যায়, অতি দরিদ্র আলেমা বেওয়া রিকশাচালক ছেলে নুরুজ্জামানের সংসারে বসবাস করেন। সম্প্রতি করোনার লকডাউনে রিকশাচালক ছেলের আয় রোজগার কমে যাওয়ায় নিদারুন অর্থ কষ্টে পড়েন পরিবারটি। চারদিন আগে পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলী ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে বৃদ্ধা আলেমার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি গ্রহণ করেন। সেই ত্রাণ নিতে সোমবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে ডাকেন চেয়ারম্যান। সকালে পান্তা ভাত খেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চলে যান। তখন চেয়ারম্যান তার বাড়িতে রাখা স্লিপ নিয়ে আসতে বললে বৃদ্ধা পরিষদের পাশে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। সেখানে দুপুর পর্যন্ত স্লিপের জন্য অপেক্ষা করেন ক্ষুধার্ত বৃদ্ধা। এরই মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষ করে চেয়ারম্যান বাড়িতে চলে আসলে স্লিপ দাবি করেন বৃদ্ধা। এ সময় চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪৫) ও মেয়ে সুহিন আক্তার (১৯) বৃদ্ধা আলেমাকে গলা ধাক্কা দিলে ক্ষুধার্ত বৃদ্ধা মেঝেতে পড়ে যান। এসময় তার দাঁত ভেঙে রক্ত ঝরতে থাকে এবং হাত, পা ও বুকে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে সজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

বিপদ দেখে দ্রুত পল্লী চিকিৎসক নিয়ে নিজ বাড়িতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন চেয়ারম্যান। মায়ের অসুস্থতার খবরে রিকশাচালক ছেলে নুরুজ্জামান স্থানীয়দের সহায়তায় বৃদ্ধা আলেমাকে আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধার ছেলে নুরুজ্জামান বাদী হয়ে চেয়ারম্যান শওকত আলীকে প্রধান অভিযুক্ত করে চেয়ারম্যানের স্ত্রী ও মেয়ের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত পলাশী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শওকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

হাসপাতালের বেডে কান্না জড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধা আলেমা বেওয়া বলেন, হামরা গরিব জন্য সরকারি তেরান নিবার গেছি। চেয়ারম্যানের কথা মত স্লিপ নিবার গেছি তার বাড়িত। সারাদিন বসি থাকি বিকেলে তেরান তো নাই, স্লিপটাও না দিয়া চলি যাবার কছে (বলছে)। বাড়ি থেকে বের হতে দেরি করায় বউ-বেটি গলা ধাক্কা দিয়া পাকার উপর ফেলে দিছে। তারপর কি হইছে মুই যানো (আমি জানি) না বাপু।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধের দায়ের করা অভিযোগটি বাদীর সঙ্গে আপসের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গত সপ্তাহে মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে সালিশ বৈঠকে স্ত্রী সন্তানের সামনে এক ব্যবসায়ীকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে আদিতমারী থানায় চেয়ারম্যান শওকত আলীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেন আহত ব্যবসায়ী। সেটিও রহস্যজনক ভাবে নথিভুক্ত হয়নি।