ঢাকা ০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

করোনায় মৃত নারীর গোসল-দাফন করালেন ইউএনও

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পিরোজপুরের কাউখালীতে স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা কেউ এগিয়ে না আসায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া এক নারীর লাশের গোসল করিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করেছেন ইউএনও ও এক উন্নয়ন কর্মী। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার উজিয়ালখান গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে ওই নারীর লাশ দাফন করা হয়। মৃত রেখা আক্তার (৪৫) ওই গ্রামের সোলায়মান হোসেন এর স্ত্রী। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১০ দিন অসুস্থ ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউখালীর উজিয়ালখান গ্রামের এক নারী শুক্রবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। করোনার ভয়ে স্বজনরাও লাশ ফেলে রেখে গা ঢাকা দেন। অপরদিকে সংক্রমণের ভয়ে প্রতিবেশীরাও কেউ এগিয়ে আসছেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাশ পড়ে ছিল বাড়িতে। এমন সঙ্কটের খবর নাড়া দেয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও)। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লাশের গোসল করাতে উদ্যোগী হন ইউএনও খালেদা খাতুন রেখা।

আগে কখনো লাশ গোসলের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ইতোমধ্যে শিখে নিয়েছেন নিয়মরীতি। তারপর ওই নারীর লাশের গোসল করান। তাকে সহযোগিতা করেন স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন কর্মী মাহাফুজা মিলি এবং শামীমা আক্তার। লাশ গোসল করানোর আগে সুরক্ষাসামগ্রী (গাউন, হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক, ক্যাপ ও বুটজুতা) পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গোসল করানো হয় এবং কাফনের কাপড় পরানো হয়। রাত ১২টার দিকে কাউখালী উজিয়ালখান গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
কাউখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহম্মেদ সুমন বলেন, করোনায় মৃত নারীর দাফনের ব্যবস্থা করে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

কাউখালী নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা জানান, এটি মানুষ হিসেবে আমাদের মানবিক দায়িত্ব। তবে করোনায় কেউ মারা গেলে সংক্রমণের ভয় থাকা ভুল ধারণা। মানুষের সচেতন হওয়া উচিত। আমরা এক কঠিন দুঃসময় পার করছি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়ায় ২৬৫ বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ ২০ জন আটক

করোনায় মৃত নারীর গোসল-দাফন করালেন ইউএনও

আপডেট সময় ০৩:১৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জুলাই ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পিরোজপুরের কাউখালীতে স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশীরা কেউ এগিয়ে না আসায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া এক নারীর লাশের গোসল করিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করেছেন ইউএনও ও এক উন্নয়ন কর্মী। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার উজিয়ালখান গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে ওই নারীর লাশ দাফন করা হয়। মৃত রেখা আক্তার (৪৫) ওই গ্রামের সোলায়মান হোসেন এর স্ত্রী। তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১০ দিন অসুস্থ ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাউখালীর উজিয়ালখান গ্রামের এক নারী শুক্রবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। করোনার ভয়ে স্বজনরাও লাশ ফেলে রেখে গা ঢাকা দেন। অপরদিকে সংক্রমণের ভয়ে প্রতিবেশীরাও কেউ এগিয়ে আসছেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাশ পড়ে ছিল বাড়িতে। এমন সঙ্কটের খবর নাড়া দেয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও)। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে লাশের গোসল করাতে উদ্যোগী হন ইউএনও খালেদা খাতুন রেখা।

আগে কখনো লাশ গোসলের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ইতোমধ্যে শিখে নিয়েছেন নিয়মরীতি। তারপর ওই নারীর লাশের গোসল করান। তাকে সহযোগিতা করেন স্বেচ্ছাসেবী উন্নয়ন কর্মী মাহাফুজা মিলি এবং শামীমা আক্তার। লাশ গোসল করানোর আগে সুরক্ষাসামগ্রী (গাউন, হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক, ক্যাপ ও বুটজুতা) পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গোসল করানো হয় এবং কাফনের কাপড় পরানো হয়। রাত ১২টার দিকে কাউখালী উজিয়ালখান গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে জানাজা শেষে দাফন করা হয়।
কাউখালী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহম্মেদ সুমন বলেন, করোনায় মৃত নারীর দাফনের ব্যবস্থা করে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

কাউখালী নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা জানান, এটি মানুষ হিসেবে আমাদের মানবিক দায়িত্ব। তবে করোনায় কেউ মারা গেলে সংক্রমণের ভয় থাকা ভুল ধারণা। মানুষের সচেতন হওয়া উচিত। আমরা এক কঠিন দুঃসময় পার করছি।