ঢাকা ০৫:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের ‘ক্ষমতায় গেলে গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করবে বিএনপি’:রিজভী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ইসি আনোয়ারুল বিসমিল্লাহ সারা জীবন থাকবে, সব সময়ই থাকবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ইসি যোগ্যতার সঙ্গেই নির্বাচন পরিচালনা করতে সক্ষম হবে: মির্জা ফখরুল বাড্ডায় অটোরিকশা চালকদের সড়ক অবরোধে চরম ভোগান্তি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শামীম ওসমানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল জন্মহারে বড় ধস, অর্থনৈতিক সংকটের মুখে চীন স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ২১ আপিল শুনানিতে কোনো ধরনের পক্ষপাত করিনি : সিইসি

মিতুকে খুন করতে মুসাকে বাধ্য করেন এসপি বাবুল, দাবি স্ত্রীর

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামে মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার পাঁচ বছর পর চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। মিতুর স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আকতার মামলার বাদী থেকে মূল অভিযুক্তে পরিণত হয়েছে। স্ত্রীর হত্যার দায় নিয়ে তিনি এখন পুলিশি রিমান্ডে।

মিতুর পরিবার, আসামিদের জবানবন্দি ও তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাবুলের পরিকল্পনা ও ইচ্ছাতেই মিতু খুন হয়েছেন। তিনি মিতুকে খুন করাতে তিন লাখ টাকা ঢালেন। বিশ্বস্ত লোকজনকে দিয়ে পরিকল্পনামাফিক মিতুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেন বাবুল। কারণ মিতু তার পরকীয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার দাবি করেছেন, সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের নির্দেশে তার স্বামী এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পান্না আক্তারের ভাষ্য, ‘মিতু হত্যাকাণ্ডের পর আমার বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। তারপর আমি এ হত্যার বিষয়ে মুসার কাছে কয়েকবার জানতে চেয়েছিলাম। প্রথমে মুসা কিছু বলে নি। পরে এক সময় মুসা আমাকে জানায়, বাবুলের নির্দেশে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে বাধ্য হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার বিকালে মুসার স্ত্রী পান্না গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি মুসার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তোমরা কেন এমন একটি জঘন্য কাজ করলে? এখন আমার সন্তানদের কী হবে? আমার কী হবে? তখন মুসা জানিয়েছিল, বাবুল আক্তার তাকে শেল্টার দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাবুল আমার স্বামীকে চিন্তা না করতে বলেছেন। কিন্তু তারপর আমার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। সেখান থেকে আজ পাঁচ বছর আমি মুসার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমি মুসার খোঁজ চাই।’

বাবুল মুসাকে সব ধরনের সহযোগিতা করতেন বলেও দাবি করেন স্ত্রী পান্না। ‘মুসা রাজনীতি করত, বিএনপির সমর্থক ছিল। ২০১৩ সাল থেকে মুসা এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স ছিল বলে আমি জেনেছি। মিতুকে হত্যার পর মুসার ফোনেও বাবুল আক্তার কল দিয়েছিলেন। আমি ধরেছিলাম। তখন বাবুল আকতার জানতে চান, মুসা কোথায়? আমি বলেছিলাম, বাইরে গেছে। তখন বাবুল ফোনে আমাকে বলেছিলেন, মুসাকে সাবধানে থাকতে বলবা। তারপর থেকে আমার সন্দেহ আরও বাড়ে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু।

পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদরদফতরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন বাবুল। তবে পুলিশ তদন্তে তার সম্পৃক্ততার গুঞ্জন ছিল আগে থেকেই। মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন তার মামলায় অভিযোগ করেন, মিতু পরকীয়ায় বাধা হওয়ায় তাকে খুন করেন বাবুল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের

মিতুকে খুন করতে মুসাকে বাধ্য করেন এসপি বাবুল, দাবি স্ত্রীর

আপডেট সময় ১২:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ মে ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চট্টগ্রামে মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার পাঁচ বছর পর চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। মিতুর স্বামী সাবেক এসপি বাবুল আকতার মামলার বাদী থেকে মূল অভিযুক্তে পরিণত হয়েছে। স্ত্রীর হত্যার দায় নিয়ে তিনি এখন পুলিশি রিমান্ডে।

মিতুর পরিবার, আসামিদের জবানবন্দি ও তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাবুলের পরিকল্পনা ও ইচ্ছাতেই মিতু খুন হয়েছেন। তিনি মিতুকে খুন করাতে তিন লাখ টাকা ঢালেন। বিশ্বস্ত লোকজনকে দিয়ে পরিকল্পনামাফিক মিতুকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেন বাবুল। কারণ মিতু তার পরকীয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

মিতু হত্যা মামলার অন্যতম আসামি কামরুল ইসলাম সিকদার ওরফে মুসার স্ত্রী পান্না আক্তার দাবি করেছেন, সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের নির্দেশে তার স্বামী এই হত্যাকাণ্ডে যুক্ত হতে বাধ্য হয়েছিলেন।

পান্না আক্তারের ভাষ্য, ‘মিতু হত্যাকাণ্ডের পর আমার বাড়িতে পুলিশ এসেছিল। তারপর আমি এ হত্যার বিষয়ে মুসার কাছে কয়েকবার জানতে চেয়েছিলাম। প্রথমে মুসা কিছু বলে নি। পরে এক সময় মুসা আমাকে জানায়, বাবুলের নির্দেশে সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত হতে বাধ্য হয়েছে।’

বৃহস্পতিবার বিকালে মুসার স্ত্রী পান্না গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি মুসার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তোমরা কেন এমন একটি জঘন্য কাজ করলে? এখন আমার সন্তানদের কী হবে? আমার কী হবে? তখন মুসা জানিয়েছিল, বাবুল আক্তার তাকে শেল্টার দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বাবুল আমার স্বামীকে চিন্তা না করতে বলেছেন। কিন্তু তারপর আমার স্বামীকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেল। সেখান থেকে আজ পাঁচ বছর আমি মুসার কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। আমি মুসার খোঁজ চাই।’

বাবুল মুসাকে সব ধরনের সহযোগিতা করতেন বলেও দাবি করেন স্ত্রী পান্না। ‘মুসা রাজনীতি করত, বিএনপির সমর্থক ছিল। ২০১৩ সাল থেকে মুসা এসপি বাবুল আক্তারের সোর্স ছিল বলে আমি জেনেছি। মিতুকে হত্যার পর মুসার ফোনেও বাবুল আক্তার কল দিয়েছিলেন। আমি ধরেছিলাম। তখন বাবুল আকতার জানতে চান, মুসা কোথায়? আমি বলেছিলাম, বাইরে গেছে। তখন বাবুল ফোনে আমাকে বলেছিলেন, মুসাকে সাবধানে থাকতে বলবা। তারপর থেকে আমার সন্দেহ আরও বাড়ে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৫ জুন সকালে চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় সড়কে খুন হন পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু।

পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদরদফতরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল। এর আগে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে কর্মরত ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর নগরীর পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাত পরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন বাবুল। তবে পুলিশ তদন্তে তার সম্পৃক্ততার গুঞ্জন ছিল আগে থেকেই। মিতুর বাবা মোশারফ হোসেন তার মামলায় অভিযোগ করেন, মিতু পরকীয়ায় বাধা হওয়ায় তাকে খুন করেন বাবুল।