ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬, ৬ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এনসিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার ৬ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কাঁপল পাকিস্তান, একজনের মৃত্যু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে: জোনায়েদ সাকি অনিয়মের প্রমাণ থাকলে যেকোনো বিচার মেনে নিতে প্রস্তুত: আসিফ এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত অ্যাম্বুলেন্সে আগুন, প্রাণে রক্ষা পেলেন রোগীসহ চারজন ক্ষমতা হস্তান্তর ও গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রচেষ্টা অভিযোগ প্রেস সচিবের ‘ক্ষমতায় গেলে গণঅভ্যুত্থানে হতাহতদের পরিবারকে পুনর্বাসন করবে বিএনপি’:রিজভী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে : ইসি আনোয়ারুল বিসমিল্লাহ সারা জীবন থাকবে, সব সময়ই থাকবে: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

খেজুরগাছে নামাজ!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ৩০ ফুট উঁচু একটি খেজুরগাছের মাথায় উঠে নামাজ আদায় করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন এক যুবক। তার নাম আব্দুর রহিম (২৮)।

সোমবার বিকালে উপজেলার কুঠিপাড়া গ্রামে ওই যুবক নামাজ আদায় করেন। নামাজপড়া শেষে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গাছে উঁচিয়ে শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। রহিমের নামাজ আদায়ের সময় এলাকার শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখেন।

আব্দুর রহিম মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, আব্দুর রহিম নামাজ আদায় ছাড়াও উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে কিছু কথাও বলেন। এর পর শারীরিক কিছু কসরত দেখিয়ে গাছ থেকে নেমে পড়েন।

এলাকাবাসী বলেন, আব্দুর রহিম নিয়মিত নামাজ পড়েন। তিনি কবিরাজি বা ঝাড়ফুঁক করেন। রহিম খেজুরগাছের ওপর নামাজ পড়ে সেখানে শারীরিক কসরতও দেখান। খেজুরগাছসহ বিভিন্ন গাছে উঠে মাঝেমধ্যে উনি নামাজ পড়েন এবং গাছের ওপরেই খেলাধুলা দেখান। ছোট থেকে রহিম এসব করেন।

এদিকে নামাজ শেষে খেজুরগাছ থেকে নেমে আব্দুর রহিম বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেজুরসহ বিভিন্ন গাছে উঠে খেলাধুলা দেখাই। তবে তার আগে আমি আল্লাহকে সন্তুষ্ট রাখতে গাছের ওপরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করি। কিছু খেলাধুলাও করি। এসব দেখে মানুষ কিছু টাকাপয়সা দেন। তা দিয়ে সংসার চালাই।

তিনি আরও জানান, তার জন্ম বগুড়ায়। তবে রাজশাহীর মোহনপুরে এসে বিয়ে করে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানেই বসবাস করছেন।

এভাবে খেজুরগাছের ওপর উঠে নামাজ আদায়ের বিশেষ কোনো ফজিলত বা ধর্মীয় ফায়দা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে রাজশাহীর বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক ড. সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, এসব বিশেষ পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। খেজুরগাছে উঠে নামাজ আদায়ের কোনো দৃষ্টান্ত বা এর বিশেষ ফজিলতের কথা ইসলামের কোনো বিধিবিধানে নেই।

বেশি ফজিলতের জন্য ইসলামের বহু হাদিসে বিভিন্ন ইবাদতের কথা বলা আছে। সেগুলো সহি কায়দায় আমল করতে পারেন যে কেউ। আল্লাহপাক তাতে খুশি হবেন।

এদিকে শুধু আব্দুর রহিমই নয়, এর আগে ২০১৪ সালে ২ নভেম্বর রাজশাহীর বাগমারার আক্কেলপুর গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন মোজাম (৩৪) উঁচু খেজুরগাছে উঠে নামাজ পড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিলেন।

তিনি দুর্গাপুর মহিলা কলেজের পার্শ্ববর্তী একটি উঁচু খেজুরগাছে উঠে চার রাকাত নফল নামাজ পড়েন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খেজুরগাছে নামাজ!

আপডেট সময় ০৪:০১:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ মার্চ ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ৩০ ফুট উঁচু একটি খেজুরগাছের মাথায় উঠে নামাজ আদায় করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন এক যুবক। তার নাম আব্দুর রহিম (২৮)।

সোমবার বিকালে উপজেলার কুঠিপাড়া গ্রামে ওই যুবক নামাজ আদায় করেন। নামাজপড়া শেষে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা গাছে উঁচিয়ে শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন তিনি। রহিমের নামাজ আদায়ের সময় এলাকার শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে এ দৃশ্য দেখেন।

আব্দুর রহিম মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি গ্রামের বাসিন্দা।

জানা যায়, আব্দুর রহিম নামাজ আদায় ছাড়াও উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে কিছু কথাও বলেন। এর পর শারীরিক কিছু কসরত দেখিয়ে গাছ থেকে নেমে পড়েন।

এলাকাবাসী বলেন, আব্দুর রহিম নিয়মিত নামাজ পড়েন। তিনি কবিরাজি বা ঝাড়ফুঁক করেন। রহিম খেজুরগাছের ওপর নামাজ পড়ে সেখানে শারীরিক কসরতও দেখান। খেজুরগাছসহ বিভিন্ন গাছে উঠে মাঝেমধ্যে উনি নামাজ পড়েন এবং গাছের ওপরেই খেলাধুলা দেখান। ছোট থেকে রহিম এসব করেন।

এদিকে নামাজ শেষে খেজুরগাছ থেকে নেমে আব্দুর রহিম বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খেজুরসহ বিভিন্ন গাছে উঠে খেলাধুলা দেখাই। তবে তার আগে আমি আল্লাহকে সন্তুষ্ট রাখতে গাছের ওপরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করি। কিছু খেলাধুলাও করি। এসব দেখে মানুষ কিছু টাকাপয়সা দেন। তা দিয়ে সংসার চালাই।

তিনি আরও জানান, তার জন্ম বগুড়ায়। তবে রাজশাহীর মোহনপুরে এসে বিয়ে করে তিনি বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানেই বসবাস করছেন।

এভাবে খেজুরগাছের ওপর উঠে নামাজ আদায়ের বিশেষ কোনো ফজিলত বা ধর্মীয় ফায়দা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে রাজশাহীর বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক ড. সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, এসব বিশেষ পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। খেজুরগাছে উঠে নামাজ আদায়ের কোনো দৃষ্টান্ত বা এর বিশেষ ফজিলতের কথা ইসলামের কোনো বিধিবিধানে নেই।

বেশি ফজিলতের জন্য ইসলামের বহু হাদিসে বিভিন্ন ইবাদতের কথা বলা আছে। সেগুলো সহি কায়দায় আমল করতে পারেন যে কেউ। আল্লাহপাক তাতে খুশি হবেন।

এদিকে শুধু আব্দুর রহিমই নয়, এর আগে ২০১৪ সালে ২ নভেম্বর রাজশাহীর বাগমারার আক্কেলপুর গ্রামের মোজাম্মেল হোসেন মোজাম (৩৪) উঁচু খেজুরগাছে উঠে নামাজ পড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিলেন।

তিনি দুর্গাপুর মহিলা কলেজের পার্শ্ববর্তী একটি উঁচু খেজুরগাছে উঠে চার রাকাত নফল নামাজ পড়েন।