ঢাকা ০৬:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল দাবি আদায় না হলে সারারাত ইসি অবরুদ্ধ রাখবে ছাত্রদল নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একাত্তরে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নতুন করে সুরক্ষিত হয়েছে চব্বিশে: তারেক রহমান গুলশানে একটি ভাড়া বাসা থেকে তরুণীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার ওমরাহ পালনে ইচ্ছুকদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

‘বিদেশে উচ্চশিক্ষা কওমি শিক্ষার্থীদের অধিকার’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা প্রতিটি কওমি শিক্ষার্থীদের অধিকার। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার বৈধপথ ও পন্থা তৈরি করে দেওয়া সবার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় এমপি প্রফেসর আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফকিরাপুলের হোটেল রাহমানিয়া রুফটপ রেস্টুরেন্টে মুসলিম ইয়ুথ সার্কেলের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে কওমি শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা সমস্যার সমাধান’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মাদ্রাসা দারুর রাশাদের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ সালমানের সভাপতিত্বে ও মুসলিম ইউ সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহাম্মদ মনযূরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন- মাওলানা মহিউদ্দীন ফারুকী (সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষা), মো. ওমর ফারুক ইবরাহিমী (দারুল উলুম করাচি ও দরুল উলুম দেওবন্দে উচ্চশিক্ষা), মুহাম্মাদ হাস্সান আরিফ (বাইরাইনে উচ্চশিক্ষা) ড. রুহুল আমিন রব্বানি (মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা), মাওলানা কাওসার জামিল, মাওলানা জুবায়ের গনী, মাওলানা আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুসলিম ইয়ুথ সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুহাম্মদ বদরুজ্জামান। আয়োজকদের মধ্যে ব্যবস্থাপনার সার্বিক ছিলেন মুহাম্মদ এহসান সিরাজ, হাছিব আর রহমান, নাজমুল ইসলাম কাসিমী ও রোকন রাইয়ান।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বেফাকুল মাদারিসিলি আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ আলী, দাতব্য সংস্থা মারকাযুল ইসলামির চেয়ারম্যান মাওলানা হামজা ইসলাম, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ, আহছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীর দাওয়া বিভাগের মুশরিফ মাওলানা আবু নোমান আল-মাদানী, ইসলামিক ল রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, সাইফুরসের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর সাইফুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মুহাদ্দিস মুফতি ওয়ালিয়ুর রহমান খান, দ্বীনিয়াত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতী সালমান আহমদ প্রমুখ।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কওমী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের নিয়ে বিশেষ এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রায় দেড়শ কওমি শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি বলেন, কওমি মাদ্রাসার জন্য কওমি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার প্রয়োজন আছে। এটা নিয়েও আমি কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। কওমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কওমি ছাত্রদের যেতে আরও সহজ হবে। তবে কওমি বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়টি কিভাবে হতে পারে তা আমরা খুব দ্রুতই দেখবো। সে ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সম্মিলিত শিক্ষা সংস্থা আল হাইআতুল উলয়ার অধীনে অনুমোদন হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আবু রেজা নদভী বলেন, কওমি ছাত্রদের দেওবন্দ ও নদওয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আমি কাজ করবো। প্রয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সাথে আমরা সাক্ষাৎ করবো। এছাড়াও যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নেবো। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রতিটি সেক্টরে আমি এসব নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেবো।

আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর (রহ.) স্মৃতিচারণ করে এমপি নদভী বলেন, আল্লামা শাহ্ শফী বেঁচে থাকলে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় কওমি ছাত্রদের যাওয়ার বিষয়টি অনুমোদন হয়ে যেত। তবে আপনারা এ বিষয়টি চাইলে খুব দ্রুতই হয়ে যাবে।

সেমিনারে প্রধান আলোচক ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, আল হাইআতুল উলয়ার অধীনে যখন কওমি মাদ্রাসার সনদের মান দেয়া হয়েছে তখন আমি সেই কমিটির মধ্যে ছিলাম। আমি অবশ্যই আমার জায়গা থেকে সার্বিক চেষ্টা করবো যেন বিষয়টি একটি গোছালো প্রক্রিয়ার মধ্যে আসে। এছাড়াও তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে কওমি শিক্ষার্থীদের কী কী বাধা রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেফাকুল মাদারিসিলি আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু বলেন, আমরা চেষ্টা করবো যেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে কওমি ছাত্রদের সব প্রতিবন্ধতা দূর হয়। এক্ষেত্রে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং আল হাইয়াতুল উলিয়া জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ আলী বলেন, আমি আজকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে কওমী শিক্ষার্থীদের দরদ ও মনের ব্যথা দেখেছি। আমি মনে করি মনের দুঃখ-ব্যথা থাকলে যে কোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়।

সেমিনারে বিশেষ ৬টি দাবিসহ মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মুসলিম ইয়ুথ সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর। প্রবন্ধে সরকার, সংশ্লিষ্ট মহল এবং দেশবাসীর প্রতি ৬টি দাবি ও আহবান তুলে ধরা হয়।

৬ দফা আহবানগুলো হলো –

১. কওমি শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা সহজ ও নিষ্কণ্টক করতে সরকারিভাবে কওমি সনদকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হোক।
২. কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথিবীর সব দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিতে তাদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা সহজলভ্য এবং সব আইনি জটিলতা নিরসন করা হোক।
৩. ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, কাতার, বাহরাইন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের বিভিন্ন ইসলামিক ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ক্রেডিট ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া সহজ ও সহযোগিতামূলক করা হোক।
৪. একইভাবে এসব দেশের ইসলামিক ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আদান-প্রদানের (Student exchange) ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৫. বিভিন্ন দেশের ইসলামিক ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রদত্ত স্কলারশিপ (বৃত্তি) গ্রহণের সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
৬. সরকারিভাবে কওমি সনদের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিসিএস, পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ করে দেওয়া হোক।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৫০ বছর পর চাঁদের উদ্দেশে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু

‘বিদেশে উচ্চশিক্ষা কওমি শিক্ষার্থীদের অধিকার’

আপডেট সময় ১১:১১:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২১

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা প্রতিটি কওমি শিক্ষার্থীদের অধিকার। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার বৈধপথ ও পন্থা তৈরি করে দেওয়া সবার দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এর সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় এমপি প্রফেসর আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফকিরাপুলের হোটেল রাহমানিয়া রুফটপ রেস্টুরেন্টে মুসলিম ইয়ুথ সার্কেলের আয়োজনে ‘বাংলাদেশে কওমি শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা সমস্যার সমাধান’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মাদ্রাসা দারুর রাশাদের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ সালমানের সভাপতিত্বে ও মুসলিম ইউ সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহাম্মদ মনযূরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন- মাওলানা মহিউদ্দীন ফারুকী (সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষা), মো. ওমর ফারুক ইবরাহিমী (দারুল উলুম করাচি ও দরুল উলুম দেওবন্দে উচ্চশিক্ষা), মুহাম্মাদ হাস্সান আরিফ (বাইরাইনে উচ্চশিক্ষা) ড. রুহুল আমিন রব্বানি (মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা), মাওলানা কাওসার জামিল, মাওলানা জুবায়ের গনী, মাওলানা আবদুল কাইয়ুম প্রমুখ।

সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুসলিম ইয়ুথ সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুহাম্মদ বদরুজ্জামান। আয়োজকদের মধ্যে ব্যবস্থাপনার সার্বিক ছিলেন মুহাম্মদ এহসান সিরাজ, হাছিব আর রহমান, নাজমুল ইসলাম কাসিমী ও রোকন রাইয়ান।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বেফাকুল মাদারিসিলি আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু, জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ আলী, দাতব্য সংস্থা মারকাযুল ইসলামির চেয়ারম্যান মাওলানা হামজা ইসলাম, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ সৈয়দ রেজওয়ান আহমদ, আহছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজমের সহকারী অধ্যাপক শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী, জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীর দাওয়া বিভাগের মুশরিফ মাওলানা আবু নোমান আল-মাদানী, ইসলামিক ল রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ, সাইফুরসের প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর সাইফুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের মুহাদ্দিস মুফতি ওয়ালিয়ুর রহমান খান, দ্বীনিয়াত বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মুফতী সালমান আহমদ প্রমুখ।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কওমী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের নিয়ে বিশেষ এ সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রায় দেড়শ কওমি শিক্ষক-শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি বলেন, কওমি মাদ্রাসার জন্য কওমি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার প্রয়োজন আছে। এটা নিয়েও আমি কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। কওমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কওমি ছাত্রদের যেতে আরও সহজ হবে। তবে কওমি বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়টি কিভাবে হতে পারে তা আমরা খুব দ্রুতই দেখবো। সে ক্ষেত্রে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সম্মিলিত শিক্ষা সংস্থা আল হাইআতুল উলয়ার অধীনে অনুমোদন হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আবু রেজা নদভী বলেন, কওমি ছাত্রদের দেওবন্দ ও নদওয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আমি কাজ করবো। প্রয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সাথে আমরা সাক্ষাৎ করবো। এছাড়াও যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নেবো। বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ প্রতিটি সেক্টরে আমি এসব নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেবো।

আল্লামা শাহ্ আহমদ শফীর (রহ.) স্মৃতিচারণ করে এমপি নদভী বলেন, আল্লামা শাহ্ শফী বেঁচে থাকলে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় কওমি ছাত্রদের যাওয়ার বিষয়টি অনুমোদন হয়ে যেত। তবে আপনারা এ বিষয়টি চাইলে খুব দ্রুতই হয়ে যাবে।

সেমিনারে প্রধান আলোচক ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, আল হাইআতুল উলয়ার অধীনে যখন কওমি মাদ্রাসার সনদের মান দেয়া হয়েছে তখন আমি সেই কমিটির মধ্যে ছিলাম। আমি অবশ্যই আমার জায়গা থেকে সার্বিক চেষ্টা করবো যেন বিষয়টি একটি গোছালো প্রক্রিয়ার মধ্যে আসে। এছাড়াও তিনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে কওমি শিক্ষার্থীদের কী কী বাধা রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেফাকুল মাদারিসিলি আরাবিয়া বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মাওলানা মুসলেহ উদ্দীন রাজু বলেন, আমরা চেষ্টা করবো যেন বিদেশে উচ্চশিক্ষার বিষয়ে কওমি ছাত্রদের সব প্রতিবন্ধতা দূর হয়। এক্ষেত্রে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং আল হাইয়াতুল উলিয়া জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ আলী বলেন, আমি আজকে বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিয়ে কওমী শিক্ষার্থীদের দরদ ও মনের ব্যথা দেখেছি। আমি মনে করি মনের দুঃখ-ব্যথা থাকলে যে কোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান হয়।

সেমিনারে বিশেষ ৬টি দাবিসহ মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন মুসলিম ইয়ুথ সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মাওলানা সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর। প্রবন্ধে সরকার, সংশ্লিষ্ট মহল এবং দেশবাসীর প্রতি ৬টি দাবি ও আহবান তুলে ধরা হয়।

৬ দফা আহবানগুলো হলো –

১. কওমি শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা সহজ ও নিষ্কণ্টক করতে সরকারিভাবে কওমি সনদকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হোক।
২. কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথিবীর সব দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিতে তাদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা সহজলভ্য এবং সব আইনি জটিলতা নিরসন করা হোক।
৩. ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, কাতার, বাহরাইন, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন ভ্রাতৃপ্রতিম দেশের বিভিন্ন ইসলামিক ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ক্রেডিট ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া সহজ ও সহযোগিতামূলক করা হোক।
৪. একইভাবে এসব দেশের ইসলামিক ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আদান-প্রদানের (Student exchange) ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
৫. বিভিন্ন দেশের ইসলামিক ইনস্টিটিউট ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রদত্ত স্কলারশিপ (বৃত্তি) গ্রহণের সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
৬. সরকারিভাবে কওমি সনদের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিসিএস, পিএইচডি ও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ করে দেওয়া হোক।