ঢাকা ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জনতার কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখলেন আতিক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

‘জনতার মুখোমুখি নগরপিতা’ শিরোনামে নগরবাসীর সমস্যা শুনেছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। নগরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের সঙ্গে অবৈধভাবে স্থাপিত ‘গেট’ এর সমস্যা শুনে সেগুলো অপসারণ করার প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র।

মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন গেট অপসারণ করে সেই প্রতিশ্রুতি রাখলেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ডিএনসিসির অঞ্চল-৪ এর আওতাধীন অবৈধ গেট অপসারণে অভিযান শুরু করে করপোরেশন। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

অভিযানে মিরপুর-১০ নম্বর থেকে ১২ নম্বরগামী প্রধান সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে থাকা অবৈধ গেট অপসারণ করা হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মিরপুর ১১ নম্বর এবং সাড়ে এগারো নম্বর এলাকাসহ মোট পাঁচটি গেট ভেঙে ফেলা হয়। এসময় মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকায় সেতারা টাওয়ার সংলগ্ন গেট ভাঙতে গেলে এর প্রতিবাদ করতে আসেন দক্ষিণ পল্লবী বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা।

নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাই পরিচয় দেওয়া হারুন মোল্লাহ নামে এক জনৈক ব্যক্তি উক্ত গেট সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুমতিপত্র দেখতে চেয়ে চ্যালেঞ্জ করলে কোনো দলিল দেখাতে পারেননি সমিতির প্রতিনিধিরা।

গেট অপসারণ নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম সাকাপি বলেন, জনতার মুখোমুখি লাইভে এসে মেয়র মহোদয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। জনসাধারণের জন্য সিটি করপোরেশনের রাস্তা উন্মুক্ত থাকবে। তারই অংশ হিসেবে আজকের এই অভিযান। এখন পর্যন্ত পাঁচটি গেট উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের অভিযান বিকেল ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। অভিযান শেষে আমরা পূর্ণ আপডেট দিতে পারবো।

গেট উচ্ছেদের পর আবার গেট করার প্রসঙ্গে আকরাম বলেন, আবার এমন কেউ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, মামলা দায়ের করা হবে। আপনারা জানেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারা মতে, কোনো জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে থাকা এলাকায় কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, রাস্তার সামনে কোনো বাধা আছে বা পাবলিক নুইসেন্স রয়েছে তাহলে উনি লিখিত আদেশ দিয়ে এটা অপসারণ করতে পারেন। এটা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার।

এদিকে এসব গেট অপসারণে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ এলাকাবাসী। অর্ণব মাহমুদ নামে পল্লবী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এই গেট বন্ধ থাকে। যখন বাড়ি মালিক সমিতির কেউ যায় তখন খোলা হয়। আমরা যারা সাধারণ মানুষ এখানে থাকি বা এই এলাকার সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াত করি আমরা এই গেট ব্যবহার করতে পারি না। রিকশা বা গাড়ি নিয়ে চলে এলে সমিতির লোকজনদের ‘খুশি’ না করলে গেট খোলে না। এই গেট উচ্ছেদ করায় আমাদের উপকার হলো। সিটি করপোরেশনকে ধন্যবাদ, মেয়রকে ধন্যবাদ।

বিগত ১ ডিসেম্বর আয়োজিত ফেসবুক লাইভে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। এসময় স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শাওন সোলায়মান অত্র এলাকার অবৈধ গেট নিয়ে মেয়রকে প্রশ্ন করলে গেট অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জনতার কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখলেন আতিক

আপডেট সময় ০৪:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

‘জনতার মুখোমুখি নগরপিতা’ শিরোনামে নগরবাসীর সমস্যা শুনেছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। নগরের প্রধান সড়কসহ বিভিন্ন সড়কের সঙ্গে অবৈধভাবে স্থাপিত ‘গেট’ এর সমস্যা শুনে সেগুলো অপসারণ করার প্রতিশ্রুতি দেন মেয়র।

মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন গেট অপসারণ করে সেই প্রতিশ্রুতি রাখলেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ডিএনসিসির অঞ্চল-৪ এর আওতাধীন অবৈধ গেট অপসারণে অভিযান শুরু করে করপোরেশন। ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন।

অভিযানে মিরপুর-১০ নম্বর থেকে ১২ নম্বরগামী প্রধান সড়কের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে থাকা অবৈধ গেট অপসারণ করা হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মিরপুর ১১ নম্বর এবং সাড়ে এগারো নম্বর এলাকাসহ মোট পাঁচটি গেট ভেঙে ফেলা হয়। এসময় মিরপুর সাড়ে ১১ নম্বর এলাকায় সেতারা টাওয়ার সংলগ্ন গেট ভাঙতে গেলে এর প্রতিবাদ করতে আসেন দক্ষিণ পল্লবী বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির প্রতিনিধিরা।

নিজেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর ভাই পরিচয় দেওয়া হারুন মোল্লাহ নামে এক জনৈক ব্যক্তি উক্ত গেট সিটি করপোরেশনের অনুমতি নিয়ে স্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেন। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুমতিপত্র দেখতে চেয়ে চ্যালেঞ্জ করলে কোনো দলিল দেখাতে পারেননি সমিতির প্রতিনিধিরা।

গেট অপসারণ নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আকরাম সাকাপি বলেন, জনতার মুখোমুখি লাইভে এসে মেয়র মহোদয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না। জনসাধারণের জন্য সিটি করপোরেশনের রাস্তা উন্মুক্ত থাকবে। তারই অংশ হিসেবে আজকের এই অভিযান। এখন পর্যন্ত পাঁচটি গেট উচ্ছেদ করা হয়েছে। কয়েকটি জায়গায় আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। আমাদের অভিযান বিকেল ৪টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। অভিযান শেষে আমরা পূর্ণ আপডেট দিতে পারবো।

গেট উচ্ছেদের পর আবার গেট করার প্রসঙ্গে আকরাম বলেন, আবার এমন কেউ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে, মামলা দায়ের করা হবে। আপনারা জানেন ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারা মতে, কোনো জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনে থাকা এলাকায় কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করেন যে, রাস্তার সামনে কোনো বাধা আছে বা পাবলিক নুইসেন্স রয়েছে তাহলে উনি লিখিত আদেশ দিয়ে এটা অপসারণ করতে পারেন। এটা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার।

এদিকে এসব গেট অপসারণে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ এলাকাবাসী। অর্ণব মাহমুদ নামে পল্লবী এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, এই গেট বন্ধ থাকে। যখন বাড়ি মালিক সমিতির কেউ যায় তখন খোলা হয়। আমরা যারা সাধারণ মানুষ এখানে থাকি বা এই এলাকার সড়কগুলো দিয়ে যাতায়াত করি আমরা এই গেট ব্যবহার করতে পারি না। রিকশা বা গাড়ি নিয়ে চলে এলে সমিতির লোকজনদের ‘খুশি’ না করলে গেট খোলে না। এই গেট উচ্ছেদ করায় আমাদের উপকার হলো। সিটি করপোরেশনকে ধন্যবাদ, মেয়রকে ধন্যবাদ।

বিগত ১ ডিসেম্বর আয়োজিত ফেসবুক লাইভে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। এসময় স্টাফ করেসপন্ডেন্ট শাওন সোলায়মান অত্র এলাকার অবৈধ গেট নিয়ে মেয়রকে প্রশ্ন করলে গেট অপসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।