ঢাকা ০৬:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

ব্যবসা কাম রাজনীতি: রাজনীতিবিদ না ব্যবসায়ী?

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একটা সময় রাজনীতি ছিল সম্মানের পেশা। সমাজের ভালো মানুষজন রাজনীতিতে আসত কিংবা মানুষ ভালো কাউকে দেখে রাজনীতিতে নিয়ে আসত। যে কোন দেশেই আইন পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে একটা দাপট ছিল। তারা মানুষের অধিকার নিয়ে জোরালোভাবে কথা বলতে পারত। তা হোক গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন কিংবা বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা মহাত্মা গান্ধী এরাও আইনের বাইরের ছিলেন না। এমনটা হওয়ার মূল কারণই ছিল তখন রাজনীতিবিদদের বাগ্মী হতে হতো। সাধারণ মানুষের অধিকার, তাদের শোষণ-বঞ্চনা নিয়ে কথা বলতে হতো। কিন্তু এখন আর আগের সেই দিন নেই! অন্যসব ক্ষেত্রের মতো রাজনীতিতেও এখন যেন কলি কাল চলছে।

দেশের রাজনীতিতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই ব্যবসায়ী- এই রকমটাই উঠে আসছে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে। বিভিন্ন সময়ে শূন্য আসনে হওয়া উপ-নির্বাচনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে এমন চিত্র। ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন ব্যবসায়ীদের জয়জয়কার। সম্প্রতি মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও তার এক ভাষণে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ দেশের রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে। দেশের রাজনীতিতে পেশাজীবী রাজনীতিকের বড়ই আকাল। পেশাদার রাজনীতিক এখন দেখা যায় না বললেই চলে।

এই বিষয়ে বলতে গিয়ে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি তে ১৯৭৫ সালের পর থেকে ব্যবসায়ীদের আবির্ভাব হতে থাকে। অবশ্য এটাকে ঠিক আবির্ভাব বলে না। তখন তাদেরকে অনেকটা ডেকেই আনা হয়েছিলো। কিন্তু ধীরে ধীরে রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। আর এই হিসেবটাও অনেক সহজ। একেবারে সরল সমীকরণ। সবকিছুর মূলেই অর্থের হিসেব।

ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে আসা সম্পর্কে বলতে গিয়ে একজন প্রবীণ রাজনীতিক ভিন্ন দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, শুধু কি ব্যবসায়ীরাই রাজনীতিতে আসছে? রাজনীতিবিদরা কি ব্যবসায় নামছে না? সবকিছুই কেমন একটা মিশেল হয়ে গেছে। অনেকটা হাইব্রিডের মতো। অবশ্য এমনটা সময়ের প্রয়োজনেই হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রবীণ এই রাজনীতিক আরও বলেন, টাকার জন্য নির্বাচন করতে না পেরে অনেক ভালো ভালো নেতাই রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। আবার অনেককে দল থেকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি; অর্থের কারণে নির্বাচন করতে পারবে না বলে। তখন ওই টিকেটটা কোন না কোন ব্যবসায়িকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এখন তো রাজনীতি কে অনেকে বিনিয়োগ হিসেবেই মনে করছেন। কারণে সংসদেও তাদের পাল্লাটা ভারী। এখন রাজনীতিবিদ মানেই যেন কাম ব্যবসায়ী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় মা ও দুই শিশুসন্তানসহ নিহত ৫

ব্যবসা কাম রাজনীতি: রাজনীতিবিদ না ব্যবসায়ী?

আপডেট সময় ০৭:০৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একটা সময় রাজনীতি ছিল সম্মানের পেশা। সমাজের ভালো মানুষজন রাজনীতিতে আসত কিংবা মানুষ ভালো কাউকে দেখে রাজনীতিতে নিয়ে আসত। যে কোন দেশেই আইন পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে একটা দাপট ছিল। তারা মানুষের অধিকার নিয়ে জোরালোভাবে কথা বলতে পারত। তা হোক গণতন্ত্রের সংজ্ঞা দেওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন কিংবা বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নেলসন ম্যান্ডেলা কিংবা মহাত্মা গান্ধী এরাও আইনের বাইরের ছিলেন না। এমনটা হওয়ার মূল কারণই ছিল তখন রাজনীতিবিদদের বাগ্মী হতে হতো। সাধারণ মানুষের অধিকার, তাদের শোষণ-বঞ্চনা নিয়ে কথা বলতে হতো। কিন্তু এখন আর আগের সেই দিন নেই! অন্যসব ক্ষেত্রের মতো রাজনীতিতেও এখন যেন কলি কাল চলছে।

দেশের রাজনীতিতে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই ব্যবসায়ী- এই রকমটাই উঠে আসছে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে। বিভিন্ন সময়ে শূন্য আসনে হওয়া উপ-নির্বাচনগুলোতেও দেখা যাচ্ছে এমন চিত্র। ফলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন ব্যবসায়ীদের জয়জয়কার। সম্প্রতি মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও তার এক ভাষণে রাজনীতিতে ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এ দেশের রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের পকেটে চলে গেছে। দেশের রাজনীতিতে পেশাজীবী রাজনীতিকের বড়ই আকাল। পেশাদার রাজনীতিক এখন দেখা যায় না বললেই চলে।

এই বিষয়ে বলতে গিয়ে একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি তে ১৯৭৫ সালের পর থেকে ব্যবসায়ীদের আবির্ভাব হতে থাকে। অবশ্য এটাকে ঠিক আবির্ভাব বলে না। তখন তাদেরকে অনেকটা ডেকেই আনা হয়েছিলো। কিন্তু ধীরে ধীরে রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের দখলে। আর এই হিসেবটাও অনেক সহজ। একেবারে সরল সমীকরণ। সবকিছুর মূলেই অর্থের হিসেব।

ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে আসা সম্পর্কে বলতে গিয়ে একজন প্রবীণ রাজনীতিক ভিন্ন দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, শুধু কি ব্যবসায়ীরাই রাজনীতিতে আসছে? রাজনীতিবিদরা কি ব্যবসায় নামছে না? সবকিছুই কেমন একটা মিশেল হয়ে গেছে। অনেকটা হাইব্রিডের মতো। অবশ্য এমনটা সময়ের প্রয়োজনেই হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রবীণ এই রাজনীতিক আরও বলেন, টাকার জন্য নির্বাচন করতে না পেরে অনেক ভালো ভালো নেতাই রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। আবার অনেককে দল থেকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি; অর্থের কারণে নির্বাচন করতে পারবে না বলে। তখন ওই টিকেটটা কোন না কোন ব্যবসায়িকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এখন তো রাজনীতি কে অনেকে বিনিয়োগ হিসেবেই মনে করছেন। কারণে সংসদেও তাদের পাল্লাটা ভারী। এখন রাজনীতিবিদ মানেই যেন কাম ব্যবসায়ী।