ঢাকা ০৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান আন্তর্জাতিক আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাচ্ছেন তিন রোহিঙ্গা নির্বাচনে ৫ লাখ ৫৫ হাজার আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে গুলি ছুড়ে যুবককে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ ইরানি কর্তৃপক্ষকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের দাঁড়িপাল্লার পক্ষে না থাকলে মাহফিল শোনার দরকার নেই :জামায়াতের আমির মো. মিজানুর রহমান বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুনের ঘটনায় রেস্তোরাঁ কর্মী মিলন গ্রেপ্তার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইরানে বিরুদ্ধে ‘কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি জানাল শিক্ষা বোর্ড

৩ নভেম্বর: রহস্যে ঘেরা খালেদ মোশাররফ!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৩ নভেম্বর অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কারণ ৩ নভেম্বরের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে থাকে। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের শাসন ক্ষমতায় এক কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়। সূচনা হয় সামরিক শাসনের। আর ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ। কিন্তু তিনি ঠিক কি কারণে এমন সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ছিলেন- তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশায় দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে খালেদ মোশাররফের কালক্ষেপণ হওয়ার ঘটনাকে কেউ কেউ কাপুরুষতা মনে করেন। আবার অভ্যুত্থানের দিন কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকেও খালেদ মোশাররফের অদূরদর্শিতা হিসেবে দেখেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

মুক্তিযুদ্ধের সাহসী এই সেক্টর কমান্ডার সম্পর্কে একজন বলেন, মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের সাহসিকতা নিয়ে কারও কোন প্রশ্ন নেই। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সেক্টর কমান্ডার। কিন্তু এমন একটি ক্যু করার পর কি হতে পারে, এই সম্পর্কে তার কোন পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায় না। তিনি কি উদ্দেশ্যে এই ক্যু করেছিলেন, আবার কেনই বা ক্ষমতা গ্রহণ করতে এতো সময় নিলেন, তা সত্যিই বিস্ময়ের। এই ক্যু এর মাধ্যমে তিনি কি সেনাবাহিনীর প্রধান হতে চেয়েছিলেন, নাকি ১৫ আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন- তা স্পষ্ট নয়। অনেকেই মনে করেন, খালেদ মোশাররফের অবিবেচনা প্রসূত ওই ক্যু তার উদ্দেশ্যেকেই ধোঁয়াশায় ফেলে দিয়েছে। ফলে অনেকেই অনেক রকম প্রশ্ন তুলেন। কেউ বলেন, খালেদ মোশাররফের এমন দোদুল্যমান আচরণ অনেকটা রহস্য ঘেরা।

বলা হয়ে থাকে, ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানটি দুর্বল হয়ে পড়ে সেনাপ্রধান জিয়াকে গৃহ বন্দী করে খালেদ মোশাররফের সেনাপ্রধান হওয়ার তাড়নায়। মোশতাককে রাষ্ট্রপতি রেখেই তিনি সেনাপ্রধান হওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেন। মোশতাক পাকা খেলোয়াড় হওয়াতে তিনি খালেদকে সেনাপ্রধান নিয়োগ করতে কালক্ষেপণ করেন। সেইসাথে ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের শুরুর সময়ই চার জাতীয় নেতাকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁদের নিয়ে খালেদ মোশাররফের কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা ছিল না- এমনটা খুব সহজেই বুঝা যায়। কিন্তু সেইদিন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ কেন এই ক্যু করেছিলেন, তার উদ্দেশ্যেই বা কি ছিল- ইত্যাদি সকল প্রশ্নই যেন এক রহস্যে ঘেরা!

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমরা মা-বোনদের নিরাপত্তার ব্যাপারে অত্যন্ত এটেন্টিভ : ডা. শফিকুর রহমান

৩ নভেম্বর: রহস্যে ঘেরা খালেদ মোশাররফ!

আপডেট সময় ১১:৪৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৩ নভেম্বর অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। কারণ ৩ নভেম্বরের পর থেকে দেশের রাজনীতিতে নানা নাটকীয় ঘটনা ঘটতে থাকে। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের শাসন ক্ষমতায় এক কালো অধ্যায়ের সূচনা হয়। সূচনা হয় সামরিক শাসনের। আর ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ। কিন্তু তিনি ঠিক কি কারণে এমন সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে ছিলেন- তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশায় দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলে খালেদ মোশাররফের কালক্ষেপণ হওয়ার ঘটনাকে কেউ কেউ কাপুরুষতা মনে করেন। আবার অভ্যুত্থানের দিন কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকেও খালেদ মোশাররফের অদূরদর্শিতা হিসেবে দেখেন বিশ্লেষকদের অনেকে।

মুক্তিযুদ্ধের সাহসী এই সেক্টর কমান্ডার সম্পর্কে একজন বলেন, মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফের সাহসিকতা নিয়ে কারও কোন প্রশ্ন নেই। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, একজন সেক্টর কমান্ডার। কিন্তু এমন একটি ক্যু করার পর কি হতে পারে, এই সম্পর্কে তার কোন পরিকল্পনা ছিল বলে জানা যায় না। তিনি কি উদ্দেশ্যে এই ক্যু করেছিলেন, আবার কেনই বা ক্ষমতা গ্রহণ করতে এতো সময় নিলেন, তা সত্যিই বিস্ময়ের। এই ক্যু এর মাধ্যমে তিনি কি সেনাবাহিনীর প্রধান হতে চেয়েছিলেন, নাকি ১৫ আগস্টে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে চেয়েছিলেন- তা স্পষ্ট নয়। অনেকেই মনে করেন, খালেদ মোশাররফের অবিবেচনা প্রসূত ওই ক্যু তার উদ্দেশ্যেকেই ধোঁয়াশায় ফেলে দিয়েছে। ফলে অনেকেই অনেক রকম প্রশ্ন তুলেন। কেউ বলেন, খালেদ মোশাররফের এমন দোদুল্যমান আচরণ অনেকটা রহস্য ঘেরা।

বলা হয়ে থাকে, ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানটি দুর্বল হয়ে পড়ে সেনাপ্রধান জিয়াকে গৃহ বন্দী করে খালেদ মোশাররফের সেনাপ্রধান হওয়ার তাড়নায়। মোশতাককে রাষ্ট্রপতি রেখেই তিনি সেনাপ্রধান হওয়ার জন্য তৎপর হয়ে উঠেন। মোশতাক পাকা খেলোয়াড় হওয়াতে তিনি খালেদকে সেনাপ্রধান নিয়োগ করতে কালক্ষেপণ করেন। সেইসাথে ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের শুরুর সময়ই চার জাতীয় নেতাকে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তাঁদের নিয়ে খালেদ মোশাররফের কোনো রাজনৈতিক পরিকল্পনা ছিল না- এমনটা খুব সহজেই বুঝা যায়। কিন্তু সেইদিন মেজর জেনারেল খালেদ মোশাররফ কেন এই ক্যু করেছিলেন, তার উদ্দেশ্যেই বা কি ছিল- ইত্যাদি সকল প্রশ্নই যেন এক রহস্যে ঘেরা!