ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

‘প্রেম করায়’ কলেজছাত্রকে বেঁধে নির্যাতন, আটক ২

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘প্রবাসীর মেয়ের সঙ্গে প্রেম করায়’ হবিগঞ্জে এক কলেজছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় সোমবার বাহুবল মডেল থানায় ওই কলেজছাত্রের মা রাবিয়া খাতুন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে ওই কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রধান আসামি করে মেয়েসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে; অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ছয়জনকে। গ্রেপ্তাররা হলেন বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মামলার আসামি সালাউদ্দিন (৫২) ও মঈন উদ্দিন (৪০)।

নির্যাতনের শিকার ফয়সল মিয়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার হাসেরগাঁও গ্রামের আহসান উল্ল্যার ছেলে। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক (গণিত) চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও কোরআনে হাফেজ। ফয়সলকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, দ্বিমুড়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী এক ব্যক্তির মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল ফয়সল মিয়ার। শুক্রবার রাতে দেখা করার জন্য মেয়ের বাড়ি যান ফয়সল। এই সময় ফয়সলকে ধরে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে মেয়েটির স্বজনরা খুঁটিতে হাত-পা বেঁধে রাতভর নির্যাতন চালায়।

বাহুবল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর কবীর বলেন, শনিবার সকালে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ফয়সলকে উদ্ধার করে স্বজনের জিম্মায় দেয়। স্বজনরা তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে সিলেট সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে, রোববার এই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক ফয়সল মিয়াকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নির্যাতন করছে। ফয়সল বাঁচার জন্য আকুতি এবং বার বার আল্লাহ অল্লাহ বলে চিৎকার করছিল। কিন্তু এরপরও তারা নির্যাতন বন্ধ করেনি।

ফয়সলের বোন মোছা. হানিফা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ভাই পাগল হয়ে গেছে; তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। এখন সে কাউকে চিনতে পারছে না।”

পরিদর্শক আলমগীর আরও জানান, এই ঘটনায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

আগামী ১৫ বছরে চাকরির বড় সংকটের পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্টের

‘প্রেম করায়’ কলেজছাত্রকে বেঁধে নির্যাতন, আটক ২

আপডেট সময় ০৬:১১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘প্রবাসীর মেয়ের সঙ্গে প্রেম করায়’ হবিগঞ্জে এক কলেজছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় সোমবার বাহুবল মডেল থানায় ওই কলেজছাত্রের মা রাবিয়া খাতুন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার এজাহারে ওই কুয়েত প্রবাসীর স্ত্রীকে প্রধান আসামি করে মেয়েসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে; অজ্ঞাত আসামি করা হয় আরও ছয়জনকে। গ্রেপ্তাররা হলেন বাহুবল উপজেলার দ্বিমুড়া গ্রামের বাসিন্দা ও মামলার আসামি সালাউদ্দিন (৫২) ও মঈন উদ্দিন (৪০)।

নির্যাতনের শিকার ফয়সল মিয়া হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার হাসেরগাঁও গ্রামের আহসান উল্ল্যার ছেলে। তিনি হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক (গণিত) চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও কোরআনে হাফেজ। ফয়সলকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, দ্বিমুড়া গ্রামের কুয়েত প্রবাসী এক ব্যক্তির মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল ফয়সল মিয়ার। শুক্রবার রাতে দেখা করার জন্য মেয়ের বাড়ি যান ফয়সল। এই সময় ফয়সলকে ধরে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে মেয়েটির স্বজনরা খুঁটিতে হাত-পা বেঁধে রাতভর নির্যাতন চালায়।

বাহুবল মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আলমগীর কবীর বলেন, শনিবার সকালে বাহুবল মডেল থানা পুলিশ ফয়সলকে উদ্ধার করে স্বজনের জিম্মায় দেয়। স্বজনরা তাকে প্রথমে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতাল ও পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে সিলেট সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এদিকে, রোববার এই নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন লোক ফয়সল মিয়াকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নির্যাতন করছে। ফয়সল বাঁচার জন্য আকুতি এবং বার বার আল্লাহ অল্লাহ বলে চিৎকার করছিল। কিন্তু এরপরও তারা নির্যাতন বন্ধ করেনি।

ফয়সলের বোন মোছা. হানিফা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, “আমার ভাই পাগল হয়ে গেছে; তার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছে। এখন সে কাউকে চিনতে পারছে না।”

পরিদর্শক আলমগীর আরও জানান, এই ঘটনায় রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।