ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ অল্পতেই ধৈর্য হারালে দায়িত্ব কীভাবে পালন করবেন: ডা. শফিকুর রহমান ‘ব্রেন ড্রেন’ থেকে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন ধর্মান্তরিত হয়ে প্রবাসীকে বিয়ে, ছয় মাস পর তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু দেশের অর্থনীতি গভীর চাপে রয়েছে : নাহিদ ইসলাম শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মেধাবী প্রকৌশলীদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমাতে অনুকূল কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে: আইনমন্ত্রী আদ-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজনৈতিকভাবে দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে : জোনায়েদ সাকী নৌ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেফতার ১০

৭ মাসে দেশে ফিরেছেন সোয়া ২ লাখ প্রবাসী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

গত ৭ মাসে দেশে ফিরে এসেছেন ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৮২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। গত ১ এপ্রিল থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের ২৯টি দেশ থেকে এসব প্রবাসী বাংলাদেশিরা কর্মী দেশে ফিরেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাসস।

মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল আলম জানান, গত ১ এপ্রিল থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে যারা ফেরত এসেছে তাদের মধ্যে ২ লাখ ১৪৬ জন পুরুষ এবং ২৫ হাজার ৪৩৬ জন নারী রয়েছেন।

তিনি জানান, বিদেশ ফেরত কর্মীদের মধ্যে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৪ জন পাসপোর্টধারী বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে কাজ না থাকা, কাজের বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া, আকামা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবৈধ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে দেশে ফিরে এসেছেন। আবার বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউটপাস নিয়ে ৩৪ হাজার ৩৮৮ জন কর্মী দেশে ফেরত এসেছেন।

ফেরত আসা কর্মীদের অনেকে আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংশ্লিষ্ট দেশে ফিরে যেতে পারবেন।

দেশে ফেরা কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছেন সৌদি আরব থেকে। এই সময়ে সৌদি থেকে এসেছেন ৬০ হাজার ৯৬৯ জন প্রবাসী কর্মী। এর মধ্যে পুরুষ ৫০ হাজার ৪৬৬ জন, আর নারী কর্মী রয়েছেন ১০ হাজার ৪০৩ জন। সৌদি ফেরত কর্মীদের মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউটপাস নিয়ে এবং কাজ না থাকায় ছুটি নিয়ে দেশে ফিরেছেন।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরেছেন ৫৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ কর্মী ৫৫ হাজার ৮২ জন। আর নারী কর্মী ফিরেছেন ৪ হাজার ৮৩৮ জন।

বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউটপাস নিয়ে ওমান থেকে দেশে ফেরত আসেন ১৩ হাজার ৪৮৬ জন। করোনাভাইরাসের প্রেক্ষিতে কাজ না থাকায় টুরিস্ট নির্ভর দেশ মালদ্বীপ থেকে ফিরেছেন ১২ হাজার ১৫৯ জন প্রবাসী কর্মী। আকামা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় কুয়েত থেকে দেশে ফিরেছেন ১০ হাজার ৮৯৩ জন। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছেন ৪ হাজার ৬৪ জন। বাহরাইন থেকে ফিরেছেন ১ হাজার ৪১১ জন।

কাজ না থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে এসেছেন ৭১ জন প্রবাসী। কাতার থেকে ফিরেছেন ২৩ হাজার ১১৮ জন। মালয়েশিয়া থেকে ফিরেছেন ১০ হাজার ৮২১ জন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফিরেছেন ১৩৬ জন। কাজ না থাকায় থাইল্যান্ড থেকে ফিরেছেন ৮৯ জন, মিয়ানমার থেকে ৩৯ জন, জর্ডান থেকে ২ হাজার ২০৪ জন এবং ইরাক থেকে ফিরেছেন ৮ হাজার ৮৯২ জন। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভিয়েতনাম থেকে ফিরেছেন ১২১ জন এবং শ্রীলংকা থেকে ৫৪৮ জন।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ইতালি থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১৫১ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে। এই ১৫১ জন প্রবাসী গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ থেকে ইতালি গেলে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। পরে দেশে ফিরলে সবাইকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল।

এছাড়া লেবানন থেকে ৬ হাজার ৬৯৯ জন, রাশিয়া থেকে ১০০ জন, মরিশাস থেকে ৪৫২ জন, তুরস্ক থেকে ৮ হাজার ৫৫৮ জন, নেপাল থেকে ৫৫ জন, হংকং থেকে ১৬ জন, কম্বোডিয়া থেকে ১০৬ জন, জাপান থেকে ৮ জন, লন্ডন থেকে ৫৩ জন, লিবিয়া থেকে ৩১৫ জন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে ১২৮ জন প্রবাসীকর্মী দেশে ফেরত এসেছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসাবান্ধব: বিজিএমইএ

৭ মাসে দেশে ফিরেছেন সোয়া ২ লাখ প্রবাসী

আপডেট সময় ০৪:৪৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

গত ৭ মাসে দেশে ফিরে এসেছেন ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৮২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি। গত ১ এপ্রিল থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের ২৯টি দেশ থেকে এসব প্রবাসী বাংলাদেশিরা কর্মী দেশে ফিরেন।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাসস।

মন্ত্রণালয়ের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল আলম জানান, গত ১ এপ্রিল থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে যারা ফেরত এসেছে তাদের মধ্যে ২ লাখ ১৪৬ জন পুরুষ এবং ২৫ হাজার ৪৩৬ জন নারী রয়েছেন।

তিনি জানান, বিদেশ ফেরত কর্মীদের মধ্যে ১ লাখ ৯১ হাজার ১৯৪ জন পাসপোর্টধারী বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারণে কাজ না থাকা, কাজের বা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া, আকামা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় অবৈধ হয়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে দেশে ফিরে এসেছেন। আবার বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউটপাস নিয়ে ৩৪ হাজার ৩৮৮ জন কর্মী দেশে ফেরত এসেছেন।

ফেরত আসা কর্মীদের অনেকে আবার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সংশ্লিষ্ট দেশে ফিরে যেতে পারবেন।

দেশে ফেরা কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছেন সৌদি আরব থেকে। এই সময়ে সৌদি থেকে এসেছেন ৬০ হাজার ৯৬৯ জন প্রবাসী কর্মী। এর মধ্যে পুরুষ ৫০ হাজার ৪৬৬ জন, আর নারী কর্মী রয়েছেন ১০ হাজার ৪০৩ জন। সৌদি ফেরত কর্মীদের মধ্যে বেশিরভাগই বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউটপাস নিয়ে এবং কাজ না থাকায় ছুটি নিয়ে দেশে ফিরেছেন।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরেছেন ৫৯ হাজার ৯২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ কর্মী ৫৫ হাজার ৮২ জন। আর নারী কর্মী ফিরেছেন ৪ হাজার ৮৩৮ জন।

বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে আউটপাস নিয়ে ওমান থেকে দেশে ফেরত আসেন ১৩ হাজার ৪৮৬ জন। করোনাভাইরাসের প্রেক্ষিতে কাজ না থাকায় টুরিস্ট নির্ভর দেশ মালদ্বীপ থেকে ফিরেছেন ১২ হাজার ১৫৯ জন প্রবাসী কর্মী। আকামা বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ায় কুয়েত থেকে দেশে ফিরেছেন ১০ হাজার ৮৯৩ জন। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় সিঙ্গাপুর থেকে ফিরেছেন ৪ হাজার ৬৪ জন। বাহরাইন থেকে ফিরেছেন ১ হাজার ৪১১ জন।

কাজ না থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরে এসেছেন ৭১ জন প্রবাসী। কাতার থেকে ফিরেছেন ২৩ হাজার ১১৮ জন। মালয়েশিয়া থেকে ফিরেছেন ১০ হাজার ৮২১ জন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ফিরেছেন ১৩৬ জন। কাজ না থাকায় থাইল্যান্ড থেকে ফিরেছেন ৮৯ জন, মিয়ানমার থেকে ৩৯ জন, জর্ডান থেকে ২ হাজার ২০৪ জন এবং ইরাক থেকে ফিরেছেন ৮ হাজার ৮৯২ জন। কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভিয়েতনাম থেকে ফিরেছেন ১২১ জন এবং শ্রীলংকা থেকে ৫৪৮ জন।

অন্যদিকে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ইতালি থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১৫১ জন প্রবাসী বাংলাদেশিকে। এই ১৫১ জন প্রবাসী গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ থেকে ইতালি গেলে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। পরে দেশে ফিরলে সবাইকে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল।

এছাড়া লেবানন থেকে ৬ হাজার ৬৯৯ জন, রাশিয়া থেকে ১০০ জন, মরিশাস থেকে ৪৫২ জন, তুরস্ক থেকে ৮ হাজার ৫৫৮ জন, নেপাল থেকে ৫৫ জন, হংকং থেকে ১৬ জন, কম্বোডিয়া থেকে ১০৬ জন, জাপান থেকে ৮ জন, লন্ডন থেকে ৫৩ জন, লিবিয়া থেকে ৩১৫ জন এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে ১২৮ জন প্রবাসীকর্মী দেশে ফেরত এসেছেন।