ঢাকা ১০:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন দেশ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজ করব : মির্জা আব্বাস ইমান এনে কোনো লাভ নেই, এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভোট চাচ্ছে: মির্জা ফখরুল বাড়িভাড়া কত বাড়ানো যাবে, কতদিন পর–নির্ধারণ করে দিল ঢাকা উত্তর সিটি

আওয়ামী লীগে মাইম্যান: কাঠগড়ায় কেন্দ্রীয় নেতারা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলা এবং কেন্দ্রিয় উপ-কমিটির জট এখনো খুলেনি। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রস্তাবিত কমিটির যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেই কমিটির তালিকা গুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য প্রতি বিভাগের জন্য একটি করে কমিটি করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কার্য-নির্বাহী সভায় স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এই কমিটিতে মাইম্যান রাখা যাবে না। পছন্দের লোকজনদের দিয়ে পকেট কমিটি বানানো যাবে না’।

আওয়ামী লীগ সভাপতি এই নির্দেশনা দিয়েছেন যে, কোন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বা অনুপ্রবেশকারীকে জেলা কমিটিতে রাখা যাবে না। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্দেশনার পর, বিভিন্ন জেলা থেকে কমিটির জন্য যে প্রস্তাবিত নাম গুলো এসেছিল, সেই কমিটি গুলো যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের নেতৃত্বে এই কমিটি গুলো যাচাই-বাছাই করতে ৮টি কমিটি করে দিয়েছেন। এই কমিটি গুলো এখন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে।

কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জেলা কমিটিতে মাইম্যান নেওয়ায় অভিযুক্ত শুধু জেলার নেতৃবৃন্দই নন; বরং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও তাদের নিজেরদের পছন্দের ও অনুগত লোকজনদের কমিটিতে রাখার চেষ্টা করছে।

আর এর প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ বলছেন, শিয়ালের কাছে মুরগি রাখা হয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নেতারাই সবচেয়ে বেশি মাইম্যান সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের জেলা কমিটি গুলো সাধারণত গঠিত হয় সম্মেলনের মাধ্যমে। সম্মেলন স্থলেই সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা যেন আলাপ-আলোচনা করে পুর্নাঙ্গ কমিটি তৈরি করেন।

অভিযোগ উঠেছে যে, জেলা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা কিংবা জেলার এমপি, মন্ত্রীরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করান। ফলে যারা তৃণমূলের পরীক্ষিত ত্যাগী তারা অনেক সময় বাদ পরে এবং অনুপ্রবেশকারীরা, যারা অনুগত হিসেবে কাজ করতে পছন্দ করেন তারা জেলা কমিটিতে ঢুকে যায়। এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষোভ জানিয়েছেন।

আর এর প্রেক্ষিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, এবার দলে ত্যাগী পরীক্ষিতদের জায়গা করে দেওয়া হবে। নিজস্ব লোকজনদের দিয়ে কমিটি বানানো বন্ধ করা হবে। কিন্তু অনুসন্ধান করে দেখা গেছে যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই মাইম্যান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা পালন করছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন জেলায় পছন্দের ব্যক্তিদের কমিটিতে ঢুকানো এবং তাদের অনুগত একটি জেলা কমিটি তৈরি করার প্রবণতা রয়েছে। এই প্রবণতা আজকের না। দীর্ঘদিন ধরেই দেখা গেছে যে, হেভিওয়েট নেতারা বিভিন্ন জেলায় তাদের আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে গেছেন। এই আধিপত্য নিশ্চিত করতে গিয়েই তারা জেলা কমিটিতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেননি। বরং, জেলা কমিটি যাতে তাদের পক্ষে অনুগত থাকে; তার অনুগত ব্যক্তিরা যাতে জেলা কমিটিতে কর্তৃত্ব পায় সেই চেষ্টা করেছেন।

এখন যখন জেলা কমিটি গুলো যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব যখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপর দেওয়া হচ্ছে, এখানেও একই অভিযোগ উঠছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, জেলা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিচ্ছেন, যোগ্যদের নয়। শুধু জেলা কমিটি নয়, আওয়ামী লীগের যে বিভিন্ন সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন করা হবে সে সাংগঠনিক উপ-কমিটিতে দেখা গেছে যে, প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের বদলে অনুগত এবং নিজস্ব লোকজনকে কমিটিতে রাখার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, আওয়ামী লীগে মাইম্যান বন্ধ করতে হলে শেখ হাসিনার নীতি এবং কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নির্মোহ রাখতে হবে এবং নিজস্ব লোকজনকে কমিটিতে ঢুকানোর যে অভিপ্রায়, সে অভিপ্রায় বন্ধ করতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগের মূল শক্তি হল শেখ হাসিনা। কাজেই শেখ হাসিনার অনুগত ব্যক্তিরা যারা সত্যিকারের ত্যাগী পরীক্ষিত, যারা দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন তাদেরকে যদি কমিটিতে রাখা না হয়; তাহলে অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি কখনো কার্যকর হবে না। যার প্রমাণ গত কিছু কমিটি, যে কমিটিগুলো কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং এই কমিটির কারও কারও বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং অভিযোগ উঠেছে। কাজেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা যদি নির্মোহভাবে কাজ না করে তাহলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে মাইম্যানের বন্ধ হবে না, বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগে মাইম্যান: কাঠগড়ায় কেন্দ্রীয় নেতারা

আপডেট সময় ০৮:১৬:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলা এবং কেন্দ্রিয় উপ-কমিটির জট এখনো খুলেনি। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রস্তাবিত কমিটির যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেই কমিটির তালিকা গুলো যাচাই-বাছাই করার জন্য প্রতি বিভাগের জন্য একটি করে কমিটি করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের কার্য-নির্বাহী সভায় স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘এই কমিটিতে মাইম্যান রাখা যাবে না। পছন্দের লোকজনদের দিয়ে পকেট কমিটি বানানো যাবে না’।

আওয়ামী লীগ সভাপতি এই নির্দেশনা দিয়েছেন যে, কোন বিতর্কিত ব্যক্তিকে বা অনুপ্রবেশকারীকে জেলা কমিটিতে রাখা যাবে না। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্দেশনার পর, বিভিন্ন জেলা থেকে কমিটির জন্য যে প্রস্তাবিত নাম গুলো এসেছিল, সেই কমিটি গুলো যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি একজন প্রেসিডিয়াম সদস্যের নেতৃত্বে এই কমিটি গুলো যাচাই-বাছাই করতে ৮টি কমিটি করে দিয়েছেন। এই কমিটি গুলো এখন যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে।

কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, জেলা কমিটিতে মাইম্যান নেওয়ায় অভিযুক্ত শুধু জেলার নেতৃবৃন্দই নন; বরং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও তাদের নিজেরদের পছন্দের ও অনুগত লোকজনদের কমিটিতে রাখার চেষ্টা করছে।

আর এর প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতৃবৃন্দ বলছেন, শিয়ালের কাছে মুরগি রাখা হয়েছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নেতারাই সবচেয়ে বেশি মাইম্যান সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের জেলা কমিটি গুলো সাধারণত গঠিত হয় সম্মেলনের মাধ্যমে। সম্মেলন স্থলেই সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এরপর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারা যেন আলাপ-আলোচনা করে পুর্নাঙ্গ কমিটি তৈরি করেন।

অভিযোগ উঠেছে যে, জেলা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা কিংবা জেলার এমপি, মন্ত্রীরা তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করান। ফলে যারা তৃণমূলের পরীক্ষিত ত্যাগী তারা অনেক সময় বাদ পরে এবং অনুপ্রবেশকারীরা, যারা অনুগত হিসেবে কাজ করতে পছন্দ করেন তারা জেলা কমিটিতে ঢুকে যায়। এই বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করেছেন এবং ক্ষোভ জানিয়েছেন।

আর এর প্রেক্ষিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে, এবার দলে ত্যাগী পরীক্ষিতদের জায়গা করে দেওয়া হবে। নিজস্ব লোকজনদের দিয়ে কমিটি বানানো বন্ধ করা হবে। কিন্তু অনুসন্ধান করে দেখা গেছে যে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারাই মাইম্যান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা পালন করছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের বিভিন্ন জেলায় পছন্দের ব্যক্তিদের কমিটিতে ঢুকানো এবং তাদের অনুগত একটি জেলা কমিটি তৈরি করার প্রবণতা রয়েছে। এই প্রবণতা আজকের না। দীর্ঘদিন ধরেই দেখা গেছে যে, হেভিওয়েট নেতারা বিভিন্ন জেলায় তাদের আধিপত্য বিস্তার করার চেষ্টা করে গেছেন। এই আধিপত্য নিশ্চিত করতে গিয়েই তারা জেলা কমিটিতে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করেননি। বরং, জেলা কমিটি যাতে তাদের পক্ষে অনুগত থাকে; তার অনুগত ব্যক্তিরা যাতে জেলা কমিটিতে কর্তৃত্ব পায় সেই চেষ্টা করেছেন।

এখন যখন জেলা কমিটি গুলো যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব যখন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপর দেওয়া হচ্ছে, এখানেও একই অভিযোগ উঠছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে, জেলা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের প্রাধান্য দিচ্ছেন, যোগ্যদের নয়। শুধু জেলা কমিটি নয়, আওয়ামী লীগের যে বিভিন্ন সাংগঠনিক উপ-কমিটি গঠন করা হবে সে সাংগঠনিক উপ-কমিটিতে দেখা গেছে যে, প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের বদলে অনুগত এবং নিজস্ব লোকজনকে কমিটিতে রাখার প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের একাধিক তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ মনে করেন যে, আওয়ামী লীগে মাইম্যান বন্ধ করতে হলে শেখ হাসিনার নীতি এবং কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে নির্মোহ রাখতে হবে এবং নিজস্ব লোকজনকে কমিটিতে ঢুকানোর যে অভিপ্রায়, সে অভিপ্রায় বন্ধ করতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগের মূল শক্তি হল শেখ হাসিনা। কাজেই শেখ হাসিনার অনুগত ব্যক্তিরা যারা সত্যিকারের ত্যাগী পরীক্ষিত, যারা দুঃসময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন তাদেরকে যদি কমিটিতে রাখা না হয়; তাহলে অনুগত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি কখনো কার্যকর হবে না। যার প্রমাণ গত কিছু কমিটি, যে কমিটিগুলো কোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং এই কমিটির কারও কারও বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম এবং অভিযোগ উঠেছে। কাজেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা যদি নির্মোহভাবে কাজ না করে তাহলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিতে মাইম্যানের বন্ধ হবে না, বলেই মনে করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।