ঢাকা ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ধর্ষণের পর ১২ বছরের ছাত্রীকে নিয়ে উধাও মাদ্রাসাশিক্ষক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুমিল্লার চান্দিনায় ১২ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. ইউসুফ সোহাগ (৪০)। এক মাস ধরে ধর্ষণের পর মঙ্গলবার মাদ্রাসার শিশুছাত্রীকে নিয়ে উধাও হয়ে যায় ওই শিক্ষক। পরে ধর্ষণের অভিযোগে বুধবার দুপুরে তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।

মাওলানা মো. ইউসুফ দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি চান্দিনার কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জামে মসজিদের ইমাম। তিনি একটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মোহতামিম।

মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা বলেন, ২০১৯ সালে ওই মাদ্রাসায় আমার মেয়েকে ভর্তি করি। মঙ্গলবার জানতে পারি ওই শিক্ষক আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে আমি বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মানবাধিকার কর্মী ও কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকারকে বিষয়টি জানাই। তিনি মঙ্গলবার রাতেই ওই শিক্ষকসহ আমার মেয়েকে উদ্ধার করেন।

ওই মাদ্রাসাছাত্রী জানায়, মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় এক মাস আগে ইউসুফ হুজুর জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণ করে। আমি বিষয়টি আমার অভিভাবককে জানাতে চাইলে আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে তিনি সুযোগ পেলেই আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করতেন। মঙ্গলবার আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে জোর করে ঢাকায় নিয়ে যান।

কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকার জানান, ওই শিক্ষক এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছেন। এখনও তার দুটি স্ত্রী বর্তমান রয়েছে। কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে শিশুছাত্রীদের বিভিন্নভাবে জিম্মি করে ধর্ষণের আরও বহু অভিযোগ রয়েছে। মেয়েটির বাড়ি আমার নিজ গ্রামে। মেয়েটির বাবা মঙ্গলবার আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসিকে জানিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, শিশু মেয়েটি ও মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়ি দেবিদ্বার থানা এলাকা হলেও ঘটনাস্থলটি চান্দিনা থানা এলাকায়। এ বিষয়ে চান্দিনা থানা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

চান্দিনা থানার ওসি শামসউদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখনই জানতে পেরে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকসহ মেয়েটিকে থানায় এনেছি। বিস্তারিত জেনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ধর্ষণের পর ১২ বছরের ছাত্রীকে নিয়ে উধাও মাদ্রাসাশিক্ষক

আপডেট সময় ০৭:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুমিল্লার চান্দিনায় ১২ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. ইউসুফ সোহাগ (৪০)। এক মাস ধরে ধর্ষণের পর মঙ্গলবার মাদ্রাসার শিশুছাত্রীকে নিয়ে উধাও হয়ে যায় ওই শিক্ষক। পরে ধর্ষণের অভিযোগে বুধবার দুপুরে তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।

মাওলানা মো. ইউসুফ দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি চান্দিনার কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জামে মসজিদের ইমাম। তিনি একটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মোহতামিম।

মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা বলেন, ২০১৯ সালে ওই মাদ্রাসায় আমার মেয়েকে ভর্তি করি। মঙ্গলবার জানতে পারি ওই শিক্ষক আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে আমি বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মানবাধিকার কর্মী ও কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকারকে বিষয়টি জানাই। তিনি মঙ্গলবার রাতেই ওই শিক্ষকসহ আমার মেয়েকে উদ্ধার করেন।

ওই মাদ্রাসাছাত্রী জানায়, মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় এক মাস আগে ইউসুফ হুজুর জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণ করে। আমি বিষয়টি আমার অভিভাবককে জানাতে চাইলে আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে তিনি সুযোগ পেলেই আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করতেন। মঙ্গলবার আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে জোর করে ঢাকায় নিয়ে যান।

কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকার জানান, ওই শিক্ষক এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছেন। এখনও তার দুটি স্ত্রী বর্তমান রয়েছে। কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে শিশুছাত্রীদের বিভিন্নভাবে জিম্মি করে ধর্ষণের আরও বহু অভিযোগ রয়েছে। মেয়েটির বাড়ি আমার নিজ গ্রামে। মেয়েটির বাবা মঙ্গলবার আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসিকে জানিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, শিশু মেয়েটি ও মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়ি দেবিদ্বার থানা এলাকা হলেও ঘটনাস্থলটি চান্দিনা থানা এলাকায়। এ বিষয়ে চান্দিনা থানা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

চান্দিনা থানার ওসি শামসউদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখনই জানতে পেরে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকসহ মেয়েটিকে থানায় এনেছি। বিস্তারিত জেনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।