ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি আরো বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে, নির্বাচনী অঙ্গনে অনেক দুর্বৃত্ত ঢুকে গেছে: ড. বদিউল আলম ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

ধর্ষণের পর ১২ বছরের ছাত্রীকে নিয়ে উধাও মাদ্রাসাশিক্ষক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুমিল্লার চান্দিনায় ১২ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. ইউসুফ সোহাগ (৪০)। এক মাস ধরে ধর্ষণের পর মঙ্গলবার মাদ্রাসার শিশুছাত্রীকে নিয়ে উধাও হয়ে যায় ওই শিক্ষক। পরে ধর্ষণের অভিযোগে বুধবার দুপুরে তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।

মাওলানা মো. ইউসুফ দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি চান্দিনার কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জামে মসজিদের ইমাম। তিনি একটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মোহতামিম।

মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা বলেন, ২০১৯ সালে ওই মাদ্রাসায় আমার মেয়েকে ভর্তি করি। মঙ্গলবার জানতে পারি ওই শিক্ষক আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে আমি বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মানবাধিকার কর্মী ও কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকারকে বিষয়টি জানাই। তিনি মঙ্গলবার রাতেই ওই শিক্ষকসহ আমার মেয়েকে উদ্ধার করেন।

ওই মাদ্রাসাছাত্রী জানায়, মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় এক মাস আগে ইউসুফ হুজুর জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণ করে। আমি বিষয়টি আমার অভিভাবককে জানাতে চাইলে আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে তিনি সুযোগ পেলেই আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করতেন। মঙ্গলবার আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে জোর করে ঢাকায় নিয়ে যান।

কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকার জানান, ওই শিক্ষক এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছেন। এখনও তার দুটি স্ত্রী বর্তমান রয়েছে। কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে শিশুছাত্রীদের বিভিন্নভাবে জিম্মি করে ধর্ষণের আরও বহু অভিযোগ রয়েছে। মেয়েটির বাড়ি আমার নিজ গ্রামে। মেয়েটির বাবা মঙ্গলবার আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসিকে জানিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, শিশু মেয়েটি ও মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়ি দেবিদ্বার থানা এলাকা হলেও ঘটনাস্থলটি চান্দিনা থানা এলাকায়। এ বিষয়ে চান্দিনা থানা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

চান্দিনা থানার ওসি শামসউদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখনই জানতে পেরে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকসহ মেয়েটিকে থানায় এনেছি। বিস্তারিত জেনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন

ধর্ষণের পর ১২ বছরের ছাত্রীকে নিয়ে উধাও মাদ্রাসাশিক্ষক

আপডেট সময় ০৭:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

কুমিল্লার চান্দিনায় ১২ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণ করেছে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা মো. ইউসুফ সোহাগ (৪০)। এক মাস ধরে ধর্ষণের পর মঙ্গলবার মাদ্রাসার শিশুছাত্রীকে নিয়ে উধাও হয়ে যায় ওই শিক্ষক। পরে ধর্ষণের অভিযোগে বুধবার দুপুরে তাকে আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।

মাওলানা মো. ইউসুফ দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের সহিদুল ইসলামের ছেলে। তিনি চান্দিনার কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ জামে মসজিদের ইমাম। তিনি একটি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও মোহতামিম।

মাদ্রাসাছাত্রীর বাবা বলেন, ২০১৯ সালে ওই মাদ্রাসায় আমার মেয়েকে ভর্তি করি। মঙ্গলবার জানতে পারি ওই শিক্ষক আমার মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে আমি বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মানবাধিকার কর্মী ও কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকারকে বিষয়টি জানাই। তিনি মঙ্গলবার রাতেই ওই শিক্ষকসহ আমার মেয়েকে উদ্ধার করেন।

ওই মাদ্রাসাছাত্রী জানায়, মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় এক মাস আগে ইউসুফ হুজুর জোরপূর্বক আমাকে ধর্ষণ করে। আমি বিষয়টি আমার অভিভাবককে জানাতে চাইলে আমাকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়। পরবর্তীতে তিনি সুযোগ পেলেই আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করতেন। মঙ্গলবার আমাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে জোর করে ঢাকায় নিয়ে যান।

কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিটন সরকার জানান, ওই শিক্ষক এ পর্যন্ত চারটি বিয়ে করেছেন। এখনও তার দুটি স্ত্রী বর্তমান রয়েছে। কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে শিশুছাত্রীদের বিভিন্নভাবে জিম্মি করে ধর্ষণের আরও বহু অভিযোগ রয়েছে। মেয়েটির বাড়ি আমার নিজ গ্রামে। মেয়েটির বাবা মঙ্গলবার আমাকে বিষয়টি অবহিত করলে আমি দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ওসিকে জানিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।

দেবিদ্বার থানার অফিসার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, শিশু মেয়েটি ও মাদ্রাসা শিক্ষকের বাড়ি দেবিদ্বার থানা এলাকা হলেও ঘটনাস্থলটি চান্দিনা থানা এলাকায়। এ বিষয়ে চান্দিনা থানা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

চান্দিনা থানার ওসি শামসউদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখনই জানতে পেরে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকসহ মেয়েটিকে থানায় এনেছি। বিস্তারিত জেনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।