ঢাকা ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এসআইকে ‘ম্যাডাম’ ডাকায় যুবক আটক, মুচলেকায় মুক্তি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বগুড়ার শেরপুর থানায় কর্তব্যরত এক নারী উপ-পরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নূর মোহাম্মদ মামুন নামে এক যুবককে প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

পরে ওসির হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারা জানান, নারী উপ-পরিদর্শকক রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে অসদাচারণের অনেক অভিযোগ রয়েছে।

শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুনের এক বন্ধু কোনো এক মামলায় গ্রেফতার হন। মামুন তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুর থানায় যান। এ সময় এসআই রোখসানা খাতুন ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সালাম দেওয়ার পর ওই এসআইকে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং মামুনকে আটক করে থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেক্স কক্ষে রাখেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে, মামুনের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীরা থানায় আসেন। প্রায় দেড় ঘন্টা পর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাকে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই নারী এসআইয়ের ভূমিকায় জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসআই রোখসানা খাতুন (বিপি নং ৯৫২১২৩৭৮৮৬) গত ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল শেরপুর থানায় যোগদান করেন। শুধু পিকআপচালক মামুনকে আটক রাখার ঘটনা নয়; তার বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

রেজাউল করিম, হাসান ও নাঈম ইসলাম নামের কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তারা প্রায় তিন মাস আগে থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন ডিউটি অফিসার রোখসানা খাতুন তাদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেন। তাদের ধমক দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন।

ইমরান হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করলে, তিনি বিষয়টি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছিলেন।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এসআই রোখসানা খাতুনকে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক শেরপুর থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, এসআই রোখসানা খাতুনের মেজাজ ও আচরণের কারণে তারা নিজেরাও তটস্থ থাকেন। তিনি যেদিন ডিউটিতে থাকেন সেদিন সহকর্মীরা এক ধরনের অস্বস্তিতে ভোগেন।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে এর আগেও মৌখিকভাবে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম’ ডাকায় পিকআপ চালক মামুনকে আটকে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

মোবাইল বন্ধ রাখায় অভিযোগের ব্যাপারে এসআই রোখসানা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুন অভিযুক্ত ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

এসআইকে ‘ম্যাডাম’ ডাকায় যুবক আটক, মুচলেকায় মুক্তি

আপডেট সময় ০৭:৫০:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

বগুড়ার শেরপুর থানায় কর্তব্যরত এক নারী উপ-পরিদর্শককে (এসআই) ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নূর মোহাম্মদ মামুন নামে এক যুবককে প্রায় দেড় ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১০টার দিকে ডিউটি অফিসারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

পরে ওসির হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাকে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারা জানান, নারী উপ-পরিদর্শকক রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে অসদাচারণের অনেক অভিযোগ রয়েছে।

শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শাহবন্দেগী ইউনিয়নের খন্দকারটোলা গ্রামের পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুনের এক বন্ধু কোনো এক মামলায় গ্রেফতার হন। মামুন তার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে শেরপুর থানায় যান। এ সময় এসআই রোখসানা খাতুন ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি সালাম দেওয়ার পর ওই এসআইকে ‘ম্যাডাম’ সম্বোধন করেন। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হন এবং মামুনকে আটক করে থানার নারী ও শিশু হেল্প ডেক্স কক্ষে রাখেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে, মামুনের আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীরা থানায় আসেন। প্রায় দেড় ঘন্টা পর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা নিয়ে তাকে স্বজনদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই নারী এসআইয়ের ভূমিকায় জনগণের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসআই রোখসানা খাতুন (বিপি নং ৯৫২১২৩৭৮৮৬) গত ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল শেরপুর থানায় যোগদান করেন। শুধু পিকআপচালক মামুনকে আটক রাখার ঘটনা নয়; তার বিরুদ্ধে এর আগেও থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

রেজাউল করিম, হাসান ও নাঈম ইসলাম নামের কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, তারা প্রায় তিন মাস আগে থানায় ওসির সঙ্গে দেখা করতে যান। তখন ডিউটি অফিসার রোখসানা খাতুন তাদের সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করেন। তাদের ধমক দিয়ে থানা থেকে বের করে দেন।

ইমরান হোসেন নামে এক ভুক্তভোগী জানান, প্রায় পাঁচ মাস আগে তার সঙ্গে অসৌজন্য আচরণ করলে, তিনি বিষয়টি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীনকে মৌখিকভাবে অবহিত করেছিলেন।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এসআই রোখসানা খাতুনকে অন্যত্র বদলি এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নাম ও পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক শেরপুর থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, এসআই রোখসানা খাতুনের মেজাজ ও আচরণের কারণে তারা নিজেরাও তটস্থ থাকেন। তিনি যেদিন ডিউটিতে থাকেন সেদিন সহকর্মীরা এক ধরনের অস্বস্তিতে ভোগেন।

এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার ওসি এসএম মঈনুদ্দীন বলেন, এসআই রোখসানা খাতুনের বিরুদ্ধে এর আগেও মৌখিকভাবে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম’ ডাকায় পিকআপ চালক মামুনকে আটকে রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

মোবাইল বন্ধ রাখায় অভিযোগের ব্যাপারে এসআই রোখসানা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী পিকআপচালক নূর মোহাম্মদ মামুন অভিযুক্ত ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।