আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় আলোচিত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুরের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সোমবার বিকালে সাংবাদিকরা সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।
ধর্ষণের ঘটনার মামলায় নোয়াখালী জেলা কারাগারে আটক মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগ মেম্বারের নিয়ন্ত্রিত ‘সোহাগ বাহিনী’র সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের মারধর, গাড়ি ভাংচুর ও ক্যামেরা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে। সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে গিয়ে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন নোয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল কাশেম।
সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি আকবর হোসেন সোহাগ, ক্যামেরাম্যান মেহেদী হাসান ও স্থানীয় সংবাদকর্মী সুমন।
হামলার শিকার সাংবাদিকরা অভিযোগে জানান, নোয়াখালী জেলা কারাগারে আটক মোয়াজ্জম হোসেন সোহাগ মেম্বারের বাড়ি গিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করে ফিরে আসার পথে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সোহাগ বাহিনীর সন্ত্রাসী মিঠু, জয়নাল, আজাদ, রাসেল ও বাবুলসহ ১০-১৫ জন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটায়।
সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের বহন করা দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন ও নিউজ টুয়েন্টিফোরের মাইক্রোবাসে হামলা ভাংচুর, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ক্যামেরাম্যান মেহেদী হাসানের ভিডিও ক্যামেরা ও অন্য একটি ক্যামেরার মেমোরিকার্ড ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় তিনজন সাংবাদিক আহত হন।
সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার বা ছিনিয়ে নেয়া কিছুই উদ্ধার করতে পারেনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আবুল কাশেম জিএস জানান, ঘটনার সময় তিনি জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে ছিলেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকেও নানাভাবে হেনস্তা করে। হামলাকারীরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয় এবং তার গায়ের মুজিব কোর্ট ধরে টানা-হেঁচড়া করে।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান, জয়কৃষ্ণপুর গ্রামে সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের মামলায় একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মোয়াজ্জেম হোসেন সোহাগকে গত ৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দুই দিনের রিমান্ড শেষে গত ৮ অক্টোবর এ মামলায় তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী সোহাগ মেম্বারের কাছে বিচার চাইতে গেলে সোহাগ তাকে দেড় হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর পরামর্শ দেন বলে অভিযোগ ওই নির্যাতিতা গৃহবধূর। সোহাগ মেম্বারের বিরুদ্ধে ওই এলাকায় মানুষের জায়গা-জমি দখল, মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে সোমবার দিনেও ধর্ষক ও নির্যাতনকারীদের বিচারের দাবীতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় সম্মুখে মানববন্ধন করে বেশ কয়েকটি অরাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। নব যাত্রা তরুন সংঘ, নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সমন্বয় কমিটি, ছাত্র সমাজ, বাংলাদেশ ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ, জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলায় দেওটি ইউনিয়ন উন্নয়ন আন্দোলন বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করে।
উল্লেখ্য, নির্যাতিতা ধর্ষিতা নারী বাদী হয়ে পর্ণোগ্রাফী, ধর্ষণ ও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে তিনটি মামলা, র্যাব বাদী হয়ে ঢাকার নারায়ণগঞ্জে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় একটি এবং র্যাব-১১ বাদি হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটিসহ মোট ছয়টি মামলায় ১১ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে আরও একজন রিমান্ডে আছে। এ পর্যন্ত রিমান্ড শেষে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার এজাহারভুক্ত সাতজন আসামি।
প্রসঙ্গত, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ওইনারীর আগের স্বামী তার সঙ্গে দেখা করতে তার বাবার বাড়ি একলাশপুর ইউনিয়নের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের খাল পাড়ে এসে তাদের ঘরে ঢুকেন। বিষয়টি দেখে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী ও দেলোয়ার বাহিনীর প্রধান দেলোয়ার। রাত ১০টার দিকে দেলোয়ার তার লোকজন নিয়ে ওই নারীর ঘরে ঢুকে পর পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক কাজ ও তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে মারধর শুরু করে।
এক পর্যায়ে পিটিয়ে নারীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারন করে। ৪ অক্টোবর দুপুরে ওই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নোয়াখালী জেলাসহ দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এদিকে ৮অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে গৃহবধূর করা নির্যাতন ও পর্ণোগ্রাফির মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















