ঢাকা ০৭:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ঈশ্বরদীতে শিশু শিক্ষার্থীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

তিন দিন শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে মোবারক (১১) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া বুড়া দেওয়ান মাজার সংলগ্ন নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজের সময় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মোবারক পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাটি ফাঁস হয়।

মারধর ছাড়াও ওই শিক্ষার্থীকে ৭ বার থুতু ফেলে সেই থুতু তাকে দিয়ে চাটানো হয়েছে। মাদ্রাসায় প্রতিদিনই তাকে মারধর করা হতো বলে সে পালিয়ে গিয়েছিল।

শুক্রবার রাতে ঈশ্বরদী থানায় বসে এসব অভিযোগ জানান ওই শিক্ষার্থীর মা মূর্শিদা খাতুন।

ভুক্তভোগী ওই শিশু শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন, পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের বাঁচামরা গ্রামের নজরুল ইসলাম ও মূর্শিদা খাতুন দম্পতির ছেলে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসায় শিক্ষার নামে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে সবেমাত্র আমপারা শেষ করা মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিশু শিক্ষার্থী মোবারক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে দাশুড়িয়ায় খালার বাড়িতে চলে যায়। সেখান থেকে বুঝিয়ে তাকে বুধবার (৮ অক্টোবর) মাদ্রাসায় ফেরত পাঠায় তার পরিবার। মাদ্রাসায় যাওয়ার পর মোবারককে তিন দিন লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল।

মারধর ছাড়াও মোবারককে ৭ বার থুতু ফেলে সেই থুতু তাকে দিয়ে চাটানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ আদায়ের সময় লাইন থেকে পালিয়ে যায় সে। শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে এলাকার লোকজন উদ্ধার করে তাদের খবর দেয়। থানায় মোবারকের পেছন দিকে কোমড়ের নীচে পা পর্যন্ত নির্মম আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে আটক অধ্যক্ষ আব্দুল করিম জানান, ঘটনার সময় তিনি ছিলেন না, ছুটিতে গিয়েছিলেন। এসময় শিক্ষার্থীদের দেখভালের দায়িত্ব ছিল শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামের ওপর।

শিক্ষক পিয়ারুল বলেন, আমি তাকে বাঁধি নাই। ওই শিক্ষার্থীর সম্পর্কে চাচা সিনিয়র ছাত্র ছাব্বির তাকে বেঁধে রেখেছিল। মারধরের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।

মাদ্রাসার হাফেজ সমাপ্ত করা সিনিয়র ছাত্র ছাব্বির আহমেদ জানান, শিশু মোবারক একবার পালিয়ে গিয়েছিল সে কারণে তার দাদি তাকে বেঁধে রাখার কথা বলেছিলেন। তাই তাকে বেঁধে রাখা হয়। তবে শিক্ষক পিয়ারুলই শিশুটিকে বেদম মারধর করেছে বলে ছাব্বির জানিয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন জানান, মাদ্রাসার শিক্ষকদের থানা হেফাজতে আটক রাখা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ঈশ্বরদীতে শিশু শিক্ষার্থীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন!

আপডেট সময় ১২:১৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

তিন দিন শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে মোবারক (১১) নামে এক শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের কদিমপাড়া বুড়া দেওয়ান মাজার সংলগ্ন নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে জুমার নামাজের সময় মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মোবারক পালিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাটি ফাঁস হয়।

মারধর ছাড়াও ওই শিক্ষার্থীকে ৭ বার থুতু ফেলে সেই থুতু তাকে দিয়ে চাটানো হয়েছে। মাদ্রাসায় প্রতিদিনই তাকে মারধর করা হতো বলে সে পালিয়ে গিয়েছিল।

শুক্রবার রাতে ঈশ্বরদী থানায় বসে এসব অভিযোগ জানান ওই শিক্ষার্থীর মা মূর্শিদা খাতুন।

ভুক্তভোগী ওই শিশু শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন, পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের বাঁচামরা গ্রামের নজরুল ইসলাম ও মূর্শিদা খাতুন দম্পতির ছেলে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসায় শিক্ষার নামে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য না করতে পেরে সবেমাত্র আমপারা শেষ করা মাদ্রাসার নূরানী বিভাগের শিশু শিক্ষার্থী মোবারক মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে দাশুড়িয়ায় খালার বাড়িতে চলে যায়। সেখান থেকে বুঝিয়ে তাকে বুধবার (৮ অক্টোবর) মাদ্রাসায় ফেরত পাঠায় তার পরিবার। মাদ্রাসায় যাওয়ার পর মোবারককে তিন দিন লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছিল।

মারধর ছাড়াও মোবারককে ৭ বার থুতু ফেলে সেই থুতু তাকে দিয়ে চাটানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ আদায়ের সময় লাইন থেকে পালিয়ে যায় সে। শিকল বাঁধা অবস্থায় তাকে এলাকার লোকজন উদ্ধার করে তাদের খবর দেয়। থানায় মোবারকের পেছন দিকে কোমড়ের নীচে পা পর্যন্ত নির্মম আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

ঘটনা প্রসঙ্গে আটক অধ্যক্ষ আব্দুল করিম জানান, ঘটনার সময় তিনি ছিলেন না, ছুটিতে গিয়েছিলেন। এসময় শিক্ষার্থীদের দেখভালের দায়িত্ব ছিল শিক্ষক পিয়ারুল ইসলামের ওপর।

শিক্ষক পিয়ারুল বলেন, আমি তাকে বাঁধি নাই। ওই শিক্ষার্থীর সম্পর্কে চাচা সিনিয়র ছাত্র ছাব্বির তাকে বেঁধে রেখেছিল। মারধরের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো কথা বলেননি।

মাদ্রাসার হাফেজ সমাপ্ত করা সিনিয়র ছাত্র ছাব্বির আহমেদ জানান, শিশু মোবারক একবার পালিয়ে গিয়েছিল সে কারণে তার দাদি তাকে বেঁধে রাখার কথা বলেছিলেন। তাই তাকে বেঁধে রাখা হয়। তবে শিক্ষক পিয়ারুলই শিশুটিকে বেদম মারধর করেছে বলে ছাব্বির জানিয়েছে।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসির উদ্দিন জানান, মাদ্রাসার শিক্ষকদের থানা হেফাজতে আটক রাখা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।