ঢাকা ১২:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

ন্যাড়া না হওয়ায় চুল কেটে বিকৃত করে দিলেন মাদরাসা শিক্ষক!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ন্যাড়া হয়ে মাদরাসায় না যাওয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুরে ২ শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে বিকৃত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বিকেলে নির্যাতিত শিশুর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অপরদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় পাল্টা থানায় অভিযোগ করেন।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বেতুয়া পশ্চিম পাড়া বিশ্ব নবী (সা.) হাফেজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তৈয়ব আলী আকন্দ ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক (হুজুর)। তার বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।

অভিযোগকারী বাবুল হোসেন জানান, তার ১০ বছর বয়সী ছেলে বিজয় হোসেন প্রায় দুই বছর ধরে ওই হেফজ মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। রোববার (৪ অক্টোবর) তার ছেলে ন্যাড়া হয়ে মাদরাসায় না যাওয়ার অপরাধে ওই মাদরাসার প্রধান হুজুর ব্লেড দিয়ে চুল কেটে বিকৃত করে দেন। একই সময় তার ছেলের বন্ধু জাকারিয়ার মাথার চুলও একই কায়দায় বিকৃত করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় ওই সময় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও করা হয়।

শিক্ষার্থী বিজয় হোসেন জানায়, মাথার চুল ছোট করে কাটলেও ন্যাড়া না হওয়ার অপরাধে বড় হুজুর একটি ব্লেড নিয়ে মাথার মাঝ বরাবর রেখা টেনে ন্যাড়া করে দেন। পরে দুই কান মলে ঘাড়ের ওপর ক্যারাতে স্টাইলে আঘাত করেন। হুজুর কখনো আমাদের বেত দিয়ে মারধর করেন না। সব সময় ঘাড়ের মধ্যে ক্যারাতে স্টাইলে মারধর করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুফতি তৈয়ব আলী আকন্দ জানান, প্রতি মাসেই শিক্ষার্থীদের চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ওইদিন দুইজনের ন্যাড়া করার প্রস্তুতিকালে নামাজের সময় হওয়ায় তিনি মসজিদে চলে যান। নামাজের পর ন্যাড়া করার জন্য ওই দুই ছাত্রকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওরা বিকৃত মাথা নিয়েই বাড়িতে চলে যায়। পরে ওই গ্রামের কিছু লোকজন ওই দুই ছাত্রের মাথার বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার সম্মানহানি করেন। এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু মানুষ আমার ওপর হামলাও চালায়।

সখীপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির জানান, নির্যাতিত শিশুর বাবা সখীপুর থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আরেকটি পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। উভয়পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইউএনও আসমাউল হুসনা লিজা জানান, অভিভাবক শিশুকে নিয়ে তার কার্যালয়ে এসেছিলেন। পরে এ বিষয়টি সখীপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

ন্যাড়া না হওয়ায় চুল কেটে বিকৃত করে দিলেন মাদরাসা শিক্ষক!

আপডেট সময় ০৬:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ন্যাড়া হয়ে মাদরাসায় না যাওয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুরে ২ শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে বিকৃত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বিকেলে নির্যাতিত শিশুর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অপরদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় পাল্টা থানায় অভিযোগ করেন।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বেতুয়া পশ্চিম পাড়া বিশ্ব নবী (সা.) হাফেজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তৈয়ব আলী আকন্দ ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক (হুজুর)। তার বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।

অভিযোগকারী বাবুল হোসেন জানান, তার ১০ বছর বয়সী ছেলে বিজয় হোসেন প্রায় দুই বছর ধরে ওই হেফজ মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। রোববার (৪ অক্টোবর) তার ছেলে ন্যাড়া হয়ে মাদরাসায় না যাওয়ার অপরাধে ওই মাদরাসার প্রধান হুজুর ব্লেড দিয়ে চুল কেটে বিকৃত করে দেন। একই সময় তার ছেলের বন্ধু জাকারিয়ার মাথার চুলও একই কায়দায় বিকৃত করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় ওই সময় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও করা হয়।

শিক্ষার্থী বিজয় হোসেন জানায়, মাথার চুল ছোট করে কাটলেও ন্যাড়া না হওয়ার অপরাধে বড় হুজুর একটি ব্লেড নিয়ে মাথার মাঝ বরাবর রেখা টেনে ন্যাড়া করে দেন। পরে দুই কান মলে ঘাড়ের ওপর ক্যারাতে স্টাইলে আঘাত করেন। হুজুর কখনো আমাদের বেত দিয়ে মারধর করেন না। সব সময় ঘাড়ের মধ্যে ক্যারাতে স্টাইলে মারধর করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুফতি তৈয়ব আলী আকন্দ জানান, প্রতি মাসেই শিক্ষার্থীদের চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ওইদিন দুইজনের ন্যাড়া করার প্রস্তুতিকালে নামাজের সময় হওয়ায় তিনি মসজিদে চলে যান। নামাজের পর ন্যাড়া করার জন্য ওই দুই ছাত্রকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওরা বিকৃত মাথা নিয়েই বাড়িতে চলে যায়। পরে ওই গ্রামের কিছু লোকজন ওই দুই ছাত্রের মাথার বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার সম্মানহানি করেন। এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু মানুষ আমার ওপর হামলাও চালায়।

সখীপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির জানান, নির্যাতিত শিশুর বাবা সখীপুর থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আরেকটি পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। উভয়পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইউএনও আসমাউল হুসনা লিজা জানান, অভিভাবক শিশুকে নিয়ে তার কার্যালয়ে এসেছিলেন। পরে এ বিষয়টি সখীপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।