ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

ন্যাড়া না হওয়ায় চুল কেটে বিকৃত করে দিলেন মাদরাসা শিক্ষক!

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ন্যাড়া হয়ে মাদরাসায় না যাওয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুরে ২ শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে বিকৃত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বিকেলে নির্যাতিত শিশুর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অপরদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় পাল্টা থানায় অভিযোগ করেন।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বেতুয়া পশ্চিম পাড়া বিশ্ব নবী (সা.) হাফেজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তৈয়ব আলী আকন্দ ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক (হুজুর)। তার বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।

অভিযোগকারী বাবুল হোসেন জানান, তার ১০ বছর বয়সী ছেলে বিজয় হোসেন প্রায় দুই বছর ধরে ওই হেফজ মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। রোববার (৪ অক্টোবর) তার ছেলে ন্যাড়া হয়ে মাদরাসায় না যাওয়ার অপরাধে ওই মাদরাসার প্রধান হুজুর ব্লেড দিয়ে চুল কেটে বিকৃত করে দেন। একই সময় তার ছেলের বন্ধু জাকারিয়ার মাথার চুলও একই কায়দায় বিকৃত করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় ওই সময় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও করা হয়।

শিক্ষার্থী বিজয় হোসেন জানায়, মাথার চুল ছোট করে কাটলেও ন্যাড়া না হওয়ার অপরাধে বড় হুজুর একটি ব্লেড নিয়ে মাথার মাঝ বরাবর রেখা টেনে ন্যাড়া করে দেন। পরে দুই কান মলে ঘাড়ের ওপর ক্যারাতে স্টাইলে আঘাত করেন। হুজুর কখনো আমাদের বেত দিয়ে মারধর করেন না। সব সময় ঘাড়ের মধ্যে ক্যারাতে স্টাইলে মারধর করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুফতি তৈয়ব আলী আকন্দ জানান, প্রতি মাসেই শিক্ষার্থীদের চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ওইদিন দুইজনের ন্যাড়া করার প্রস্তুতিকালে নামাজের সময় হওয়ায় তিনি মসজিদে চলে যান। নামাজের পর ন্যাড়া করার জন্য ওই দুই ছাত্রকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওরা বিকৃত মাথা নিয়েই বাড়িতে চলে যায়। পরে ওই গ্রামের কিছু লোকজন ওই দুই ছাত্রের মাথার বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার সম্মানহানি করেন। এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু মানুষ আমার ওপর হামলাও চালায়।

সখীপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির জানান, নির্যাতিত শিশুর বাবা সখীপুর থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আরেকটি পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। উভয়পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইউএনও আসমাউল হুসনা লিজা জানান, অভিভাবক শিশুকে নিয়ে তার কার্যালয়ে এসেছিলেন। পরে এ বিষয়টি সখীপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

ন্যাড়া না হওয়ায় চুল কেটে বিকৃত করে দিলেন মাদরাসা শিক্ষক!

আপডেট সময় ০৬:১৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:  

ন্যাড়া হয়ে মাদরাসায় না যাওয়ায় টাঙ্গাইলের সখীপুরে ২ শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে বিকৃত করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) বিকেলে নির্যাতিত শিশুর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

অপরদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বাদি হয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় পাল্টা থানায় অভিযোগ করেন।

গত রোববার (৪ অক্টোবর) উপজেলার বহেড়াতৈল ইউনিয়নের বেতুয়া পশ্চিম পাড়া বিশ্ব নবী (সা.) হাফেজিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত তৈয়ব আলী আকন্দ ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক (হুজুর)। তার বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায়।

অভিযোগকারী বাবুল হোসেন জানান, তার ১০ বছর বয়সী ছেলে বিজয় হোসেন প্রায় দুই বছর ধরে ওই হেফজ মাদরাসায় পড়াশোনা করছে। রোববার (৪ অক্টোবর) তার ছেলে ন্যাড়া হয়ে মাদরাসায় না যাওয়ার অপরাধে ওই মাদরাসার প্রধান হুজুর ব্লেড দিয়ে চুল কেটে বিকৃত করে দেন। একই সময় তার ছেলের বন্ধু জাকারিয়ার মাথার চুলও একই কায়দায় বিকৃত করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় ওই সময় তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও করা হয়।

শিক্ষার্থী বিজয় হোসেন জানায়, মাথার চুল ছোট করে কাটলেও ন্যাড়া না হওয়ার অপরাধে বড় হুজুর একটি ব্লেড নিয়ে মাথার মাঝ বরাবর রেখা টেনে ন্যাড়া করে দেন। পরে দুই কান মলে ঘাড়ের ওপর ক্যারাতে স্টাইলে আঘাত করেন। হুজুর কখনো আমাদের বেত দিয়ে মারধর করেন না। সব সময় ঘাড়ের মধ্যে ক্যারাতে স্টাইলে মারধর করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মুফতি তৈয়ব আলী আকন্দ জানান, প্রতি মাসেই শিক্ষার্থীদের চুল ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ওইদিন দুইজনের ন্যাড়া করার প্রস্তুতিকালে নামাজের সময় হওয়ায় তিনি মসজিদে চলে যান। নামাজের পর ন্যাড়া করার জন্য ওই দুই ছাত্রকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ওরা বিকৃত মাথা নিয়েই বাড়িতে চলে যায়। পরে ওই গ্রামের কিছু লোকজন ওই দুই ছাত্রের মাথার বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে আমার সম্মানহানি করেন। এক পর্যায়ে গ্রামের কিছু মানুষ আমার ওপর হামলাও চালায়।

সখীপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির জানান, নির্যাতিত শিশুর বাবা সখীপুর থানায় এসে একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অন্যদিকে, ওই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আরিফুল ইসলাম আরেকটি পাল্টা অভিযোগ দিয়েছেন। দুটি অভিযোগই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। উভয়পক্ষের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইউএনও আসমাউল হুসনা লিজা জানান, অভিভাবক শিশুকে নিয়ে তার কার্যালয়ে এসেছিলেন। পরে এ বিষয়টি সখীপুর থানার ওসিকে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।