ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আইজিপি: চাঁদাবাজির অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করার ক্ষমতা পাচ্ছে পুলিশ জাপান সফরে তারেক রহমান: অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে নতুন গতির আশা রাষ্ট্রদূতকে আনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়: শামা ওবায়েদ সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক চলছে স্মরণকালের সেরা দুর্গাপূজা উপহার দিলেন দেশনায়ক  তারেক রহমান ঢাকার বাস টার্মিনাল ও অটোরিকশা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সোহেল গরিবের বিচার, ধনীর বিচার এক করতে হবে —এটাই তারেক রহমানের নতুন বাংলাদেশ আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ বাংলাদেশ কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ার ঐতিহাসিক বদর প্রতিরক্ষা চুক্তি দ্বিগুণ যাত্রী সামলাতে হিমশিম দেশের বিমানবন্দরগুলো

ঢাকা-আঙ্কারা শক্তিশালী সম্পর্ক চান প্রধানমন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুই দেশের জনগণের সুবিধার জন্য তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তুরস্কের আঙ্কারা মিশনের বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স উদ্বোধনকালে একথা বলেন শেখ হাসিনা।

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে ১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের শুরু হয়। তবে আমাদের সম্পর্কের শুরু ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুর্কি জেনারেল ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা জয়ের মধ্যে দিয়ে। পাস্পরিক আস্থা-বিশ্বাসে ইতিহাস, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যে ওপর ভিত্তি করে দু’দেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে।

দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দু’দেশের জনগণের দ্বিপক্ষীয় সুবিধার জন্য তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া এই নীতিই আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নই দেখেননি, তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সংঘাতমুক্ত বিশ্বের স্বপ্নও দেখেছেন। মানবকল্যাণে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে গেছেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তুর্কি জনগণ ও দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট ও তুর্কি ফাস্ট লেডিকে ধন্যবাদ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সব ধরনের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ। আমি মনে করি প্রায় তিন বছর হতে চলেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। এই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে তুরস্ক।

২০১২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের আমন্ত্রণে আঙ্কারা সফরের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাস ভবন নির্মাণে তুর্কি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

চলমান করোনা মহামারি সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্ব এক কঠিন সময় পার করছে। এই মহামারি বিশ্বের অধিকাংশ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে স্থবির করে দিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলদেশে আমরা সফলতার সঙ্গে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পেরেছি। একই সময়ে আমাদের সময়োপোযোগী ও সঠিক পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ নেওয়ার মাধ্যমে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কিছুটা মোকাবিলা করতে পেরেছি।

প্রাণঘাতী করোনা মোকাবিলায় সফলতার জন্য তুর্কি নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ওই টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এবং ফাস্ট লেডিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি লেবাননের বৈরুত বন্দরে বিস্পোরনে ক্ষতিগ্রস্থ নৌ বাহিনীর জাহাজ মেরামতের জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
​​​
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দীকী।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

The Daily Akash

নেতানিয়াহুর ব্যর্থতা তদন্তের দাবিতে তেল আবিবে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

ঢাকা-আঙ্কারা শক্তিশালী সম্পর্ক চান প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুই দেশের জনগণের সুবিধার জন্য তুরস্কের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী বাংলাদেশ।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তুরস্কের আঙ্কারা মিশনের বাংলাদেশ চ্যান্সারি কমপ্লেক্স উদ্বোধনকালে একথা বলেন শেখ হাসিনা।

তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রায় ৫০ বছর আগে ১৯৭৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে তুরস্কের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের শুরু হয়। তবে আমাদের সম্পর্কের শুরু ত্রয়োদশ শতাব্দীতে তুর্কি জেনারেল ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বখতিয়ার খিলজির বাংলা জয়ের মধ্যে দিয়ে। পাস্পরিক আস্থা-বিশ্বাসে ইতিহাস, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যে ওপর ভিত্তি করে দু’দেশের সম্পর্কের শিকড় অনেক গভীরে।

দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দু’দেশের জনগণের দ্বিপক্ষীয় সুবিধার জন্য তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া এই নীতিই আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধু সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নই দেখেননি, তিনি ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সংঘাতমুক্ত বিশ্বের স্বপ্নও দেখেছেন। মানবকল্যাণে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে গেছেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তুর্কি জনগণ ও দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিশেষ করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট ও তুর্কি ফাস্ট লেডিকে ধন্যবাদ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সব ধরনের সহায়তার জন্য ধন্যবাদ। আমি মনে করি প্রায় তিন বছর হতে চলেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর তাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া উচিত। এই ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে তুরস্ক।

২০১২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের আমন্ত্রণে আঙ্কারা সফরের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাস ভবন নির্মাণে তুর্কি কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বাংলাদেশ দূতাবাস ভবনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

চলমান করোনা মহামারি সংকটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্ব এক কঠিন সময় পার করছে। এই মহামারি বিশ্বের অধিকাংশ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও অর্থনীতিকে স্থবির করে দিয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলদেশে আমরা সফলতার সঙ্গে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে পেরেছি। একই সময়ে আমাদের সময়োপোযোগী ও সঠিক পদক্ষেপ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা প্যাকেজ নেওয়ার মাধ্যমে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের ধ্বংসাত্মক প্রভাব কিছুটা মোকাবিলা করতে পেরেছি।

প্রাণঘাতী করোনা মোকাবিলায় সফলতার জন্য তুর্কি নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।

আঙ্কারার বাংলাদেশ দূতাবাসের নিজস্ব ভবন নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তবে ভবনটি নির্মাণে ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা কম ব্যয় হয়েছে। ওই টাকা বাংলাদেশ সরকারের কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট এবং ফাস্ট লেডিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সম্প্রতি লেবাননের বৈরুত বন্দরে বিস্পোরনে ক্ষতিগ্রস্থ নৌ বাহিনীর জাহাজ মেরামতের জন্য তুরস্ককে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।
​​​
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসগলু, তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আল্লামা সিদ্দীকী।