ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুই বছর পর আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড-পিডিবি এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণ শুনানি শুরু হবে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বলছে, শুনানির পর আইন অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে দাম বাড়ানোর সুপারিশ করবেন তারা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞের মতে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীদের লাভ দিতেই, দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে সরকার।

২০১০ এর মার্চ থেকে ২০১৫ এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কয়েক দফায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৭০ ভাগ বাড়ায় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। এতে প্রতি ইউনিটের জন্য গ্রাহকদের এখন গড়ে গুনতে হয় ৬ টাকা ৩৩ পয়সা।

দেশে উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ প্রথমে কিনে নেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি। এরপর তা বিক্রি করা হয় বিভিন্ন বিতরণকারী কোম্পানীর কাছে। এদের কাছ থেকেই বিদ্যুৎ কেনে ভোক্তারা। গত ফেব্রুয়ারীতে পিডিবি ৩ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে। আর ৫টি বিতরণকারী কোম্পানী গড়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ২৪ শতাংশ দাম বাড়াতে চায় নর্থ-ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী।

জ্বালানী ও বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি বলছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসব নিয়ে গণশুনানি শুরু হবে। চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ধারনা করা হচ্ছে, এই দুই কারণে দাম বাড়তে পারে এবার। তবে বিইআরসির বলছেন, সিদ্ধান্ত নেয়া হবে গণশুনানির আলোকে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, শুনানির পরে যে ব্যপক কিশ্লেষণের পর অর্ডার জারি হবে।

এ বছরই এক দফা বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম। অন্যদিকে তেল পুড়িয়েও গড়ে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কোম্পানী। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও, দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করেনি সরকার। ফলে, তেল ভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও কমছে না। অন্যদিকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে তেল থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে সরকার।

একজন জ্বালানী বিশেষজ্ঞ বলছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেই বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে সরকার।

ক্যাব এর জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, তেলের দাম বেড়ে গেল, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে গেল, সুতরাং ব্যয় বাড়ল। তেলের দামের সাথে আমরা সমন্বয় করলামনা। তার মানে এই ব্যয় বৃদ্ধিকে আমরা বাঁচিয়ে রাখলাম। এই ব্যয় বৃদ্ধি বাঁচিয়ে রাখার কোনো ন্যায্যতা নেই।

এদিকে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, গ্রামে-গঞ্জে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না করে দাম বাড়ানো কতোটা যৌক্তিক হবে তা নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

আপডেট সময় ১২:৪৪:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

দুই বছর পর আবারও বাড়ছে বিদ্যুতের দাম। বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড-পিডিবি এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের ওপর গণ শুনানি শুরু হবে ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বলছে, শুনানির পর আইন অনুযায়ী তিন মাসের মধ্যে দাম বাড়ানোর সুপারিশ করবেন তারা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞের মতে, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ব্যবসায়ীদের লাভ দিতেই, দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে সরকার।

২০১০ এর মার্চ থেকে ২০১৫ এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কয়েক দফায় বিদ্যুতের দাম প্রায় ৭০ ভাগ বাড়ায় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। এতে প্রতি ইউনিটের জন্য গ্রাহকদের এখন গড়ে গুনতে হয় ৬ টাকা ৩৩ পয়সা।

দেশে উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ প্রথমে কিনে নেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি। এরপর তা বিক্রি করা হয় বিভিন্ন বিতরণকারী কোম্পানীর কাছে। এদের কাছ থেকেই বিদ্যুৎ কেনে ভোক্তারা। গত ফেব্রুয়ারীতে পিডিবি ৩ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করে। আর ৫টি বিতরণকারী কোম্পানী গড়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে প্রায় সাড়ে ১১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি ২৪ শতাংশ দাম বাড়াতে চায় নর্থ-ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী।

জ্বালানী ও বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিইআরসি বলছে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসব নিয়ে গণশুনানি শুরু হবে। চলবে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। ধারনা করা হচ্ছে, এই দুই কারণে দাম বাড়তে পারে এবার। তবে বিইআরসির বলছেন, সিদ্ধান্ত নেয়া হবে গণশুনানির আলোকে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, শুনানির পরে যে ব্যপক কিশ্লেষণের পর অর্ডার জারি হবে।

এ বছরই এক দফা বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম। অন্যদিকে তেল পুড়িয়েও গড়ে ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন করে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি কোম্পানী। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও, দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করেনি সরকার। ফলে, তেল ভিত্তিক বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও কমছে না। অন্যদিকে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে তেল থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে সরকার।

একজন জ্বালানী বিশেষজ্ঞ বলছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেই বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে সরকার।

ক্যাব এর জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, তেলের দাম বেড়ে গেল, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে গেল, সুতরাং ব্যয় বাড়ল। তেলের দামের সাথে আমরা সমন্বয় করলামনা। তার মানে এই ব্যয় বৃদ্ধিকে আমরা বাঁচিয়ে রাখলাম। এই ব্যয় বৃদ্ধি বাঁচিয়ে রাখার কোনো ন্যায্যতা নেই।

এদিকে জ্বালানী মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, গ্রামে-গঞ্জে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না করে দাম বাড়ানো কতোটা যৌক্তিক হবে তা নিয়ে সংশয়ে আছেন তারা।