আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমানকে কোন কোন বুদ্ধিজীবী মহল একজন সৎ এবং নির্লোভ ব্যক্তি হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেন। এই প্রমাণের সবথেকে বড় চেষ্টা করা হয়েছিল জিয়ার মৃত্যুর পর। ‘যদি কিছু মনে না করেন’ অনুষ্ঠানে ফজলে লোহানি জিয়াউর রহমানের ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি দেখিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করেছিলেন যে, জিয়াউর রহমান একজন সৎ এবং নির্লোভ ব্যক্তি ছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের এই ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি থেকে এখন হাজার-হাজার কোটি টাকা বেড়িয়ে এসেছে। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর জিয়াউর রহমানের এতিম পরিবারকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিয়েছিলেন বিচারপতি সাত্তারের সরকার এবং তাঁর মধ্যে ক্যান্টনমেন্টের বাড়িতে লিজ দেওয়া হয়েছিল, গুলশানের একটি বাড়ি বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছিল, দেওয়া হয়েছিল নগদ অর্থ।
কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে দেখা যায় যে, জিয়া সাভার, বগুড়া এবং দিনাজপুর এলাকায় বিপুল পরিমাণ ভূসম্পত্তি রেখে গেছেন। যে ভূসম্পত্তির পরিমাণ ১৯৮২ সালের হিসেবেই ছিল প্রায় ৬ কোটি টাকার সমান। কিন্তু ৪২ বছরে জিয়া পরিবারের ঐ ভাঙা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি থেকে অনেক লঞ্চ বেড়িয়েছে, অনেক শিল্প কারখানা বেড়িয়েছে এবং দেশে-বিদেশে তারা হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদের মালিক। কিভাবে এই সম্পদ হলো তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি বড় প্রশ্ন। আজ বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এই প্রশ্নটি অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে যে, কিভাবে জিয়া পরিবার রাজনীতির মাধ্যমে হাজার-হাজার কোটি টাকার মালিক হলেন?
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলন করে ১৯৯১ সালে তিনি ক্ষমতায় আসেন। এখান থেকেই শুরু হয় জিয়া পরিবারের দুর্নীতি এবং দুর্বৃত্তায়নের সূচনা। ভাঙা স্যুটকেস থেকে সেসময় রাতারাতি কোকো লঞ্চের মালিক বনে যান জিয়া পরিবার এবং ৬ টি কোকো জাহাজ তারা তৈরি করেন। এসময় জিয়াউর রহমানের বড় পুত্র তারেক জিয়া এবং খালেদা জিয়ার ভাই প্রয়াত সাঈদ এস্কান্দার মিলে ডান্ডি নাইন তৈরি করেন এবং সোনালী ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে ঋণ গ্রহণ করেন। আর এই ব্যবসায়িক ধারা অব্যহত থাকে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে জিয়া পরিবার যেন আলাদিনের চেরাগ পান এবং তখন তাদের হাজার-হাজার কোটি টাকার সম্পদ তৈরি হতে থাকে। এই সময়ে তারেক জিয়ার ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে ওয়ান স্পুনিং মিল, ওয়ান টেক্সটাইল, চ্যানেল ওয়ানসহ অন্তত ১৬ টি শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন তারেক জিয়া। এছাড়া কোকো টেলিকমের ব্যবসার কমিশনসহ নানারকম তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে শত-শত কোটি টাকার মালিক হন।
বর্তমানে বিভিন্ন অনুসন্ধান থেকে জানা যায় যে, জিয়া পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সৌদি আরব, দুবাই এবং কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও তাদের প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে বলে সৌদি আরবের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। এই সম্পদগুলোর মালিক তারেক জিয়া, খালেদা জিয়া, তারেক জিয়ার স্ত্রী ডা. জুবাইদা এবং প্রয়াত কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান শিথি।
মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ ছাড়াও জিয়া পরিবারের সম্পত্তির উৎস পাওয়া যায় সিঙ্গাপুরে এবং সেখানে তারেক জিয়ার দুটি ব্যাংক একাউন্টে বাংলাদেশি টাকায় অন্তত ১৭৫ কোটি টাকা পাওয়া যায়। সিঙ্গাপুরের একটি একাউন্টে কোকোর ৫৫ কোটি টাকাও রয়েছে এবং সিঙ্গাপুর থেকে কিঞ্চিত পরিমাণ টাকা দুর্নীতি দমন কমিশন ফেরত আনতে পেরেছিল। যা একটি টেলিকম কোম্পানি কোকোকে ঘুষ হিসেবে দিয়েছিল।
এছাড়াও মালয়েশিয়ায় কোকোর মৃত্যুর পর কোকোর একাউন্টে বাংলাদেশে টাকায় ৮৭ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছিল। ব্রুনাইয়ে তারেক জিয়ার একাধিক ব্যবসার খবর পাওয়া যায় এবং সেখানে তাঁর ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে খালেদা জিয়ার বড় ভাই সাঈদ এস্কান্দারের বিনিয়োগের খবর পাওয়া যায় এবং খালেদা জিয়ার বড় বোন খুরশীদ জাহান চকলেটের আত্মীয়দের নিউ ইয়র্কে এবং ফ্লোরিডায় বাড়ি আছে বলেও জানা যায়। এছাড়াও লন্ডনে তারেক জিয়ার বিপুল সম্পদ রয়েছে বলে জানা যায়।
প্রশ্ন হচ্ছে যে, যারা জিয়াউর রহমানকে সৎ বলার চেষ্টা করেছিলেন তারা এখন নিরব কেন? একজন সৎ ব্যক্তির পরিবার এভাবে বিপুল বিত্তের মালিক কিভাবে হলেন সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে বিএনপির রাজনীতিকে অনুসন্ধান করতে গেলে। বিএনপির আজকের এই পরিণতির অনুসন্ধান করতে গেলে সেই অর্থের উৎস খোঁজাও জরুরী।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















