ঢাকা ০৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বাংলাদেশ চুপ থাকবে না: শামা ওবায়েদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সফল পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

এবার বাবাকে ছাড়া ঈদ

অাকাশ বিনোদন ডেস্ক:

রাজ রাজ্জাককে ছাড়া প্রথম ঈদ হচ্ছে লক্ষ্মীকুঞ্জে। আগের মতো সেই আনন্দ নেই। সবার মুখ ভার। সকালে নামাজ থেকে এসে রাজ্জাকের শোয়ার ঘরে ফাঁকা বিছানা দেখে সবার চোখ ভিজে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই নিজেদের সামলে নেন। এরপর কোরবানি দেওয়ার পালা। আজ ২ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথম আলোকে জানালেন রাজ্জাকের ছোট ছেলে চিত্রনায়ক ও নির্মাতা সম্রাট।

সম্রাট বলেন, ‘মাত্র ১২ দিন আগে আব্বাকে হারিয়েছি। ভেবেছিলাম, এবার কোরবানি দেব না। শেষ পর্যন্ত আম্মার অনুরোধে রাজি হয়েছি।’

প্রতিবছর নিজে হাটে গিয়ে গরু কিনতেন রাজ্জাক। হাটে সবাই তাঁকে ঘিরে ধরত। মুহূর্তেই ভিড় জমে যেত। কিন্তু কাজটা উপভোগ করতেন রাজ্জাক। নিজে পছন্দ করে, দরদাম করে তবেই গরু কিনতেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকতেন দুই ছেলে বাপ্পারাজ, সম্রাট আরও অনেকে। ঈদের দিন কোরবানি দেওয়া থেকে শুরু করে সবকিছু নিজেই তদারক করতেন। সম্রাট বললেন, ‘অসুস্থতার জন্য শেষ তিন বছর আব্বা হাটে যেতে পারেননি। আমরাই গিয়েছি। কিন্তু ঈদের দিন তদারকির কাজ ঠিকই করেছেন। মাংস ভাগ ও বণ্টন করতেন। কোন কোন বাসায় যাবে, তার পরিকল্পনা করতেন। চেয়ার পেতে বসে সবকিছু সমন্বয় করতেন। কাছের মানুষ, প্রতিবেশী, গরিব, কেউ যেন কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে খুব খেয়াল রাখতেন।’

ঈদের দিন সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে রাজ্জাক নিজে গিয়ে ছেলেদের ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন। এরপর গোসল সেরে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে আতর-সুরমা মাখতেন। ছেলেদেরও মেখে দিতেন। সবাই মিলে চলে যেতেন মসজিদে। নামাজের পর ছেলেদের সঙ্গে কোলাকুলি করতেন। অন্যদের সঙ্গেও কোলাকুলি করতেন।

রাজ্জাকের প্রিয় খাবার ছিল করলা ভাজি ও ভাত। পছন্দ করতেন দেশি মুরগি আর দেশি মাছ। ঈদের দিনেও টেবিলে থাকত তা। বিরিয়ানি, কাচ্চি কিংবা ভারী খাবারের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ ছিল না। গরুর মাংস তো একেবারেই না। শেষ দিকে মাঝেমধ্যে একটু খেয়েছেন।

আজ সকাল থেকেই গুলশানের লক্ষ্মীকুঞ্জে এসেছেন আত্মীয়স্বজন। ঘুম থেকে উঠে ফজর নামাজ আদায় করে তিন ভাই বাপ্পারাজ, বাপ্পী আর সম্রাট চলে যান বনানী কবরস্থানে। বাবার কবর জিয়ারত করেন। ফিরে এসে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

সম্রাট বলেন, ‘প্রতি দিন সকালে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে চলে যাই আব্বার কবরে। সেখানে অনেকটা সময় কাটাই। আব্বাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের দিন শুরু হয়। আজকের ঈদের দিনও আব্বা আমাদের সঙ্গেই আছেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরিত্রিয়া সীমান্তে ইথিওপীয় সেনার অগ্রগতি, বাড়ছে নতুন যুদ্ধের শঙ্কা

এবার বাবাকে ছাড়া ঈদ

আপডেট সময় ০৮:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ বিনোদন ডেস্ক:

রাজ রাজ্জাককে ছাড়া প্রথম ঈদ হচ্ছে লক্ষ্মীকুঞ্জে। আগের মতো সেই আনন্দ নেই। সবার মুখ ভার। সকালে নামাজ থেকে এসে রাজ্জাকের শোয়ার ঘরে ফাঁকা বিছানা দেখে সবার চোখ ভিজে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই নিজেদের সামলে নেন। এরপর কোরবানি দেওয়ার পালা। আজ ২ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথম আলোকে জানালেন রাজ্জাকের ছোট ছেলে চিত্রনায়ক ও নির্মাতা সম্রাট।

সম্রাট বলেন, ‘মাত্র ১২ দিন আগে আব্বাকে হারিয়েছি। ভেবেছিলাম, এবার কোরবানি দেব না। শেষ পর্যন্ত আম্মার অনুরোধে রাজি হয়েছি।’

প্রতিবছর নিজে হাটে গিয়ে গরু কিনতেন রাজ্জাক। হাটে সবাই তাঁকে ঘিরে ধরত। মুহূর্তেই ভিড় জমে যেত। কিন্তু কাজটা উপভোগ করতেন রাজ্জাক। নিজে পছন্দ করে, দরদাম করে তবেই গরু কিনতেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকতেন দুই ছেলে বাপ্পারাজ, সম্রাট আরও অনেকে। ঈদের দিন কোরবানি দেওয়া থেকে শুরু করে সবকিছু নিজেই তদারক করতেন। সম্রাট বললেন, ‘অসুস্থতার জন্য শেষ তিন বছর আব্বা হাটে যেতে পারেননি। আমরাই গিয়েছি। কিন্তু ঈদের দিন তদারকির কাজ ঠিকই করেছেন। মাংস ভাগ ও বণ্টন করতেন। কোন কোন বাসায় যাবে, তার পরিকল্পনা করতেন। চেয়ার পেতে বসে সবকিছু সমন্বয় করতেন। কাছের মানুষ, প্রতিবেশী, গরিব, কেউ যেন কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে খুব খেয়াল রাখতেন।’

ঈদের দিন সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে রাজ্জাক নিজে গিয়ে ছেলেদের ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন। এরপর গোসল সেরে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে আতর-সুরমা মাখতেন। ছেলেদেরও মেখে দিতেন। সবাই মিলে চলে যেতেন মসজিদে। নামাজের পর ছেলেদের সঙ্গে কোলাকুলি করতেন। অন্যদের সঙ্গেও কোলাকুলি করতেন।

রাজ্জাকের প্রিয় খাবার ছিল করলা ভাজি ও ভাত। পছন্দ করতেন দেশি মুরগি আর দেশি মাছ। ঈদের দিনেও টেবিলে থাকত তা। বিরিয়ানি, কাচ্চি কিংবা ভারী খাবারের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ ছিল না। গরুর মাংস তো একেবারেই না। শেষ দিকে মাঝেমধ্যে একটু খেয়েছেন।

আজ সকাল থেকেই গুলশানের লক্ষ্মীকুঞ্জে এসেছেন আত্মীয়স্বজন। ঘুম থেকে উঠে ফজর নামাজ আদায় করে তিন ভাই বাপ্পারাজ, বাপ্পী আর সম্রাট চলে যান বনানী কবরস্থানে। বাবার কবর জিয়ারত করেন। ফিরে এসে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

সম্রাট বলেন, ‘প্রতি দিন সকালে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে চলে যাই আব্বার কবরে। সেখানে অনেকটা সময় কাটাই। আব্বাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের দিন শুরু হয়। আজকের ঈদের দিনও আব্বা আমাদের সঙ্গেই আছেন।’