ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস বিজয় আমাদের হয়েই গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি শুধু আনুষ্ঠানিকতা: নুরুল হক নুর জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি আরো বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে, নির্বাচনী অঙ্গনে অনেক দুর্বৃত্ত ঢুকে গেছে: ড. বদিউল আলম ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

এবার বাবাকে ছাড়া ঈদ

অাকাশ বিনোদন ডেস্ক:

রাজ রাজ্জাককে ছাড়া প্রথম ঈদ হচ্ছে লক্ষ্মীকুঞ্জে। আগের মতো সেই আনন্দ নেই। সবার মুখ ভার। সকালে নামাজ থেকে এসে রাজ্জাকের শোয়ার ঘরে ফাঁকা বিছানা দেখে সবার চোখ ভিজে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই নিজেদের সামলে নেন। এরপর কোরবানি দেওয়ার পালা। আজ ২ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথম আলোকে জানালেন রাজ্জাকের ছোট ছেলে চিত্রনায়ক ও নির্মাতা সম্রাট।

সম্রাট বলেন, ‘মাত্র ১২ দিন আগে আব্বাকে হারিয়েছি। ভেবেছিলাম, এবার কোরবানি দেব না। শেষ পর্যন্ত আম্মার অনুরোধে রাজি হয়েছি।’

প্রতিবছর নিজে হাটে গিয়ে গরু কিনতেন রাজ্জাক। হাটে সবাই তাঁকে ঘিরে ধরত। মুহূর্তেই ভিড় জমে যেত। কিন্তু কাজটা উপভোগ করতেন রাজ্জাক। নিজে পছন্দ করে, দরদাম করে তবেই গরু কিনতেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকতেন দুই ছেলে বাপ্পারাজ, সম্রাট আরও অনেকে। ঈদের দিন কোরবানি দেওয়া থেকে শুরু করে সবকিছু নিজেই তদারক করতেন। সম্রাট বললেন, ‘অসুস্থতার জন্য শেষ তিন বছর আব্বা হাটে যেতে পারেননি। আমরাই গিয়েছি। কিন্তু ঈদের দিন তদারকির কাজ ঠিকই করেছেন। মাংস ভাগ ও বণ্টন করতেন। কোন কোন বাসায় যাবে, তার পরিকল্পনা করতেন। চেয়ার পেতে বসে সবকিছু সমন্বয় করতেন। কাছের মানুষ, প্রতিবেশী, গরিব, কেউ যেন কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে খুব খেয়াল রাখতেন।’

ঈদের দিন সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে রাজ্জাক নিজে গিয়ে ছেলেদের ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন। এরপর গোসল সেরে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে আতর-সুরমা মাখতেন। ছেলেদেরও মেখে দিতেন। সবাই মিলে চলে যেতেন মসজিদে। নামাজের পর ছেলেদের সঙ্গে কোলাকুলি করতেন। অন্যদের সঙ্গেও কোলাকুলি করতেন।

রাজ্জাকের প্রিয় খাবার ছিল করলা ভাজি ও ভাত। পছন্দ করতেন দেশি মুরগি আর দেশি মাছ। ঈদের দিনেও টেবিলে থাকত তা। বিরিয়ানি, কাচ্চি কিংবা ভারী খাবারের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ ছিল না। গরুর মাংস তো একেবারেই না। শেষ দিকে মাঝেমধ্যে একটু খেয়েছেন।

আজ সকাল থেকেই গুলশানের লক্ষ্মীকুঞ্জে এসেছেন আত্মীয়স্বজন। ঘুম থেকে উঠে ফজর নামাজ আদায় করে তিন ভাই বাপ্পারাজ, বাপ্পী আর সম্রাট চলে যান বনানী কবরস্থানে। বাবার কবর জিয়ারত করেন। ফিরে এসে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

সম্রাট বলেন, ‘প্রতি দিন সকালে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে চলে যাই আব্বার কবরে। সেখানে অনেকটা সময় কাটাই। আব্বাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের দিন শুরু হয়। আজকের ঈদের দিনও আব্বা আমাদের সঙ্গেই আছেন।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে আগুন

এবার বাবাকে ছাড়া ঈদ

আপডেট সময় ০৮:৩৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৭

অাকাশ বিনোদন ডেস্ক:

রাজ রাজ্জাককে ছাড়া প্রথম ঈদ হচ্ছে লক্ষ্মীকুঞ্জে। আগের মতো সেই আনন্দ নেই। সবার মুখ ভার। সকালে নামাজ থেকে এসে রাজ্জাকের শোয়ার ঘরে ফাঁকা বিছানা দেখে সবার চোখ ভিজে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই নিজেদের সামলে নেন। এরপর কোরবানি দেওয়ার পালা। আজ ২ সেপ্টেম্বর সকালে প্রথম আলোকে জানালেন রাজ্জাকের ছোট ছেলে চিত্রনায়ক ও নির্মাতা সম্রাট।

সম্রাট বলেন, ‘মাত্র ১২ দিন আগে আব্বাকে হারিয়েছি। ভেবেছিলাম, এবার কোরবানি দেব না। শেষ পর্যন্ত আম্মার অনুরোধে রাজি হয়েছি।’

প্রতিবছর নিজে হাটে গিয়ে গরু কিনতেন রাজ্জাক। হাটে সবাই তাঁকে ঘিরে ধরত। মুহূর্তেই ভিড় জমে যেত। কিন্তু কাজটা উপভোগ করতেন রাজ্জাক। নিজে পছন্দ করে, দরদাম করে তবেই গরু কিনতেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকতেন দুই ছেলে বাপ্পারাজ, সম্রাট আরও অনেকে। ঈদের দিন কোরবানি দেওয়া থেকে শুরু করে সবকিছু নিজেই তদারক করতেন। সম্রাট বললেন, ‘অসুস্থতার জন্য শেষ তিন বছর আব্বা হাটে যেতে পারেননি। আমরাই গিয়েছি। কিন্তু ঈদের দিন তদারকির কাজ ঠিকই করেছেন। মাংস ভাগ ও বণ্টন করতেন। কোন কোন বাসায় যাবে, তার পরিকল্পনা করতেন। চেয়ার পেতে বসে সবকিছু সমন্বয় করতেন। কাছের মানুষ, প্রতিবেশী, গরিব, কেউ যেন কোরবানির মাংস থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে খুব খেয়াল রাখতেন।’

ঈদের দিন সকালে ফজরের নামাজ আদায় করে রাজ্জাক নিজে গিয়ে ছেলেদের ঘুম থেকে ডেকে তুলতেন। এরপর গোসল সেরে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরে আতর-সুরমা মাখতেন। ছেলেদেরও মেখে দিতেন। সবাই মিলে চলে যেতেন মসজিদে। নামাজের পর ছেলেদের সঙ্গে কোলাকুলি করতেন। অন্যদের সঙ্গেও কোলাকুলি করতেন।

রাজ্জাকের প্রিয় খাবার ছিল করলা ভাজি ও ভাত। পছন্দ করতেন দেশি মুরগি আর দেশি মাছ। ঈদের দিনেও টেবিলে থাকত তা। বিরিয়ানি, কাচ্চি কিংবা ভারী খাবারের ব্যাপারে তেমন আগ্রহ ছিল না। গরুর মাংস তো একেবারেই না। শেষ দিকে মাঝেমধ্যে একটু খেয়েছেন।

আজ সকাল থেকেই গুলশানের লক্ষ্মীকুঞ্জে এসেছেন আত্মীয়স্বজন। ঘুম থেকে উঠে ফজর নামাজ আদায় করে তিন ভাই বাপ্পারাজ, বাপ্পী আর সম্রাট চলে যান বনানী কবরস্থানে। বাবার কবর জিয়ারত করেন। ফিরে এসে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।

সম্রাট বলেন, ‘প্রতি দিন সকালে মসজিদে ফজরের নামাজ আদায় করে চলে যাই আব্বার কবরে। সেখানে অনেকটা সময় কাটাই। আব্বাকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের দিন শুরু হয়। আজকের ঈদের দিনও আব্বা আমাদের সঙ্গেই আছেন।’