ঢাকা ০৩:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আপত্তি থাকলে আগেই বলুন, বিল পাশের পর বলছেন আমি কিছু বুঝিলাম না:জামায়াত আমিরকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিএনপির উচিত বিতর্কিত কর্মকাণ্ডগুলো ৬ মাসের মধ্যেই শেষ করে ফেলা: সামান্থা খুলনায় ছেলের লাঠির আঘাতে মায়ের মৃত্যু এসএসসির খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষকদের শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা শত্রুতামূলক আচরণ না করলে হরমুজ দিয়ে মার্কিন জাহাজ চলতে পারবে: ইরান লেবাননে কোনো যুদ্ধবিরতি চলছে না, হামলা অব্যাহত থাকবে: নেতানিয়াহু বাংলা নববর্ষ উদযাপন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার ডিএমপির উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি ও দক্ষতা উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদার করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া বর্তমান সরকার জুলাই বিপ্লবের চেতনার বহিঃপ্রকাশ: অ্যাটর্নি জেনারেল ১৬ বছরের দুর্নীতি-লুটপাটে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে: অর্থমন্ত্রী

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আবদুল জব্বার চিরনিদ্রায় শায়িত

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়, জীবনের কাছে হার মেনে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার পর গুণী এই শিল্পীর দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকালে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের হিমঘর থেকে আবদুল জব্বারকে নেওয়া হয় আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্রে। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলির জন্য বেলা সোয়া ১১টায় তাকে নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এ শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর পর ঢাকা জেলার পক্ষ থেকে গার্ড অব দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী আবদুল জব্বারকে। একে একে বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়। শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের অঙ্গসংগঠনগুলোও। ব্যক্তিগতভাবেও শত শত মানুষ প্রতিকূল আবহাওয়া অতিক্রম করে শিল্পীর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি। শ্রদ্ধা জানায় ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, যুবমৈত্রী, ছাত্রলীগ প্রভৃতি সংগঠন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানায়। এ ছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার, উদীচী, খেলাঘর ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব চলে। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আবদুল জব্বারের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—সালাম সালাম হাজার সালাম, তুমি কি দেখেছো কভু, ওরে নীল দরিয়া, পিচ ঢালা এই পথ, এক বুক জ্বালা নিয়ে, বন্ধু তুমি শত্রু তুমি, বিদায় দাও গো বন্ধু তোমরা, তুমি আছো সবই আছে, তুমি আছো সবই আছে, তারা ভরা রাতে, আমি তো বন্ধু মাতাল নই।

আবদুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে তার গান গাওয়া শুরু। তিনি ১৯৬২ সালে চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম গান করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সংগম’-এর গানে কণ্ঠ দেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা জোগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অসংখ্য গানে কণ্ঠ দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হবে ৪ শতাংশ: এডিবি

বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে আবদুল জব্বার চিরনিদ্রায় শায়িত

আপডেট সময় ০৫:৫৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়, জীবনের কাছে হার মেনে রাজধানীর মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী আবদুল জব্বার। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার পর গুণী এই শিল্পীর দাফন সম্পন্ন হয়।

এর আগে সকালে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালের হিমঘর থেকে আবদুল জব্বারকে নেওয়া হয় আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্রে। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাঞ্জলির জন্য বেলা সোয়া ১১টায় তাকে নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এ শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্বের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এর পর ঢাকা জেলার পক্ষ থেকে গার্ড অব দেওয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা শিল্পী আবদুল জব্বারকে। একে একে বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়। শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের অঙ্গসংগঠনগুলোও। ব্যক্তিগতভাবেও শত শত মানুষ প্রতিকূল আবহাওয়া অতিক্রম করে শিল্পীর মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদ, বাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি। শ্রদ্ধা জানায় ছাত্র মৈত্রী, ছাত্র ইউনিয়ন, যুবমৈত্রী, ছাত্রলীগ প্রভৃতি সংগঠন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিল্পীকে শ্রদ্ধা জানায়। এ ছাড়া তথ্য মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, শিল্পকলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগার, উদীচী, খেলাঘর ও গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত শ্রদ্ধাঞ্জলি পর্ব চলে। এর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

আবদুল জব্বারের জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—সালাম সালাম হাজার সালাম, তুমি কি দেখেছো কভু, ওরে নীল দরিয়া, পিচ ঢালা এই পথ, এক বুক জ্বালা নিয়ে, বন্ধু তুমি শত্রু তুমি, বিদায় দাও গো বন্ধু তোমরা, তুমি আছো সবই আছে, তুমি আছো সবই আছে, তারা ভরা রাতে, আমি তো বন্ধু মাতাল নই।

আবদুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে তার গান গাওয়া শুরু। তিনি ১৯৬২ সালে চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম গান করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সংগম’-এর গানে কণ্ঠ দেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা জোগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অসংখ্য গানে কণ্ঠ দেন।