ঢাকা ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বাংলাদেশের অর্থনীতি সহনশীল: এইচএসবিসি ইকোনমিস্ট

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সময়ের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি যেভাবে ধীরে ধীরে আবার সচল হয়ে উঠছে, ঠিক তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা যায়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ‘ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯ অন দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি অ্যান্ড সিলভার লাইনিংস’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে এইচএসবিসির কো-হেড অব এশিয়ান ইকোনমিক্স রিসার্চ ফ্রেডরিক নিউম্যান এ কথা বলেন।

নিউম্যান বলেন, বাংলাদেশ সন্তুষ্টিজনক অর্থনৈতিক সহনশীলতা দেখিয়ে চলেছে। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মূলে ছিল সুদৃঢ় নিয়মানুবর্তিতা, গ্রহণযোগ্য মুদ্রাস্ফীতি ও বহির্গামী পেমেন্টের শক্তিশালী অবস্থান। বৃদ্ধি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বেড়েছে রেমিট্যান্স যা স্থানীয় চাহিদাকে সামাল দিয়েছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার অর্থনীতিকে বেশ ভালোভাবেই মোকাবিলা করেছে। একদিকে পোশাকখাতে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমায় যেমন তৈরি-পোশাকশিল্পে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স হ্রাস পেয়েছে, অপরদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য পড়ে যাওয়ায় এবং আমদানিতে স্থবিরতা আসায় দেশের বাণিজ্যের অবস্থান সহনশীল রয়েছে। স্থানীয় শ্রমবাজারে দৈনন্দিন কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশের কারণে ভোক্তারাও কম খরচ করছেন। উক্ত পরিস্থিতিতে সরকার চাহিদা পূরণে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বাত্মক সহযেগিতা দিয়ে চলেছে।

ভার্চ্যুয়াল ভিডিও সেশনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন।

রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, বিগত দশকে অর্থনৈতিক সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। কোভিড-১৯ প্যানডেমিক উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে কীভাবে একটি টেকসই ও বেসরকারিখাত বান্ধব প্রবৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে যাবে, তা এখন দেখার বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আমি আশা করছি, বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় সংস্থা এইচএসবিসির অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ প্রদত্ত আজকের এ আলোচনা ও দিকনির্দেশনা বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসমূহ ও উদ্যোক্তাদের এ বিশেষ পরিস্থিতি থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল বলেন, এটি সবার জন্যে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। বাংলাদেশ এ পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেছে এক বৃহত্তর শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানে থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সব সহযোগিতা প্রদানে কাজ করে চলেছে। বিশ্বে বাংলাদেশের মানুষকে সবাই সহনশীল এক জাতি হিসেবে চেনে এবং এ জটিল পরিস্থিতিতে আমরা সবাই একসঙ্গে বেরিয়ে আসবো।

স্বাগত বক্তব্যে এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুবউর রহমান বলেন, জনজীবনে অকল্পনীয় কিছু পরিস্থিতি ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে এ কোভিড-১৯ প্যানডেমিক। আর এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এটিই এসময়ের আহ্বান। বলা হয় গভীর কালো রাতের পরও সূর্য ঠিকই উদিত হয়, আর আমি আজকের আলোচনার পর একইভাবে আশাবাদী। নিশ্চই আমরা এ পরিস্থিতি থেকে একসঙ্গেই বেরিয়ে আসবার পথ খুঁজে নেবো।

এছাড়া অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, নিয়ন্ত্রক ও সরকারি সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনীতি সহনশীল: এইচএসবিসি ইকোনমিস্ট

আপডেট সময় ১১:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

সময়ের সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতি যেভাবে ধীরে ধীরে আবার সচল হয়ে উঠছে, ঠিক তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকাও ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করা যায়।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ‘ইমপ্যাক্ট অব কোভিড-১৯ অন দ্য বাংলাদেশ ইকোনমি অ্যান্ড সিলভার লাইনিংস’ শীর্ষক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে এইচএসবিসির কো-হেড অব এশিয়ান ইকোনমিক্স রিসার্চ ফ্রেডরিক নিউম্যান এ কথা বলেন।

নিউম্যান বলেন, বাংলাদেশ সন্তুষ্টিজনক অর্থনৈতিক সহনশীলতা দেখিয়ে চলেছে। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির মূলে ছিল সুদৃঢ় নিয়মানুবর্তিতা, গ্রহণযোগ্য মুদ্রাস্ফীতি ও বহির্গামী পেমেন্টের শক্তিশালী অবস্থান। বৃদ্ধি হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য, বেড়েছে রেমিট্যান্স যা স্থানীয় চাহিদাকে সামাল দিয়েছে।

তিনি বলেন, এ পর্যন্ত বাংলাদেশ কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার অর্থনীতিকে বেশ ভালোভাবেই মোকাবিলা করেছে। একদিকে পোশাকখাতে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমায় যেমন তৈরি-পোশাকশিল্পে রপ্তানি ও রেমিট্যান্স হ্রাস পেয়েছে, অপরদিকে জ্বালানি তেলের মূল্য পড়ে যাওয়ায় এবং আমদানিতে স্থবিরতা আসায় দেশের বাণিজ্যের অবস্থান সহনশীল রয়েছে। স্থানীয় শ্রমবাজারে দৈনন্দিন কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশের কারণে ভোক্তারাও কম খরচ করছেন। উক্ত পরিস্থিতিতে সরকার চাহিদা পূরণে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ব্যাংক সর্বাত্মক সহযেগিতা দিয়ে চলেছে।

ভার্চ্যুয়াল ভিডিও সেশনের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন।

রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন বলেন, বিগত দশকে অর্থনৈতিক সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। কোভিড-১৯ প্যানডেমিক উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে কীভাবে একটি টেকসই ও বেসরকারিখাত বান্ধব প্রবৃদ্ধির পথে দেশ এগিয়ে যাবে, তা এখন দেখার বিষয়।

তিনি আরও বলেন, আমি আশা করছি, বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় সংস্থা এইচএসবিসির অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞ প্রদত্ত আজকের এ আলোচনা ও দিকনির্দেশনা বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসমূহ ও উদ্যোক্তাদের এ বিশেষ পরিস্থিতি থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আহমেদ জামাল বলেন, এটি সবার জন্যে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। বাংলাদেশ এ পরিস্থিতিতে প্রবেশ করেছে এক বৃহত্তর শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানে থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সব সহযোগিতা প্রদানে কাজ করে চলেছে। বিশ্বে বাংলাদেশের মানুষকে সবাই সহনশীল এক জাতি হিসেবে চেনে এবং এ জটিল পরিস্থিতিতে আমরা সবাই একসঙ্গে বেরিয়ে আসবো।

স্বাগত বক্তব্যে এইচএসবিসি বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুবউর রহমান বলেন, জনজীবনে অকল্পনীয় কিছু পরিস্থিতি ও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে এ কোভিড-১৯ প্যানডেমিক। আর এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে এটিই এসময়ের আহ্বান। বলা হয় গভীর কালো রাতের পরও সূর্য ঠিকই উদিত হয়, আর আমি আজকের আলোচনার পর একইভাবে আশাবাদী। নিশ্চই আমরা এ পরিস্থিতি থেকে একসঙ্গেই বেরিয়ে আসবার পথ খুঁজে নেবো।

এছাড়া অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, নিয়ন্ত্রক ও সরকারি সংস্থার সদস্যরা অংশ নেন।