ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গৌরীপুরে যৌতুকের জন্য শুধু স্ত্রীকে নয়, শ্বশুরকেও নির্যাতন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে যৌতুকের টাকার জন্য শুধু স্ত্রীকে নয়, শ্বশুরকেও পিটিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুব আলম। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় নির্যাতিত গৃহবধূ আফরোজা আক্তার রেখা বাদী হয়ে রোববার মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া শ্বশুরবাড়ি থেকে নেয়া যৌতুকের টাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

গৌরীপুর থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় রোববার গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আবদুল কদ্দুছের কন্যা আফরোজা আক্তার রেখার সঙ্গে পাশে গ্রাম পাজুহাটি গ্রামের মো. আবদুর রহিমের পুত্র মো. মাহাবুব আলমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মাহাবুব আলমের ২০১৮ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ধারাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদানের পর যৌতুক ছাড়া তিনি বিয়ে করবেন না বলে আফরোজার পরিবারকে জানিয়ে দেন।

পরে গ্রাম্য মাতাব্বর ও আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে রেখার পরিবার মাহাবুবকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেয়ার পর ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ তাদের বিয়ে হয়। এ যৌতুকের টাকা গ্রহণ ও প্রাপ্তি স্বীকারের একাধিক ভিডিও করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ দিকে যৌতুকলোভী এ পরিবারের একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হন আফরোজা আক্তার রেখা। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে রেখার বাবা আরও একাধিকার যৌতুকের টাকা দিতে বাধ্য হন। পরে আবারও যৌতুকের চাপ দিয়ে স্ত্রীকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন মাহাবুব।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রেখা তার বাবা আবদুল কদ্দুছকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। টাকা ছাড়া যাওয়ায় আবারও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন রেখা। নিজের মেয়েকে বাঁচাতে গেলে তিনিও নির্যাতনের শিকার হন। রেখাকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনা সম্পর্কে মো. মাহাবুব আলমের সঙ্গে মোবাইলে ফোনে এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয়। স্ত্রীর সঙ্গে কী হয়েছে- প্রশ্ন করতেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর কল দিলেও আর রিসিভ করেননি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গৌরীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগম বলেন, যৌতুকের কারণে একজন শিক্ষক এভাবে তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন করতে পারে-তা মেনে নেয়া যায় না। নির্যাতিত নারীর আইনি সহযোগিতা ও অধিকার নিশ্চিতে পাশে থাকবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গৌরীপুরে যৌতুকের জন্য শুধু স্ত্রীকে নয়, শ্বশুরকেও নির্যাতন

আপডেট সময় ০৭:৪৪:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে যৌতুকের টাকার জন্য শুধু স্ত্রীকে নয়, শ্বশুরকেও পিটিয়েছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুব আলম। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় নির্যাতিত গৃহবধূ আফরোজা আক্তার রেখা বাদী হয়ে রোববার মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া শ্বশুরবাড়ি থেকে নেয়া যৌতুকের টাকার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

গৌরীপুর থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় রোববার গৌরীপুর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের রামকৃষ্ণপুর গ্রামের আবদুল কদ্দুছের কন্যা আফরোজা আক্তার রেখার সঙ্গে পাশে গ্রাম পাজুহাটি গ্রামের মো. আবদুর রহিমের পুত্র মো. মাহাবুব আলমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। মাহাবুব আলমের ২০১৮ সালে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ধারাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদানের পর যৌতুক ছাড়া তিনি বিয়ে করবেন না বলে আফরোজার পরিবারকে জানিয়ে দেন।

পরে গ্রাম্য মাতাব্বর ও আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে রেখার পরিবার মাহাবুবকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেয়ার পর ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ তাদের বিয়ে হয়। এ যৌতুকের টাকা গ্রহণ ও প্রাপ্তি স্বীকারের একাধিক ভিডিও করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর মোবাইলে মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ দিকে যৌতুকলোভী এ পরিবারের একাধিকবার নির্যাতনের শিকার হন আফরোজা আক্তার রেখা। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে রেখার বাবা আরও একাধিকার যৌতুকের টাকা দিতে বাধ্য হন। পরে আবারও যৌতুকের চাপ দিয়ে স্ত্রীকে বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন মাহাবুব।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রেখা তার বাবা আবদুল কদ্দুছকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে যান। টাকা ছাড়া যাওয়ায় আবারও শারীরিকভাবে নির্যাতনের শিকার হন রেখা। নিজের মেয়েকে বাঁচাতে গেলে তিনিও নির্যাতনের শিকার হন। রেখাকে উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনা সম্পর্কে মো. মাহাবুব আলমের সঙ্গে মোবাইলে ফোনে এ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হয়। স্ত্রীর সঙ্গে কী হয়েছে- প্রশ্ন করতেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর কল দিলেও আর রিসিভ করেননি।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ গৌরীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মমতাজ বেগম বলেন, যৌতুকের কারণে একজন শিক্ষক এভাবে তার স্ত্রীর ওপর নির্যাতন করতে পারে-তা মেনে নেয়া যায় না। নির্যাতিত নারীর আইনি সহযোগিতা ও অধিকার নিশ্চিতে পাশে থাকবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ।