ঢাকা ০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি এমপি যদি সৎ হন, ঠিকাদারের বাপের সাধ্য নেই চুরি করার: রুমিন ফারহানা ‘ধর্মের নামে ব্যবসা করে যারা নির্বাচনে জিততে চায়, তারা এ দেশে আর কখনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না’:ফারুক পার্থকে ছেড়ে দিলেন বিএনপির প্রার্থী গোলাম নবী গণহত্যার বিচারে ধরনের কম্প্রোমাইজ নয়: প্রসিকিউটর তামিম স্ত্রীর কোনো স্বর্ণ নেই, তাহেরির আছে ৩১ ভরি স্বর্ণ নির্বাচনে ভোট ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটে, সে ব্যবস্থা করতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা ইরানে অর্ধশতাধিক মসজিদ-১৮০ অ্যাম্বুলেন্সে আগুন দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা নির্বাচনে ৩০ আসনে লড়বে এনসিপি: আসিফ মাহমুদ নির্বাচন বানচালে দেশবিরোধী শক্তি অপচেষ্টা ও সহিংসতা চালাচ্ছে : মির্জা আব্বাস

যে বিষয়গুলোর ওপর সরকারের লকডাউন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নির্ভর করছে

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে আগামীকাল থেকে সবকিছু খুলে দেওয়া হচ্ছে। যদিও বলা হচ্ছে যে, সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু খুলে দেওয়া হবে, তবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিধি কজন মানে তা একটি বড় প্রশ্ন। কার্যত এই খুলে দেওয়া একটি ঝুকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং সরকার এই ঝূকিপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিয়েছে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার জন্য। তবে সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, এই সিদ্ধান্তটি একটি টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছে সরকার এবং সরকার যে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছে সেই প্রজ্ঞাপনে ১৫ই জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবত থাকার কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করা হবে এবং সরকার এই দুই সপ্তাহ দেখতে চায় যে পরিস্থিতি কোনদিকে যায়। পরিস্থিতি খুব খারাপ হলে তখন সরকার হয়তো ১৫ই জুনের পর আবার ৭ থেকে ১৫ দিনের জন্য একটি কঠোর লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন যে, এরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার কতগুলো সুনির্দিষ্ট বিষয় মাথায় রাখবে এবং কতগুলো ঘটনা ঘটলেই কেবল তাঁরা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি পূনর্বিবেচনা করতে পারে। যে ঘটনাগুলোর কারণে সরকার সিদ্ধান্তটি পূনর্বিবেচনা করতে পারে বলে সরকারের নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে সেগুলো হলো-

১. জ্যামিতিক হারে যদি আক্রান্ত বাড়ে

বাংলাদেশে এখন আক্রান্ত বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। এই জ্যামিতিক বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়বে। ইতিমধ্যে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই, আইসিইউগুলোতে কোন শয্যা খালি নেই। এই পরিস্থিতি যদি আরো খারাপ হতে থাকে তাহলে সরকার হয়তো আরো কিছুদিনের জন্য আবার লকডাউনের সিদ্ধান্তে ফিরে যেতে পারে।

২. হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বাড়লে

শুধু করোনা রোগী নয়, অন্যান্য রোগীদের জন্য যদি চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায় এবং হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা যদি একেবারে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয় সেক্ষেত্রে সরকার তাঁর যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্ত পূণর্বিবেচনা করতে পারে।

৩. মৃত্যুর হার বেশি হলে

করোনার সঙ্গে বসবাসের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল যুক্তি ছিল যে করোনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম। এই মৃত্যুহার কম থাকার কারণে বাংলাদেশ করোনার সঙ্গে বসবাসের ঝুঁকিটা নিয়েছে। কিন্তু অনেক গবেষকরা বলছেন যে, যদি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে তাহলে মৃত্যুহার সম্পূরকভাবে বাড়বে এবং মৃত্যু হার বাড়লে সেক্ষেত্রে সরকার হয়তো তাঁর সিদ্ধান্ত আবার পূণর্বিবেচনা করতে পারে।

৪. অফিস-আদালতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে

অফিস-আদালতগুলো খুলে দেওয়ার ফলে যে ঝুঁকিটি তৈরি হয়েছে যে অফিস-আদালতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা গেছে। অফিস সীমিত আকারে খুলুক বা বৃহৎ পরিসরে, অফিসে সব এলাকা থেকে লোকজন আসবে এবং সেই লোকজনের সঙ্গে মেলামেশায় সামাজিক দুরত্ব কতটুকু মানা হবে তা একটি বড় প্রশ্ন এবং সেই সামাজিক দুরত্ব না মানা হলে বড় বড় অফিসগুলো করোনার হটস্পটে পরিণত হতে পারে এবং সেগুলোর মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ব্যাপক ভাবে বাড়তে পারে। আর এই রকম ভাবে সংক্রমণ ছড়ালে সরকার হয়তো তাঁর সিদ্ধান্ত পূণর্বিবেচনা করতে পারে।

৫. মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়লে

করোনা নিয়ে ইতিমধ্যে মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে। মানুষ লঞ্চে-বাসে যেভাবে আসছে তাতে তাঁদের করোনা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভয় আছে কিনা সন্দেহ। তাছাড়া একটি কথা বলা হচ্ছে যে, করোনা ধনীদের আক্রান্ত করছে, গরীবদের কিছু হবেনা। এধরণের ঠুনকো যুক্তি দেখিয়ে করোনাকে উপেক্ষা করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে জনগণের মধ্যে। কিন্তু সামনের দিনগুলোতে যদি করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে থাকে এবং গরীব-দরিদ্র বা বস্তিবাসীদের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হবে। এরকম আতঙ্ক তৈরি হলে সরকার হয়তো তাঁর সিদ্ধান্ত পূণর্বিবেচনা করতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সামনের দিনগুলোতে কি হয় তা দেখার উপর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে ইসি

যে বিষয়গুলোর ওপর সরকারের লকডাউন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন নির্ভর করছে

আপডেট সময় ০৮:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে আগামীকাল থেকে সবকিছু খুলে দেওয়া হচ্ছে। যদিও বলা হচ্ছে যে, সীমিত আকারে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবকিছু খুলে দেওয়া হবে, তবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিধি কজন মানে তা একটি বড় প্রশ্ন। কার্যত এই খুলে দেওয়া একটি ঝুকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত এবং সরকার এই ঝূকিপূর্ণ সিদ্ধান্তটি নিয়েছে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখার জন্য। তবে সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, এই সিদ্ধান্তটি একটি টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছে সরকার এবং সরকার যে প্রজ্ঞাপনটি জারি করেছে সেই প্রজ্ঞাপনে ১৫ই জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবত থাকার কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করা হবে এবং সরকার এই দুই সপ্তাহ দেখতে চায় যে পরিস্থিতি কোনদিকে যায়। পরিস্থিতি খুব খারাপ হলে তখন সরকার হয়তো ১৫ই জুনের পর আবার ৭ থেকে ১৫ দিনের জন্য একটি কঠোর লকডাউন বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। সরকারের নীতিনির্ধারকরা বলছেন যে, এরকম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার কতগুলো সুনির্দিষ্ট বিষয় মাথায় রাখবে এবং কতগুলো ঘটনা ঘটলেই কেবল তাঁরা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি পূনর্বিবেচনা করতে পারে। যে ঘটনাগুলোর কারণে সরকার সিদ্ধান্তটি পূনর্বিবেচনা করতে পারে বলে সরকারের নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে সেগুলো হলো-

১. জ্যামিতিক হারে যদি আক্রান্ত বাড়ে

বাংলাদেশে এখন আক্রান্ত বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। এই জ্যামিতিক বৃদ্ধি অব্যহত থাকলে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়বে। ইতিমধ্যে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই, আইসিইউগুলোতে কোন শয্যা খালি নেই। এই পরিস্থিতি যদি আরো খারাপ হতে থাকে তাহলে সরকার হয়তো আরো কিছুদিনের জন্য আবার লকডাউনের সিদ্ধান্তে ফিরে যেতে পারে।

২. হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ বাড়লে

শুধু করোনা রোগী নয়, অন্যান্য রোগীদের জন্য যদি চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায় এবং হাসপাতালগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা যদি একেবারে ভেঙে পড়ার উপক্রম হয় সেক্ষেত্রে সরকার তাঁর যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্ত পূণর্বিবেচনা করতে পারে।

৩. মৃত্যুর হার বেশি হলে

করোনার সঙ্গে বসবাসের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল যুক্তি ছিল যে করোনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার কম। এই মৃত্যুহার কম থাকার কারণে বাংলাদেশ করোনার সঙ্গে বসবাসের ঝুঁকিটা নিয়েছে। কিন্তু অনেক গবেষকরা বলছেন যে, যদি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে তাহলে মৃত্যুহার সম্পূরকভাবে বাড়বে এবং মৃত্যু হার বাড়লে সেক্ষেত্রে সরকার হয়তো তাঁর সিদ্ধান্ত আবার পূণর্বিবেচনা করতে পারে।

৪. অফিস-আদালতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে

অফিস-আদালতগুলো খুলে দেওয়ার ফলে যে ঝুঁকিটি তৈরি হয়েছে যে অফিস-আদালতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা গেছে। অফিস সীমিত আকারে খুলুক বা বৃহৎ পরিসরে, অফিসে সব এলাকা থেকে লোকজন আসবে এবং সেই লোকজনের সঙ্গে মেলামেশায় সামাজিক দুরত্ব কতটুকু মানা হবে তা একটি বড় প্রশ্ন এবং সেই সামাজিক দুরত্ব না মানা হলে বড় বড় অফিসগুলো করোনার হটস্পটে পরিণত হতে পারে এবং সেগুলোর মাধ্যমে করোনার সংক্রমণ ব্যাপক ভাবে বাড়তে পারে। আর এই রকম ভাবে সংক্রমণ ছড়ালে সরকার হয়তো তাঁর সিদ্ধান্ত পূণর্বিবেচনা করতে পারে।

৫. মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়লে

করোনা নিয়ে ইতিমধ্যে মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব দেখা যাচ্ছে। মানুষ লঞ্চে-বাসে যেভাবে আসছে তাতে তাঁদের করোনা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভয় আছে কিনা সন্দেহ। তাছাড়া একটি কথা বলা হচ্ছে যে, করোনা ধনীদের আক্রান্ত করছে, গরীবদের কিছু হবেনা। এধরণের ঠুনকো যুক্তি দেখিয়ে করোনাকে উপেক্ষা করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে জনগণের মধ্যে। কিন্তু সামনের দিনগুলোতে যদি করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে থাকে এবং গরীব-দরিদ্র বা বস্তিবাসীদের মধ্যে করোনা ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হবে। এরকম আতঙ্ক তৈরি হলে সরকার হয়তো তাঁর সিদ্ধান্ত পূণর্বিবেচনা করতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সামনের দিনগুলোতে কি হয় তা দেখার উপর।