ঢাকা ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘মৌলিক জ্ঞান না থাকলে কোচিংয়ে আসা উচিত নয়’:তামিম ইকবাল আপসকামিতা নয়, স্বৈরাচারকে প্রতিহত করার ইতিহাস বিএনপির: জাহিদ হোসেন পটিয়া থানার ২শ গজ সামনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল হবিগঞ্জে হামলার ঘটনায় ১১ জনের নামে এনসিপির মামলা বর্তমান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় মদদে কোনো দুর্নীতি গুম খুন হয়নি হবিগঞ্জে গিয়ে মামলা না করে আমরা ফিরব না: এমপি হাসনাত যুব জামায়াত নেতার কাণ্ড; বিধবা নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাতের অভিযোগ:দল থেকে সদস্যপদ স্থগিত মানবতার মুক্তিতে ইসলামের আদর্শের বিজয়ের বিকল্প নেই: চরমোনাই পীর সব প্রকল্পের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য:জহির উদ্দিন স্বপন হঠাৎ ৬ মুসলিম দেশের যৌথ সামরিক মহড়া, কী বার্তা দিচ্ছে

নিলুফার মঞ্জুর: একজন শিক্ষাব্রতী মানুষ

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনাকালে তার অকাল প্রয়াণে আমাদের চরপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ভাবতেও পারিনি করোনা তাকেও ছুঁয়ে যেতে পারে। সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর নীরবে-নিভৃতে শিক্ষার মশাল হাতে নিয়ে হেঁটে গেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরে।

ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার করে আমাদের শিশুদের মূলভিত্তি শক্ত করার লক্ষ্যে তার এই সানবিমস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিষ্ঠা। প্রচার বিমুখ শিক্ষাব্রতী নিলুফার মঞ্জুর কখনো আত্মপ্রচার চাননি। পরিশ্রম করে গেছেন আপন বিভায়। ঢাকা শহরে যে কয়টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আছে তার মধ্যে সানবিমস আছে প্রথম সারিতে।

তার সাথে আমার পরিচয় খুবই অল্প সময়ের। কিন্তু আন্তরিকতার দৈর্ঘ্যটা অনেক বড়। দুবছর আগে একটি শিক্ষা সম্পূরক অনুষ্ঠানের সেমিনার কক্ষে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

আমি অধ্যক্ষ হামিদা আলীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম- এই বিষয়টি তাকে আকর্ষণ করেছিল। তিনি আমাকে কাছে ডেকে আলাপ করলেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর একটানা কাজ করার পর এখন কোথাও কাজ করছি না শুনে উনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ‘গতিতে জীবন মম, স্থিতিতে মরণ।’

তার বিশুদ্ধ বাচনভঙ্গি এবং আন্তরিকতায় আমি সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা আর শেষ হয়নি। বরং বেড়েই চলেছিল। একদিন হঠাৎ তার ফোন পেলাম,
– ব্যস্ত? কথা বলতে চাই।
আমি বললাম, অবশ্যই ম্যাডাম, বলুন, আমি শুনছি।
– আমার স্কুলে যদি আপনি কাজ করতে চান তো আমি প্রোভাইড করতে পারি।
অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবটি শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকি। তারপর বিস্ময়ের বিহ্বলতা কাটিয়ে বললাম, এটা তো আমার জন্য আনন্দের সংবাদ এবং সৌভাগ্যেরও।
উনি বললেন, না, এটা আপনার যোগ্যতার মূল্যায়নও হতে পারে। এভাবে ভাবতে পারেন।
আমি বললাম, ঠিক আছে, আমি জানাচ্ছি আপনাকে।
উনি বললেন, একদিন সময় করে আমার অফিসে চলে আসেন। কথা বলি। চেনেন তো। ধানমণ্ডি সাতাশ নম্বরে।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের কথা। তারপর তো সময় অসময় হয়ে গেল। করোনার প্রচণ্ড প্রখর উত্তাপে আমরা গৃহবাসী হয়ে গেলাম। তবে ফোনে কথা হয়েছে আমাদের। তার বিশেষ গুণের কারণে, একটুতেই নিলুফার মঞ্জুর আমার স্মৃতিতে সঞ্চরমাণ।

শুনেছি তার স্বামী এবং কন্যা দুজনও করোনায় আক্রান্ত।
হে দয়াময়, তুমি তাদের রক্ষা কর।

লেখক: নাসরীন নঈম, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিলুফার মঞ্জুর: একজন শিক্ষাব্রতী মানুষ

আপডেট সময় ০৯:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনাকালে তার অকাল প্রয়াণে আমাদের চরপাশের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ভাবতেও পারিনি করোনা তাকেও ছুঁয়ে যেতে পারে। সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর নীরবে-নিভৃতে শিক্ষার মশাল হাতে নিয়ে হেঁটে গেছেন সমাজের বিভিন্ন স্তরে।

ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষা বিস্তার করে আমাদের শিশুদের মূলভিত্তি শক্ত করার লক্ষ্যে তার এই সানবিমস ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের প্রতিষ্ঠা। প্রচার বিমুখ শিক্ষাব্রতী নিলুফার মঞ্জুর কখনো আত্মপ্রচার চাননি। পরিশ্রম করে গেছেন আপন বিভায়। ঢাকা শহরে যে কয়টি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আছে তার মধ্যে সানবিমস আছে প্রথম সারিতে।

তার সাথে আমার পরিচয় খুবই অল্প সময়ের। কিন্তু আন্তরিকতার দৈর্ঘ্যটা অনেক বড়। দুবছর আগে একটি শিক্ষা সম্পূরক অনুষ্ঠানের সেমিনার কক্ষে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

আমি অধ্যক্ষ হামিদা আলীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলাম- এই বিষয়টি তাকে আকর্ষণ করেছিল। তিনি আমাকে কাছে ডেকে আলাপ করলেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর একটানা কাজ করার পর এখন কোথাও কাজ করছি না শুনে উনি বিস্ময় প্রকাশ করে বললেন, ‘গতিতে জীবন মম, স্থিতিতে মরণ।’

তার বিশুদ্ধ বাচনভঙ্গি এবং আন্তরিকতায় আমি সেদিন মুগ্ধ হয়েছিলাম। সেই মুগ্ধতা আর শেষ হয়নি। বরং বেড়েই চলেছিল। একদিন হঠাৎ তার ফোন পেলাম,
– ব্যস্ত? কথা বলতে চাই।
আমি বললাম, অবশ্যই ম্যাডাম, বলুন, আমি শুনছি।
– আমার স্কুলে যদি আপনি কাজ করতে চান তো আমি প্রোভাইড করতে পারি।
অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাবটি শুনে কিছুক্ষণ চুপ থাকি। তারপর বিস্ময়ের বিহ্বলতা কাটিয়ে বললাম, এটা তো আমার জন্য আনন্দের সংবাদ এবং সৌভাগ্যেরও।
উনি বললেন, না, এটা আপনার যোগ্যতার মূল্যায়নও হতে পারে। এভাবে ভাবতে পারেন।
আমি বললাম, ঠিক আছে, আমি জানাচ্ছি আপনাকে।
উনি বললেন, একদিন সময় করে আমার অফিসে চলে আসেন। কথা বলি। চেনেন তো। ধানমণ্ডি সাতাশ নম্বরে।

জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের কথা। তারপর তো সময় অসময় হয়ে গেল। করোনার প্রচণ্ড প্রখর উত্তাপে আমরা গৃহবাসী হয়ে গেলাম। তবে ফোনে কথা হয়েছে আমাদের। তার বিশেষ গুণের কারণে, একটুতেই নিলুফার মঞ্জুর আমার স্মৃতিতে সঞ্চরমাণ।

শুনেছি তার স্বামী এবং কন্যা দুজনও করোনায় আক্রান্ত।
হে দয়াময়, তুমি তাদের রক্ষা কর।

লেখক: নাসরীন নঈম, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজ