ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

আরও শান্ত ঢাকা

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঈদের ছুটিতে প্রতিবারই প্রাণের শহর ঢাকা দেখা দেয় অচেনা রূপে। যানজট কোলাহলের একঘেয়ে রাজধানী হয়ে যায় ফাঁকা আর দূষণমুক্ত। কিন্তু এবার যেন সে চিত্র আরও বেশি করে ফুটে উঠে প্রাণের শহর রূপ নিয়েছে সুনশান নগরীর।

শহরের মহাসড়কগুলোতে তাকালে এখন যতদূর দৃষ্টি যায়, শুধু জনশূন্যতা। রাস্তায় নেই কোনো মানুষ বা যানবাহন। দীর্ঘ লকডাউন পরিস্থিতি, সাধারণ ছুটি আর ঈদের আমেজ ঢাকাকে দিয়েছে নতুন প্রাণ, করেছে শান্ত আর প্রাণবন্ত।

মানুষের ঘরবন্দির এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে নগরের প্রকৃতি যেন মেলে ধরেছে নিজেদের। ফাঁকা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজধানী সেজেছে নানা রং-রূপে। দূষণহীন নগরীর আনাচে-কানাচে উঁকি দিচ্ছে গ্রীষ্মের নানা রঙের ফুল। একইসঙ্গে পাখিদের কিচিরমিচিরও প্রকৃতিতে প্রাণ ফেরার কথাই জানান দিচ্ছে।

ধুলাবালির আবরণ না থাকায় এখন যেন নগরীর সড়কের পাশের বিভিন্ন ফুলের সৌন্দর্য অন্য সময়ের থেকে অনেকটাই বেশি। কিন্তু সেই সৌন্দর্য দেখবার যেন কেউ নেই। একটা সময় বিভিন্ন মৌসুমের ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে মানুষের যে ভিড় থাকতো বিভিন্ন স্পটে, তার বিন্দুমাত্র নেই এখন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা। করোনার মধ্যে এবারের ঈদ হওয়ায় শহরের বেশির ভাগ মানুষই দিনের প্রথম অংশে ঘর থেকে বের হয়নি।
আরও শান্ত ঢাকা,ঈদের সময় রাজধানীর রাস্তাঘাট এমনিতেই ফাঁকা দেখা যায়। স্বাভাবিক অবস্থার মতো থাকে না যানজট। তবে করোনার প্রভাবে রাস্তাঘাট এবার আরও বেশি ফাঁকা।

স্বাভাবিক সময়ে নগরবাসী ঈদের পরদিন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে যেতেন। কেউবা পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্রে যেতেন। কিন্তু করোনা সে পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। এবার নিজ বাসায় শুধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই ঈদ উদযাপন করেছে রাজধানীবাসী।

রাজধানীর ভিআইপি রোডে বিনা বাধায় চলাচল করছে রিকশা, বাইসাইকেল। ছুটিতে কিছুটা বিশ্রাম পেয়ে যেন রাজপথও স্বল্পসংখ্যক যানবাহনের চালককে দিয়েছে ইচ্ছেমত চলার স্বাধীনতা। যাত্রী কম থাকলেও নির্ঝঞ্ঝাট রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে আরাম পাচ্ছেন চালকরা।

লকডাউন ও ঈদের আমেজে রাজধানীর অধিকাংশ দোকানেই তালা ঝুলতে দেখা গেছে। সাধারণ যানবাহন বন্ধ থাকায় গাড়ির চাপ ও সিগন্যালের কড়াকড়ি না থাকার ফলে রাস্তা পারের অবাধ সুখ নাগরিকের মনে। বাস্তবে সম্ভব না হলেও মাঝে মাঝেই ঢাকাকে এমন ফাঁকা দেখতে চান নগরবাসী।

একুশ শতকের প্রথম মহামারি করোনা এসে বদলে দিয়েছে রাজধানীর দৃশ্যপট। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেকেই ঢাকাকে একা ফেলে গ্রামে চলে গেছেন। আর যারা শহরে আছেন, তারাও স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি। আর সে সুযোগেই দূষণ কমে ঢাকার বাতাসের মান এখন গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন তথ্য: অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

আরও শান্ত ঢাকা

আপডেট সময় ০৭:৩৮:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ঈদের ছুটিতে প্রতিবারই প্রাণের শহর ঢাকা দেখা দেয় অচেনা রূপে। যানজট কোলাহলের একঘেয়ে রাজধানী হয়ে যায় ফাঁকা আর দূষণমুক্ত। কিন্তু এবার যেন সে চিত্র আরও বেশি করে ফুটে উঠে প্রাণের শহর রূপ নিয়েছে সুনশান নগরীর।

শহরের মহাসড়কগুলোতে তাকালে এখন যতদূর দৃষ্টি যায়, শুধু জনশূন্যতা। রাস্তায় নেই কোনো মানুষ বা যানবাহন। দীর্ঘ লকডাউন পরিস্থিতি, সাধারণ ছুটি আর ঈদের আমেজ ঢাকাকে দিয়েছে নতুন প্রাণ, করেছে শান্ত আর প্রাণবন্ত।

মানুষের ঘরবন্দির এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে নগরের প্রকৃতি যেন মেলে ধরেছে নিজেদের। ফাঁকা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাজধানী সেজেছে নানা রং-রূপে। দূষণহীন নগরীর আনাচে-কানাচে উঁকি দিচ্ছে গ্রীষ্মের নানা রঙের ফুল। একইসঙ্গে পাখিদের কিচিরমিচিরও প্রকৃতিতে প্রাণ ফেরার কথাই জানান দিচ্ছে।

ধুলাবালির আবরণ না থাকায় এখন যেন নগরীর সড়কের পাশের বিভিন্ন ফুলের সৌন্দর্য অন্য সময়ের থেকে অনেকটাই বেশি। কিন্তু সেই সৌন্দর্য দেখবার যেন কেউ নেই। একটা সময় বিভিন্ন মৌসুমের ফুলের সঙ্গে ছবি তুলতে মানুষের যে ভিড় থাকতো বিভিন্ন স্পটে, তার বিন্দুমাত্র নেই এখন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঈদের দ্বিতীয় দিনে রাজধানী অনেকটাই ফাঁকা। করোনার মধ্যে এবারের ঈদ হওয়ায় শহরের বেশির ভাগ মানুষই দিনের প্রথম অংশে ঘর থেকে বের হয়নি।
আরও শান্ত ঢাকা,ঈদের সময় রাজধানীর রাস্তাঘাট এমনিতেই ফাঁকা দেখা যায়। স্বাভাবিক অবস্থার মতো থাকে না যানজট। তবে করোনার প্রভাবে রাস্তাঘাট এবার আরও বেশি ফাঁকা।

স্বাভাবিক সময়ে নগরবাসী ঈদের পরদিন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতে যেতেন। কেউবা পার্ক বা বিনোদন কেন্দ্রে যেতেন। কিন্তু করোনা সে পরিস্থিতি পাল্টে দিয়েছে। এবার নিজ বাসায় শুধু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই ঈদ উদযাপন করেছে রাজধানীবাসী।

রাজধানীর ভিআইপি রোডে বিনা বাধায় চলাচল করছে রিকশা, বাইসাইকেল। ছুটিতে কিছুটা বিশ্রাম পেয়ে যেন রাজপথও স্বল্পসংখ্যক যানবাহনের চালককে দিয়েছে ইচ্ছেমত চলার স্বাধীনতা। যাত্রী কম থাকলেও নির্ঝঞ্ঝাট রাস্তায় গাড়ি চালিয়ে আরাম পাচ্ছেন চালকরা।

লকডাউন ও ঈদের আমেজে রাজধানীর অধিকাংশ দোকানেই তালা ঝুলতে দেখা গেছে। সাধারণ যানবাহন বন্ধ থাকায় গাড়ির চাপ ও সিগন্যালের কড়াকড়ি না থাকার ফলে রাস্তা পারের অবাধ সুখ নাগরিকের মনে। বাস্তবে সম্ভব না হলেও মাঝে মাঝেই ঢাকাকে এমন ফাঁকা দেখতে চান নগরবাসী।

একুশ শতকের প্রথম মহামারি করোনা এসে বদলে দিয়েছে রাজধানীর দৃশ্যপট। সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অনেকেই ঢাকাকে একা ফেলে গ্রামে চলে গেছেন। আর যারা শহরে আছেন, তারাও স্বেচ্ছায় ঘরবন্দি। আর সে সুযোগেই দূষণ কমে ঢাকার বাতাসের মান এখন গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে।