অসহায়ের আর্তনাদে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে

95

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে করোনা ভাইরাস বিষয়ক সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যেও কাজ করে যাচ্ছেন তারা।

ধারাবাহিকতায় বরিশালে টানা ২ মাসের অধিক সময় ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্টেটগণ কোনো ধরনের ছুটিছাটাও ভোগ করেননি। কেউ স্বজনদের দূরে রেখে কর্মস্থলে রয়েছেন, আবার কারো পরিবার কাছে থাকলেও কর্মব্যস্ততার কারণে পারছেন না তাদের আগের মতো সময় দিতে। আর এসবের মধ্যেই একটি ঈদ পার করে দিলেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ। যাদের অনেকেরই ঈদে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র ভরসা ছিলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মোবাইল ফোন।

বরিশাল জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাজমুল হূদাকে ফেসবুকের (সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম) মাধ্যমে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) দিবাগত রাতে ভবিষ্যত সুন্দর পৃথিবীর কামনায় ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেওয়া তার আবেগঘন স্ট্যটাসটি তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না” ভূপেন হাজারিকার সেই বিখ্যাত গান।

আহা! কি আবেদন সে গানের। যে গানে আর্তি ফুটে উঠেছে মানবতার। যুগ যুগ ধরে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সকল হিসেব-নিকেশ, জাত-ভেদ, বিভেদ ভুলে।

আমিও মানুষ। আমারও মন কেঁদে ওঠে, বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে ওঠে অসহায়ের আর্তনাদে।

মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অদম্য স্পৃহা আর মানব সেবার মহান ব্রত নিয়ে প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে যুক্ত হই পাবলিক সার্ভিসে। দায়িত্ব গ্রহণের ১ম দিন থেকেই চেষ্টা করেছি আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে।

করোনায় যখন সারা বিশ্ববাসী অস্থির, আতঙ্কগ্রস্ত। যখন ঘরে থাকাই নিরাপদ থাকার প্রধান নিয়ামক তখনও নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে নিয়মিত মাঠে থেকেছি, দায়িত্ব পালন করেছি দিনের পর দিন। আমি চেয়েছি যে জনগণের টাকায় আমার বেতন হয় সে জনগণ যেন ভাল থাকে, নিরাপদে থাকে। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। নিয়ম ভাঙা মানুষকে যথাসাধ্য বুঝিয়ে শোধরাবার চেষ্টা করেছি। উদ্দেশ্য একটাই ভাল থাকুক বরিশালবাসী, ভাল থাকুক বাংলাদেশ।

আমার নব পরিণীতা স্ত্রী, আমার বাবা, নাড়িছেঁড়া ধনকে ভেবে ভেবে অশ্রু বিসর্জন দেওয়া আমার বৃদ্ধা মা-আমার ভালোতে যাদের আনন্দ। যারা আমাকে নিরাপদে দেখতে চায়, কাছে পেতে চায়। তাদের সকল আবেগ উপেক্ষা করে শতমাইল দূরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি শুধু দায়িত্ববোধ আর কর্তব্যনিষ্ঠা থেকে।

দেশপ্রেমের মহানব্রত নিয়ে যে পথচলা শুরু করেছি। মানবতার কল্যাণে সে সংগ্রাম চলবে আমৃত্যু।

বিশ্বাস রাখি, করোনার এ দুর্যোগ কাটিয়ে পৃথিবী আবারো ফিরে পাবে তার চিরচেনা রূপ। আবারো আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে হাসবো, প্রাণোচ্ছল পৃথিবীতে আবারো গায়ে মাখাবো সুস্থ পৃথিবীর মিষ্টি রোদ। আবারো শান্ত-শীতল হাওয়ায় বুক ভরে নিঃশ্বাস নেবো আপনি, আমি, আমরা মিলে।

সে কাঙ্ক্ষিত সময়টা পর্যন্ত প্লিজ ঘরে থাকুন। আর আপনাদের নিরাপদ পথচলা, আপনাদের অধিকার নিশ্চিতকল্পে আমরা মাঠেই আছি।

সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা।
“ঈদ মোবারক”