ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চাঁদাবাজদের তালিকা হচ্ছে : র‍্যাব ইরানের দাবি- জব্দ অর্থ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র, অস্বীকার ওয়াশিংটনের ‘বিচার বিভাগের হৃৎপিণ্ডে হাত দিয়েছে সরকার যা সর্বনাশ ডেকে আনবে’:বিচারপতি মতিন ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে জনগণের কথা ভুলে গেছে বিএনপি: নাহিদ ইসলাম ন্যায্য অধিকারকে স্বীকৃতি দিলে চুক্তির জন্য প্রস্তুত তেহরান:যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আনা হবে ঢাকায় আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ছিলেন, তারা মনোনয়ন পাবেন: রিজভী পরীক্ষায় তুমিও ফেল, ছয়মাস পর আমিও ফেল: শিক্ষামন্ত্রী যুদ্ধবিরতি হলেও জ্বালানি সংকট থাকবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

আম্পান: বাগেরহাটে সাড়ে ৪ হাজার কাঁচাঘর বিধ্বস্ত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাগেরহাটে ৪ হাজার ৬৮৬টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। মাঠে থাকা সবজি, আমনের বীজতলা, পাকা ধানসহ ১৭শ’ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

এতে কৃষকদের সাড়ে ৬ কোটি ৪০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত ঘরগুলোর মধ্যে চার হাজার ৩৩৯টি ঘর আংশিক এবং ৩৪৭টি ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী, নগদ টাকা ও টিন বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

এছাড়া বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার বগী-গবতলা, দক্ষিণ সাউথখালী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪ হাজার ৬৩৭টি মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শরণখোলার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বগী, গাবতলা, চালিতাবুনিয়া, খুড়িয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে জোয়ারের সময়ও বাঁধের ভাঙা অংশ নিয়ে নতুন করে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। এছাড়া জেলার সদর উপজেলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বগী-গাবতলা এলাকার অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি রয়েছে।

দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামের জাহাঙ্গির হাওলাদার ও ফারুক মল্লিক বলেন, রাতে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করে লোকালয়ে। বাঁধের ভেতরে থাকা দোকান এবং এলাকার অনেকের ঘর ডুবে গেছে। কারও কারও ঘরের মাঝখানের মাটি পানির সঙ্গে ভেসে গেছে। অনেকর ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে।

এর বাইরে বাগেরহাট সদরের ভৈরব ও দড়াটানা নদীর তীরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি স্থানে নদী সংলগ্ন সড়ক ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকছে। এতে জোয়ারের সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ছে কয়েক হাজার মানুষ। রান্নার জন্য চুলা জালানোর মত অবস্থাও নেই ওই সব এলাকায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, বাগেরহাট জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩০০ মিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ এবং ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শরণখোলায় বলেশ্বর তীরে বাঁধের সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত নতুন একটি রিং বাঁধ নির্মাণ কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য বাঁধগুলোও দ্রুত সংস্কার করা হবে।

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে আম্পান পরবর্তী সময়ে মোরেলগঞ্জ শরণখোলাসহ জেলার সব উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবার খাদ্য সহায়তা এবং ৫০টি পরিবারকে ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

চাঁদাবাজদের তালিকা হচ্ছে : র‍্যাব

আম্পান: বাগেরহাটে সাড়ে ৪ হাজার কাঁচাঘর বিধ্বস্ত

আপডেট সময় ০৯:৫৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাগেরহাটে ৪ হাজার ৬৮৬টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। মাঠে থাকা সবজি, আমনের বীজতলা, পাকা ধানসহ ১৭শ’ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

এতে কৃষকদের সাড়ে ৬ কোটি ৪০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত ঘরগুলোর মধ্যে চার হাজার ৩৩৯টি ঘর আংশিক এবং ৩৪৭টি ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী, নগদ টাকা ও টিন বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

এছাড়া বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার বগী-গবতলা, দক্ষিণ সাউথখালী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪ হাজার ৬৩৭টি মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শরণখোলার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বগী, গাবতলা, চালিতাবুনিয়া, খুড়িয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে জোয়ারের সময়ও বাঁধের ভাঙা অংশ নিয়ে নতুন করে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। এছাড়া জেলার সদর উপজেলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বগী-গাবতলা এলাকার অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি রয়েছে।

দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামের জাহাঙ্গির হাওলাদার ও ফারুক মল্লিক বলেন, রাতে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করে লোকালয়ে। বাঁধের ভেতরে থাকা দোকান এবং এলাকার অনেকের ঘর ডুবে গেছে। কারও কারও ঘরের মাঝখানের মাটি পানির সঙ্গে ভেসে গেছে। অনেকর ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে।

এর বাইরে বাগেরহাট সদরের ভৈরব ও দড়াটানা নদীর তীরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি স্থানে নদী সংলগ্ন সড়ক ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকছে। এতে জোয়ারের সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ছে কয়েক হাজার মানুষ। রান্নার জন্য চুলা জালানোর মত অবস্থাও নেই ওই সব এলাকায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, বাগেরহাট জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩০০ মিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ এবং ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শরণখোলায় বলেশ্বর তীরে বাঁধের সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত নতুন একটি রিং বাঁধ নির্মাণ কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য বাঁধগুলোও দ্রুত সংস্কার করা হবে।

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে আম্পান পরবর্তী সময়ে মোরেলগঞ্জ শরণখোলাসহ জেলার সব উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবার খাদ্য সহায়তা এবং ৫০টি পরিবারকে ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে।