ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

আম্পান: বাগেরহাটে সাড়ে ৪ হাজার কাঁচাঘর বিধ্বস্ত

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাগেরহাটে ৪ হাজার ৬৮৬টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। মাঠে থাকা সবজি, আমনের বীজতলা, পাকা ধানসহ ১৭শ’ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

এতে কৃষকদের সাড়ে ৬ কোটি ৪০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত ঘরগুলোর মধ্যে চার হাজার ৩৩৯টি ঘর আংশিক এবং ৩৪৭টি ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী, নগদ টাকা ও টিন বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

এছাড়া বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার বগী-গবতলা, দক্ষিণ সাউথখালী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪ হাজার ৬৩৭টি মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শরণখোলার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বগী, গাবতলা, চালিতাবুনিয়া, খুড়িয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে জোয়ারের সময়ও বাঁধের ভাঙা অংশ নিয়ে নতুন করে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। এছাড়া জেলার সদর উপজেলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বগী-গাবতলা এলাকার অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি রয়েছে।

দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামের জাহাঙ্গির হাওলাদার ও ফারুক মল্লিক বলেন, রাতে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করে লোকালয়ে। বাঁধের ভেতরে থাকা দোকান এবং এলাকার অনেকের ঘর ডুবে গেছে। কারও কারও ঘরের মাঝখানের মাটি পানির সঙ্গে ভেসে গেছে। অনেকর ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে।

এর বাইরে বাগেরহাট সদরের ভৈরব ও দড়াটানা নদীর তীরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি স্থানে নদী সংলগ্ন সড়ক ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকছে। এতে জোয়ারের সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ছে কয়েক হাজার মানুষ। রান্নার জন্য চুলা জালানোর মত অবস্থাও নেই ওই সব এলাকায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, বাগেরহাট জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩০০ মিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ এবং ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শরণখোলায় বলেশ্বর তীরে বাঁধের সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত নতুন একটি রিং বাঁধ নির্মাণ কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য বাঁধগুলোও দ্রুত সংস্কার করা হবে।

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে আম্পান পরবর্তী সময়ে মোরেলগঞ্জ শরণখোলাসহ জেলার সব উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবার খাদ্য সহায়তা এবং ৫০টি পরিবারকে ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কী কারণে ভাঙছে তাহসান-রোজার সংসার

আম্পান: বাগেরহাটে সাড়ে ৪ হাজার কাঁচাঘর বিধ্বস্ত

আপডেট সময় ০৯:৫৪:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে বাগেরহাটে ৪ হাজার ৬৮৬টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। মাঠে থাকা সবজি, আমনের বীজতলা, পাকা ধানসহ ১৭শ’ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।

এতে কৃষকদের সাড়ে ৬ কোটি ৪০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিধ্বস্ত ঘরগুলোর মধ্যে চার হাজার ৩৩৯টি ঘর আংশিক এবং ৩৪৭টি ঘর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী, নগদ টাকা ও টিন বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

এছাড়া বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার বগী-গবতলা, দক্ষিণ সাউথখালী এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৪ হাজার ৬৩৭টি মাছের ঘের ভেসে গেছে। এতে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

শরণখোলার বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বগী, গাবতলা, চালিতাবুনিয়া, খুড়িয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে জোয়ারের সময়ও বাঁধের ভাঙা অংশ নিয়ে নতুন করে পানি ঢুকেছে লোকালয়ে। এছাড়া জেলার সদর উপজেলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বগী-গাবতলা এলাকার অনেক পরিবার এখনও পানিবন্দি রয়েছে।

দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামের জাহাঙ্গির হাওলাদার ও ফারুক মল্লিক বলেন, রাতে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকতে শুরু করে লোকালয়ে। বাঁধের ভেতরে থাকা দোকান এবং এলাকার অনেকের ঘর ডুবে গেছে। কারও কারও ঘরের মাঝখানের মাটি পানির সঙ্গে ভেসে গেছে। অনেকর ঘরের টিনের চালা উড়ে গেছে।

এর বাইরে বাগেরহাট সদরের ভৈরব ও দড়াটানা নদীর তীরের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি স্থানে নদী সংলগ্ন সড়ক ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকছে। এতে জোয়ারের সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ছে কয়েক হাজার মানুষ। রান্নার জন্য চুলা জালানোর মত অবস্থাও নেই ওই সব এলাকায়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বাগেরহাট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান বলেন, বাগেরহাট জেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩০০ মিটার বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ এবং ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শরণখোলায় বলেশ্বর তীরে বাঁধের সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত অংশে দ্রুত নতুন একটি রিং বাঁধ নির্মাণ কার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অন্য বাঁধগুলোও দ্রুত সংস্কার করা হবে।

জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ বলেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে আম্পান পরবর্তী সময়ে মোরেলগঞ্জ শরণখোলাসহ জেলার সব উপজেলায় ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ পরিবার খাদ্য সহায়তা এবং ৫০টি পরিবারকে ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে।