আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
স্ত্রী মুড়ি ভাজেন, পাশেই চেয়ারে বসে ফ্যাল ফ্যাল করে চেয়ে থাকেন বৃদ্ধ জাবেদ আলী শেখ (৮৮)। মুড়ি ভেজে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করা টাকায় বাজার করবেন স্ত্রী মোমেনা খাতুন, তবেই জুটবে ওই দম্পতির খাওয়ার!
মুড়ি বিক্রি না হলে বা পাওনাদারকে টাকা দিলে মাঝে মধ্যেই না খেয়ে থাকতে হয় তাদের। তবুও কারো কাছে হাত পাতেন না।
করোনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে জাবেদ আলী-মোমেনা খাতুন দম্পতির জীবন-জীবিকা। মুড়ি বিক্রি কমে গেছে। করোনা ভাইরাসের ভয়ে কেউ কিনতে চায় না মুড়ি। তাই অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের দাঁথিয়া কয়রাপাড়া গ্রামের এই অসহায় বৃদ্ধ দম্পতির।
প্রতিবেশীরা খোঁজ নিলে তবেই তাদের ভাগ্যে জোটে খাবার, নয়তো অনাহারেই থাকতে হয় দিনের পর দিন!
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর মুড়ি বিক্রি প্রায় বন্ধের পথে। তবুও জীবন ধারণের জন্য অল্প কিছু চাল নিয়ে চুলায় মুড়ি ভাজছেন মোমেনা খাতুন। যদি ভাজা মুড়ি বিক্রি করতে পারেন তবেই বাজার করবেন।
বৃদ্ধ ওই দম্পতির বাড়িতে নেই কোনো টিউবওয়েল-টয়লেট। প্রাকৃতিক কাজ সারেন অন্যের বাড়িতে। কয়েক বছর আগে স্থানীয় এক নারী ইউপি সদস্যকে দিয়ে একটি ভাতার কার্ড করিয়ে নিয়েছিলেন মোমেনা খাতুন। আর করোনা পরিস্থিতি শুরু হওয়ার পর তাদের দুরবস্থা দেখে মাস দেড়েক আগে স্থানীয় ইউপি সদস্য সরকারি ত্রাণের ১০ কেজি চাল দিয়েছেন। এছাড়া আর কোনো সহযোগিতা মেলেনি তাদের।
এদিকে একমাত্র মেয়ে জায়েদা খাতুনকে বিয়ে দিয়েছিলেন ঋণ করে। মেয়ের বিয়ে দেয়ার সময় করা ঋণের টাকা শোধ করতে গিয়ে শেষ সম্বল বাড়িটাও লিটন হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করেছেন। কিন্তু স্বামী মারা যাওয়ায় মেয়ের কপালেও সুখ সয়নি। তবে বাড়ি বিক্রির সময় শর্ত ছিল তারা (বৃদ্ধ দম্পতি) মারা না যাওয়া পর্যন্ত ওই বাড়ি দখলে যাবেন না লিটন।
অন্যদিকে গ্রামীণ ব্যাংক ও স্থানীয় একটি সমবায় সমিতি থেকে নেয়া ঋণের বোঝায় ক্লান্ত বৃদ্ধ দম্পতি। প্রতি সপ্তাহে তাদের কিস্তি দিতে হয় ৭০০ টাকা। তাদের করুণ অবস্থা দেখে প্রতিবেশীরা মাঝে মধ্যে সহযোগিতা করলেও তা অপ্রতুল। অর্ধাহারে-অনাহারে অসহায় জীবন যাপন করছেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি।
মোমেনা খাতুন আক্ষেপের সুরে বলেন, খালি ১০ কেজি চাল দিয়ে কী হয়? মুড়িও এখন কেউ নিতে চায় না। মুড়ি বিক্রি না হলে খাব কী? খালি কী তাই, বাড়িত নাই কোনো টিউবওয়েল-টয়লেট। বয়স হইছে, অন্যের বাড়িত যাইতে শরম করে! আর কতো কষ্ট করব, আমরা বড় অভাগা। মরে গেলেই বেঁচে যেতাম।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন বলেন, সত্যিই তারা (জাবেদ-মোমেনা) খুব কষ্টে থাকে। আমি সাধ্য মতো সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তবে সরকারি সহযোগিতা পেলে তাদের উপকার হয়।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























