আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সর্বশেষ নির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, করোনা ভাইরাসের এ পরিস্থিতে আমাদের জীবন ও জীবিকা থামিয়ে রাখা যাবে না। করোনাকে ম্যানেজ করেই এগিয়ে যেতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাজধানীর বনানীর একটি বিদ্যালয়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
অঘোষিত ‘লকডডাউন’ শিথিল করে মার্কেট খোলা রাখার, মসজিদে নামাজ আদায়ের অনুমতি দিয়েছে সরকার। আর গার্মেন্টস তো আগেই খুলেছে। সরকারে এ শিথিলতার ঘোষণা আসায় দু’দিন ধরে রাজধানীর সড়কে বেড়ে গেছে গাড়ির সংখ্যা। রীতিমত জ্যাম বাঁধছে। ব্যস্ততা দেখা গেছে ট্রাফিক পুলিশদেরও।
আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাস্ক আমাদের পরতেই হবে। অযথা ঘোরাঘুরি করতে পারবেন না। কোথাও আড্ডা দিতে পারবেন না। যেখানেই যাবেন, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।’
‘আমাদের জীবন ও জীবিকা কিন্তু থামিয়ে রাখা যাবে না। জীবিকা যেমন চলতে হবে, তেমনি আমাদের সুরক্ষা রেখে সব কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা করোনাকে ম্যানেজ করে, করোনাকে জয় করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো। এছাড়াও গুজবে কান দেওয়া যাবে না।’
ডিএনসিসির সাবেক মেয়র আনিসুক হক মৃত্যুবরণ করলে সে আসনের উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয় পেয়ে নগরপিতা বনে যান আতিকুল ইসলাম। এরপর মেয়াদ ঘনিয়ে এলে সাধারণ নির্বাচনেও নৌকা প্রতীকে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র পদে জয়লাভ করেন এ গার্মেন্টস ব্যবসায়ী নেতা।
ডিএনসিসির মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ১৩ মে। যে কারণে এখনো মেয়র পদে নির্বাচিত হলেও দায়িত্ব বুঝে নিতে পারেননি তিনি। আগামী ১৪ মে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা রয়েছে। ওইদিন দায়িত্ব নিয়ে প্রথম সভা করলে তার পরবর্তী পাঁচ বছর হবে করপোরেশনের পরবর্তী মেয়াদকাল।
দায়িত্ব নিয়েই আগামী ১৬ মে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিরুনী অভিযান করার কথা জানালেন আতিকুল ইসলাম।
আতিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে কিন্তু এডিশ মশার সমস্যাটা এসেছে। উন্নয়নশীল দেশ যারা আছে, তাদের মধ্যে আমাদের যে কন্ট্রাকশনের কাজ হচ্ছে, বাসা-বাড়ি, মেট্রোরেল থেকে শুরু করে যেসব কনস্ট্রাকশন হচ্ছে, আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, কোথাও যেন পানি জমে না থাকে।
তিনি বলেন, জমে থাকা পানিতেই জন্ম নিচ্ছে এডিস মশা। তাই আমাদের স্লোগান দরকার-তিন দিনে একদিন, জমা পানি ফেলে দিন। আসুন আমরা নিজেদের আঙ্গিণা পরিষ্কার করি।
করোনায় বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকদের উদ্দ্যেশে আতিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দিয়ে পরিষ্কার করুন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বন্ধটা একটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু আমাদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। আমরা ঘরে বসে থাকতে পারবো না। আগামী ১৬ মে বাড়ি বাড়ি গিয়ে চিরুনী অভিযান চালানো হবে। সিটি করপোরেশন আপনাদের শত্রু না। বন্ধু হিসেবে, মিত্র হিসেবে আপনাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে চেক করবো। আসুন সবাই মিলে করোনার মতো ডেঙ্গুকেও মোকাবিলা করি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 





















