ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মগবাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দুর্ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী আহত মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প শ্রমবাজারের সন্ধানে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে সরকারের : প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে: ট্রাম্প শিল্পে জ্বালানি দক্ষতায় ২০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ মার্কিন নৌ অবরোধ পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর, দাবি সেন্টকমের তারেক রহমান সবসময় গ্রামীণ জনপদ ও কৃষকের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন : রিজভী ইসরায়েলের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি স্থগিত করল ইতালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে রাজনৈতিক বিবেচনা বা অনিয়মের সুযোগ নেই: আইনমন্ত্রী ‘খেলাধুলার মাধ্যমে দেশপ্রেম ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করতে হবে’ সিকেডি হাসপাতালে চাঁদা দাবি: প্রধান আসামি মঈনসহ ৩ জন তিনদিনের রিমান্ডে

পাহাড়ে আনারসের বাম্পার ফলন, ক্রেতাশূন্য হাট

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এ বছরও পাহাড়ে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে চাহিদা কম, মিলছে না দাম। করোনার কারণে কালো ছায়া নেমে এসেছে আনারসের বাগানে। বসছে না হাট। নেই ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনা।

তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে আনারস। অথচ, গত বছরও ঠিক এসময় পাহাড়ে উৎপাদিত টসটসে, রসালো ও মিষ্টি আনারস দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে সয়লাব হয়েছিল। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র। পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস বাগানে রয়ে গেছে। লোক সংকটের কারণে কাটা হচ্ছে না বাগানের আনারস। একই সাথে পরিবহণ সংকট তো রয়েছেই। তাই আনারস নিয়ে অনেকটা বিপাকে স্থানীয় কৃষকরা।

রাঙামাটি কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রাঙামাটিতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর পাহাড়ি ঢালু জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। যা প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯.২ মেট্টিক টন। রাঙামাটির পাহাড়ের সব স্থান পাকা আনারসের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু রাঙামাটিতে নয়, আনারসের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে অপর দু’পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে। কিন্তু ফলন বেশি হলেও লাভের মুখ দেখছেনা চাষিরা। সংরক্ষণের অভাবে, সঠিক সময় করা হচ্ছেনা বাজারজাত। তাই পঁচে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার কষ্টের ফল।

রাঙামাটির কুতুকছড়ি ও সমতাঘাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে- প্রতি হাজার আনারস পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে মাত্র দেড় থেকে তিন হাজার টাকায়। স্থানীয়ভাবে পাহাড়ি জেলাগুলোতে কোল্ডষ্টোরেজ না থাকার কারণে এবং দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুষ্ঠু বাজারজাত করণের অভাবে ও লকডাইনের কারণে পাহাড়ে এবছরও দ্রুত পঁচনশীল কৃষিজপণ্য আনারস স্থানীয় বাজারে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষিদের পাশাপাশি লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদেরও। এসব আনারস বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকায় । আবার অনেক সময় ২ থেকে ৩ টাকায় মিলছে এ আনারস।

স্থানীয় আনারস চাষি ধন কুমার চাকমা জানান, চলতি বছর আনারসের উচ্চফলন হয়েছে রাঙামাটিতে। তাই মৌসুমের আগেই বাজারে এসেছে আনারস। কিন্তু তারপরও পাহাড়ের প্রান্তিক চাষিদের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে না। কারণ করোন দুর্যোগের কারণে আনারসের বাজার মিলছে না। ক্রেতাশূন্য বাজারে আনারস বিক্রি করা সম্ভব না।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, গত বছরের তুলনায়, এবছর ২ হেক্টর জমিতে বেশি আনারস চাষ হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাহাড়ি জেলাগুলোয় ব্যাপক আনারসের চাষাবাদ হচ্ছে। ফলনও হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার অধিক। তবে আনারসের প্রচুর ফলন পেয়েও দিশেহারা স্থানীয় চাষিরা। কারণ স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ, বাজারজাত করণ ও পরিবহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফলে পার্বত্য এলাকায় উচ্চ ফলনশীল আনারস চাষাবাদের ব্যাপক সম্ভাবনা সত্ত্বেও প্রতি বছর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে চাষিরা। কারোনার দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত এ সমস্যা সমাধান হবার নয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসারস পরিবহনের জন্য অনুমতি মিলেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় পাহাড়ের আনারস বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

মগবাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দুর্ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থী আহত

পাহাড়ে আনারসের বাম্পার ফলন, ক্রেতাশূন্য হাট

আপডেট সময় ০৫:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

এ বছরও পাহাড়ে আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে চাহিদা কম, মিলছে না দাম। করোনার কারণে কালো ছায়া নেমে এসেছে আনারসের বাগানে। বসছে না হাট। নেই ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনা।

তাই অনেকটা বাধ্য হয়ে পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে আনারস। অথচ, গত বছরও ঠিক এসময় পাহাড়ে উৎপাদিত টসটসে, রসালো ও মিষ্টি আনারস দেশের বিভিন্ন জেলার বাজারে সয়লাব হয়েছিল। কিন্তু এবার ভিন্ন চিত্র। পাহাড়ে উৎপাদিত আনারস বাগানে রয়ে গেছে। লোক সংকটের কারণে কাটা হচ্ছে না বাগানের আনারস। একই সাথে পরিবহণ সংকট তো রয়েছেই। তাই আনারস নিয়ে অনেকটা বিপাকে স্থানীয় কৃষকরা।

রাঙামাটি কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রাঙামাটিতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর পাহাড়ি ঢালু জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। যা প্রতি হেক্টর জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯.২ মেট্টিক টন। রাঙামাটির পাহাড়ের সব স্থান পাকা আনারসের মৌ মৌ গন্ধে ভরপুর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শুধু রাঙামাটিতে নয়, আনারসের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে অপর দু’পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে। কিন্তু ফলন বেশি হলেও লাভের মুখ দেখছেনা চাষিরা। সংরক্ষণের অভাবে, সঠিক সময় করা হচ্ছেনা বাজারজাত। তাই পঁচে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার কষ্টের ফল।

রাঙামাটির কুতুকছড়ি ও সমতাঘাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে- প্রতি হাজার আনারস পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে মাত্র দেড় থেকে তিন হাজার টাকায়। স্থানীয়ভাবে পাহাড়ি জেলাগুলোতে কোল্ডষ্টোরেজ না থাকার কারণে এবং দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থায় সুষ্ঠু বাজারজাত করণের অভাবে ও লকডাইনের কারণে পাহাড়ে এবছরও দ্রুত পঁচনশীল কৃষিজপণ্য আনারস স্থানীয় বাজারে পানির দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষিদের পাশাপাশি লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদেরও। এসব আনারস বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৫ থেকে ১০ টাকায় । আবার অনেক সময় ২ থেকে ৩ টাকায় মিলছে এ আনারস।

স্থানীয় আনারস চাষি ধন কুমার চাকমা জানান, চলতি বছর আনারসের উচ্চফলন হয়েছে রাঙামাটিতে। তাই মৌসুমের আগেই বাজারে এসেছে আনারস। কিন্তু তারপরও পাহাড়ের প্রান্তিক চাষিদের ভাগ্য পরিবর্তন হচ্ছে না। কারণ করোন দুর্যোগের কারণে আনারসের বাজার মিলছে না। ক্রেতাশূন্য বাজারে আনারস বিক্রি করা সম্ভব না।

রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা জানান, গত বছরের তুলনায়, এবছর ২ হেক্টর জমিতে বেশি আনারস চাষ হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় পাহাড়ি জেলাগুলোয় ব্যাপক আনারসের চাষাবাদ হচ্ছে। ফলনও হচ্ছে লক্ষ্যমাত্রার অধিক। তবে আনারসের প্রচুর ফলন পেয়েও দিশেহারা স্থানীয় চাষিরা। কারণ স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ, বাজারজাত করণ ও পরিবহনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফলে পার্বত্য এলাকায় উচ্চ ফলনশীল আনারস চাষাবাদের ব্যাপক সম্ভাবনা সত্ত্বেও প্রতি বছর ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে চাষিরা। কারোনার দুর্যোগ না কাটা পর্যন্ত এ সমস্যা সমাধান হবার নয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আসারস পরিবহনের জন্য অনুমতি মিলেছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় পাহাড়ের আনারস বাজারজাত করা গেলে কৃষকরা ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে।