ঢাকা ০১:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রাজপথে নামলে সরকারের পতন ঘটাতে বেশি সময় লাগবে না: ইসহাক সরকার নাটোরে যুবদলের দু’পক্ষে সংঘর্ষ, মোটরসাইকেলে আগুন দোকান ভাঙচুর ধামরাইয়ে ঘরে ঢুকে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে হত্যা এনসিপিতে যোগ দিলেন ইসহাক সরকার, রনি ও কাফি শিবির কি রগকাটা, শিবির কি গুপ্ত: গোলাম পরওয়ার দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না: অর্থমন্ত্রী ‘শিক্ষকরা কোনো দলের নেতা নন, রাজনীতি করলে শিক্ষকতা ছেড়ে দিন’:কায়সার কামাল দেশে তেলের সংকট নেই, কিছু মানুষ অনৈতিক ব্যবসা করছে: মির্জা ফখরুল টিকা সংকটে হামের উচ্চ ঝুঁকিতে দেশ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ

ভ্যাকসিন তৈরি পর্যন্ত লকডাউন রাখতে বলছেন গবেষকরা

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এখনো পর্যন্ত কোনো কুলকিনারা খুঁজে পাননি বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রাণঘাতী ভাইরাসটির প্রতিষেধক আবিষ্কারে লড়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত রোগটির প্রাদুর্ভাব রোধে লকডাউন ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে নেওয়া উচিত হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন গবেষকরা।

চিকিৎসাবিষয়ক বিখ্যাত জার্নাল দ্য ল্যানসেটে এক প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে গবেষকরা এমন অভিমতই ব্যক্ত করেছেন বলে খবর দিয়েছে সিএনএন।

গেল বছরের শেষ দিনে চীনের উহান নগরী থেকে মারণ ভাইরাস করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়াতে শুরু করলে তা ঠেকাতে দেশটি কঠোর লকডাউন আরোপ করেছিল। এরপর একে একে বিশ্বের প্রায় সব দেশই লকডাউন আরোপ করতে শুরু করে।

চীনা কর্তৃপক্ষ উহানে ৭৬ দিনের মাথায় লকডাউন তুলে নিয়েছে। কঠোর লকডাউনের ফলে করোনার প্রথম ধাক্কা সামাল দিতে পেরেছে বলে চীন দাবি করলেও গবেষকরা গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে দেখিয়েছেন আগেভাগেই লকডাউন তুলে নিলে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ শুরু হতে পারে।

গত বুধবার ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সহগবেষক হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ টি য়ু বলেছেন, লকডাউনের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করোনার সংক্রমণ নিন্মপর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তবে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনের মতো শক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে সেটি আবারও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

‘লকডাউন তুলে নিলে ব্যবসাবাণিজ্য চালু হবে, কল-কারখানা খুলবে, স্কুল-কলেজগুলো চালু হবে। এভাবে মানুষের মেলামেশা বাড়বে, সামাজিক যোগাযোগ বাড়বে, তাতে ফের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়বে’- যোগ করেন এই গবেষক।

জোসেফ টি য়ু বলেনম ‘পুরো বিশ্বে এখনই ভাইরাসটির সংক্রমণ বন্ধ হয়নি। তাতে অন্য কোনো দেশ থেকে ফের চীনেই এ রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন দেশ যদি বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরে নীতি না মানে তড়িঘড়ি লকডাউন তুলে নেয় এবং জোরালোভাবে করোনার সংক্রমণ তদারকি না করে তবে এ ভাইরাস ফের ছড়িয়ে পড়বে।’

তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ধীরে ধীরে চালু করাই উপযুক্ত কৌশল বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

ভ্যাকসিন তৈরি পর্যন্ত লকডাউন রাখতে বলছেন গবেষকরা

আপডেট সময় ০৫:১৭:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০

আকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এখনো পর্যন্ত কোনো কুলকিনারা খুঁজে পাননি বিজ্ঞানী ও গবেষকরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রাণঘাতী ভাইরাসটির প্রতিষেধক আবিষ্কারে লড়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত রোগটির প্রাদুর্ভাব রোধে লকডাউন ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে নেওয়া উচিত হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন গবেষকরা।

চিকিৎসাবিষয়ক বিখ্যাত জার্নাল দ্য ল্যানসেটে এক প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে গবেষকরা এমন অভিমতই ব্যক্ত করেছেন বলে খবর দিয়েছে সিএনএন।

গেল বছরের শেষ দিনে চীনের উহান নগরী থেকে মারণ ভাইরাস করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়াতে শুরু করলে তা ঠেকাতে দেশটি কঠোর লকডাউন আরোপ করেছিল। এরপর একে একে বিশ্বের প্রায় সব দেশই লকডাউন আরোপ করতে শুরু করে।

চীনা কর্তৃপক্ষ উহানে ৭৬ দিনের মাথায় লকডাউন তুলে নিয়েছে। কঠোর লকডাউনের ফলে করোনার প্রথম ধাক্কা সামাল দিতে পেরেছে বলে চীন দাবি করলেও গবেষকরা গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে দেখিয়েছেন আগেভাগেই লকডাউন তুলে নিলে দ্বিতীয় দফায় করোনা সংক্রমণ শুরু হতে পারে।

গত বুধবার ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সহগবেষক হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ টি য়ু বলেছেন, লকডাউনের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করোনার সংক্রমণ নিন্মপর্যায়ে নিয়ে এসেছে। তবে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনের মতো শক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারলে সেটি আবারও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।

‘লকডাউন তুলে নিলে ব্যবসাবাণিজ্য চালু হবে, কল-কারখানা খুলবে, স্কুল-কলেজগুলো চালু হবে। এভাবে মানুষের মেলামেশা বাড়বে, সামাজিক যোগাযোগ বাড়বে, তাতে ফের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়বে’- যোগ করেন এই গবেষক।

জোসেফ টি য়ু বলেনম ‘পুরো বিশ্বে এখনই ভাইরাসটির সংক্রমণ বন্ধ হয়নি। তাতে অন্য কোনো দেশ থেকে ফের চীনেই এ রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন দেশ যদি বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ধীরে নীতি না মানে তড়িঘড়ি লকডাউন তুলে নেয় এবং জোরালোভাবে করোনার সংক্রমণ তদারকি না করে তবে এ ভাইরাস ফের ছড়িয়ে পড়বে।’

তাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ধীরে ধীরে চালু করাই উপযুক্ত কৌশল বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।