ঢাকা ০৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কালি নয়, জুলাই জাতীয় সনদ ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে’ লেখা হয়েছে : আলী রীয়াজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন লুৎফুজ্জামান বাবরের স্ত্রী ওসমানী মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলা, চলছে কর্মবিরতি নির্বাচন ব্যর্থ হলে শুধু সরকার নয়, পুরো দেশবাসীকেই এর ভয়াবহ খেসারত দিতে হবে : দুদু আন্দোলনের সুফল একটি দলের ঘরে নেওয়ার চেষ্টা বিফলে যাবে : ডা. জাহিদ ঢাকাকে হারিয়ে প্লে-অফ নিশ্চিত করল রংপুর রাইডার্স খালেদা জিয়ার আদর্শই হবে আগামীর চালিকাশক্তি : খন্দকার মোশাররফ হাসনাত আব্দুল্লাহর আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে ছুরিকাঘাতে হত্যা কৌশলের অজুহাতে বিএনপি কোনো গোপন বেশ ধারণ করেনি: তারেক রহমান

ঢাকায় চলছে জমজমাট ভাড়ায় স্বামী বাণিজ্য

রাজধানী ঢাকা শহরে ভাড়ায় স্বামী বাণিজ্য! বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও বিশেষ করে ৩ ধরনের কাজের জন্য এসব স্বামী পরিচয়ে পুরুষ ভাড়া পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।এমনকি স্বামী হিসেবে ভাড়ায় খেটে নিজের সংসার চালাচ্ছেন এমনও তথ্য পাওয়া গেছে। দিনে ১শ টাকা থেকে মাসে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় ভাড়ায় স্বামী পাওয়া যায়। আবার একই পুরুষ ভাড়ায় খাটেন একাধিক নারীর স্বামী পরিচয়ে এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া এনজিওসহ বেশ কিছু মাল্টি পারপাস কোম্পানি থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নেয়ার শর্ত হিসেবে স্বামীর পরিচয় ও তার ছবি ব্যবহার করতে স্বামী ভাড়া করা হয়। আবার সাম্প্রতিককালে পাসপোর্ট অফিসে কোনো নারী স্বামী ছাড়া একা গেলে তাকে স্বামীর উপস্থিতি দেখানোর প্রয়োজনে স্বামী ভাড়া করে দেখিয়ে আবার স্বামী নিয়ে আসার ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে হয়।

রাজধানীর জুরাইন এলাকার সড়কের পাশের খুদে দোকানি স্বামী পরিত্যক্তা রহিমা বেগম। তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করে তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। কোথায় গেছেন সেটাও জানা নেই রহিমা বেগমের। ৩টি সন্তান নিয়ে সড়কের পাশে কখনো পিঠা, কখনো মৌসুমি ফল, সঙ্গে চা-পানের দোকান করে জীবন চালান তিনি। এখন ছেলেকে চা পানের দোকান আলাদা করে দিতে ৫ হাজার টাকা ঋণ দরকার তার। একটি এনজিও থেকে ঋণ পেতে স্বামী দরকার।

এনজিওর লোকেরা বলেছে ঋণ পেতে হলে স্বামী-স্ত্রী দুজনের ছবি লাগবে, এক সঙ্গে না হলে ঋণ পাওয়া যাবে না।মাস কয়েক আগে এনজিওর ঋণ পেতে একজন স্বামী ভাড়া করেছিলেন তিনি। ঋণের টাকা থেকে ৫শ টাকা দিয়েছেন তাকে। মাত্র ৫শ টাকাতেই রহিমা বেগমের সঙ্গে স্বামী পরিচয়ে এনজিও অফিসে গিয়ে ছবি তুলে ঋণ পেতে সহায়তা করেছে বিশু নামের এক লোক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর শনির আখড়ায় বসবাস করেন সোহান (ছদ্ম নাম)। অভাবের তাড়নায় ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকার গ্রামের বাড়ি থেকে আসেন ঢাকা। এসএসসি পাসও করেননি তাই কোনো চাকরি দিতে চাচ্ছেন না কেউ। এরই মধ্যে পরিচয় হয় ছিঁচকে ছিনতাইকারী কাজলের সঙ্গে। হয় সখ্যতা।

জানা গেছে, স্বামী পরিচয়ে একই ব্যক্তি একাধিক ফ্ল্যাট বাড়িতে ভাড়া খাটছেন। সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে এনায়েত নামের এক লোককে। তিনি একযোগে ৬ নারীর স্বামী হিসেবে ভাড়া খাটছেন।ভাড়া খাটার শর্ত হচ্ছে সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন স্বামী পরিচয়ে বাসায় অবস্থান করতে হবে, আর বাসার বাজারও করে দিতে হবে। বাসায় অবস্থান করা ও বাজার করার শর্ত দেয়ার মানে হচ্ছে যাতে আশপাশের লোকেরা কোনো প্রকার সন্দেহ না করে।

তবে ওইসব যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে স্বামীর ভাড়া সবচেয়ে বেশি।জামালপুরের মধ্যবয়সী পুরুষ এনায়েত। এক যুগ আগে ঢাকায় এসে মিরপুর এলাকায় পান-সিগারেটের ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে জড়িয়ে যান এক সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে। ধরা পড়ে জেলও খাটেন দেড় বছর। জেল থেকে বেরুনোর পর ঘটনাচক্রে পরিচয় হয় এক নারীর সঙ্গে।পরিচয়ের সূত্রে তার সঙ্গে হয় সখ্য এবং পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে স্বামী পরিচয়ে বসবাস। এর পরই ভাড়ায় স্বামী বাণিজ্য শুরু এনায়েতের। এখন রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা ও গাবতলী এলাকায় ৬টি বাসায় ৬ নারীর ভাড়াটে স্বামী তিনি। মাসে তিনি ভাড়া পান ৩০ হাজার টাকা। কোনো মাসে বেশিও পান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সালমানের পর বিষ্ণোই গ্যাংয়ের টার্গেটে আরেক জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী

ঢাকায় চলছে জমজমাট ভাড়ায় স্বামী বাণিজ্য

আপডেট সময় ০২:২৪:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০

রাজধানী ঢাকা শহরে ভাড়ায় স্বামী বাণিজ্য! বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও বিশেষ করে ৩ ধরনের কাজের জন্য এসব স্বামী পরিচয়ে পুরুষ ভাড়া পাওয়া যায় বলে জানা গেছে।এমনকি স্বামী হিসেবে ভাড়ায় খেটে নিজের সংসার চালাচ্ছেন এমনও তথ্য পাওয়া গেছে। দিনে ১শ টাকা থেকে মাসে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকায় ভাড়ায় স্বামী পাওয়া যায়। আবার একই পুরুষ ভাড়ায় খাটেন একাধিক নারীর স্বামী পরিচয়ে এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া এনজিওসহ বেশ কিছু মাল্টি পারপাস কোম্পানি থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নেয়ার শর্ত হিসেবে স্বামীর পরিচয় ও তার ছবি ব্যবহার করতে স্বামী ভাড়া করা হয়। আবার সাম্প্রতিককালে পাসপোর্ট অফিসে কোনো নারী স্বামী ছাড়া একা গেলে তাকে স্বামীর উপস্থিতি দেখানোর প্রয়োজনে স্বামী ভাড়া করে দেখিয়ে আবার স্বামী নিয়ে আসার ঝামেলা থেকে মুক্ত হতে হয়।

রাজধানীর জুরাইন এলাকার সড়কের পাশের খুদে দোকানি স্বামী পরিত্যক্তা রহিমা বেগম। তার স্বামী আরেকটি বিয়ে করে তাকে ছেড়ে চলে গেছেন। কোথায় গেছেন সেটাও জানা নেই রহিমা বেগমের। ৩টি সন্তান নিয়ে সড়কের পাশে কখনো পিঠা, কখনো মৌসুমি ফল, সঙ্গে চা-পানের দোকান করে জীবন চালান তিনি। এখন ছেলেকে চা পানের দোকান আলাদা করে দিতে ৫ হাজার টাকা ঋণ দরকার তার। একটি এনজিও থেকে ঋণ পেতে স্বামী দরকার।

এনজিওর লোকেরা বলেছে ঋণ পেতে হলে স্বামী-স্ত্রী দুজনের ছবি লাগবে, এক সঙ্গে না হলে ঋণ পাওয়া যাবে না।মাস কয়েক আগে এনজিওর ঋণ পেতে একজন স্বামী ভাড়া করেছিলেন তিনি। ঋণের টাকা থেকে ৫শ টাকা দিয়েছেন তাকে। মাত্র ৫শ টাকাতেই রহিমা বেগমের সঙ্গে স্বামী পরিচয়ে এনজিও অফিসে গিয়ে ছবি তুলে ঋণ পেতে সহায়তা করেছে বিশু নামের এক লোক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর শনির আখড়ায় বসবাস করেন সোহান (ছদ্ম নাম)। অভাবের তাড়নায় ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকার গ্রামের বাড়ি থেকে আসেন ঢাকা। এসএসসি পাসও করেননি তাই কোনো চাকরি দিতে চাচ্ছেন না কেউ। এরই মধ্যে পরিচয় হয় ছিঁচকে ছিনতাইকারী কাজলের সঙ্গে। হয় সখ্যতা।

জানা গেছে, স্বামী পরিচয়ে একই ব্যক্তি একাধিক ফ্ল্যাট বাড়িতে ভাড়া খাটছেন। সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে এনায়েত নামের এক লোককে। তিনি একযোগে ৬ নারীর স্বামী হিসেবে ভাড়া খাটছেন।ভাড়া খাটার শর্ত হচ্ছে সপ্তাহে কমপক্ষে একদিন স্বামী পরিচয়ে বাসায় অবস্থান করতে হবে, আর বাসার বাজারও করে দিতে হবে। বাসায় অবস্থান করা ও বাজার করার শর্ত দেয়ার মানে হচ্ছে যাতে আশপাশের লোকেরা কোনো প্রকার সন্দেহ না করে।

তবে ওইসব যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে স্বামীর ভাড়া সবচেয়ে বেশি।জামালপুরের মধ্যবয়সী পুরুষ এনায়েত। এক যুগ আগে ঢাকায় এসে মিরপুর এলাকায় পান-সিগারেটের ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে জড়িয়ে যান এক সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে। ধরা পড়ে জেলও খাটেন দেড় বছর। জেল থেকে বেরুনোর পর ঘটনাচক্রে পরিচয় হয় এক নারীর সঙ্গে।পরিচয়ের সূত্রে তার সঙ্গে হয় সখ্য এবং পরবর্তী সময়ে তার সঙ্গে স্বামী পরিচয়ে বসবাস। এর পরই ভাড়ায় স্বামী বাণিজ্য শুরু এনায়েতের। এখন রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা ও গাবতলী এলাকায় ৬টি বাসায় ৬ নারীর ভাড়াটে স্বামী তিনি। মাসে তিনি ভাড়া পান ৩০ হাজার টাকা। কোনো মাসে বেশিও পান।