ঢাকা ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

নুসরাতকে হত্যা পূর্বপরিকল্পিত: মানবাধিকার কমিশন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী ও আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শুক্রবার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ ফায়জুল কবীর এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নিলে হয়তো নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা এড়ানো যেত।

শুক্রবার দুপুরে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অফিসকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আল মাহমুদ ফায়জুল কবীর এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না। একজন মানুষের প্রথম এবং প্রধান অধিকার হচ্ছে বেঁচে থাকা। এটাই হচ্ছে মানবাধিকার। ওসি কর্তৃক নুসরাতের বক্তব্যে রেকর্ডিং এর ব্যাপারে তিনি বলেন, একজন মানুষ যখন থানায় বিচারপ্রার্থী হন, তখন পুলিশ কর্মকর্তার উচিত তার দায়িত্ব কতটুকু সে ব্যাপারে দায়িত্বশীল হওয়া। ওসি যদি ভিকটিমকে হেনস্তা করে থাকেন সে ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।

তিনি বলেন, ১৪৪ ধারা জারির মধ্যে ৪ জন মানুষ এ ধরনের নৃশংসতম ঘটনা করে পালিয়ে যাবে, কেউ দেখবে না বা কেউ জানে না এটা হতে পারে না। মামলাটি গুরুত্বসহকারে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা জজকে সুপারিশ করবে। একজন ভালো ক্রিমিনাল সেকশনের আইনজীবী নিয়োগ করে নুসরাতের পক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্যও জেলা জজকে সুপারিশ করবে মানবাধিকার কমিশন। এ মামলায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে মানবাধিকার কমিশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

আল মাহমুদ বলেন, বেশ কয়েকজন ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক, পুলিশসহ অনেকের সাক্ষ্য নিয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন যে ২৭ মার্চের ঘটনার সঙ্গে ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার যোগসূত্র রয়েছে।

আল মাহমুদ এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সোনাগাজী পৌঁছে মাদ্রাসায় যান। সেখানে কয়েকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

দুপুরে মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তারা নুসরাত জাহান রাফির বাড়িতে যান। সেখানে রাফির পরিবারের সদস্যদেরকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, নুসরাতের মতো আর কোনো মেয়ে যেন এভাবে মারা না যায়। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে মানবাধিকার কমিশন তাদের পরিবারের পাশে থাকবে।

বাদ জুমা ওই কর্মকর্তারা নুসরাতের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। গত বুধবার রাতে নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

নুসরাতকে হত্যা পূর্বপরিকল্পিত: মানবাধিকার কমিশন

আপডেট সময় ১১:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ এপ্রিল ২০১৯

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী ও আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে শুক্রবার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল মাহমুদ ফায়জুল কবীর এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, গত ২৭ মার্চ নুসরাতকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার শ্লীলতাহানির চেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা নিলে হয়তো নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা এড়ানো যেত।

শুক্রবার দুপুরে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অফিসকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আল মাহমুদ ফায়জুল কবীর এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন দায় এড়াতে পারে না। একজন মানুষের প্রথম এবং প্রধান অধিকার হচ্ছে বেঁচে থাকা। এটাই হচ্ছে মানবাধিকার। ওসি কর্তৃক নুসরাতের বক্তব্যে রেকর্ডিং এর ব্যাপারে তিনি বলেন, একজন মানুষ যখন থানায় বিচারপ্রার্থী হন, তখন পুলিশ কর্মকর্তার উচিত তার দায়িত্ব কতটুকু সে ব্যাপারে দায়িত্বশীল হওয়া। ওসি যদি ভিকটিমকে হেনস্তা করে থাকেন সে ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে।

তিনি বলেন, ১৪৪ ধারা জারির মধ্যে ৪ জন মানুষ এ ধরনের নৃশংসতম ঘটনা করে পালিয়ে যাবে, কেউ দেখবে না বা কেউ জানে না এটা হতে পারে না। মামলাটি গুরুত্বসহকারে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা জজকে সুপারিশ করবে। একজন ভালো ক্রিমিনাল সেকশনের আইনজীবী নিয়োগ করে নুসরাতের পক্ষে মামলা পরিচালনা করার জন্যও জেলা জজকে সুপারিশ করবে মানবাধিকার কমিশন। এ মামলায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে মানবাধিকার কমিশন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

আল মাহমুদ বলেন, বেশ কয়েকজন ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক, পুলিশসহ অনেকের সাক্ষ্য নিয়েছেন। তদন্তসাপেক্ষে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন যে ২৭ মার্চের ঘটনার সঙ্গে ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার যোগসূত্র রয়েছে।

আল মাহমুদ এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় সোনাগাজী পৌঁছে মাদ্রাসায় যান। সেখানে কয়েকজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

দুপুরে মানবাধিকার কমিশনের কর্মকর্তারা নুসরাত জাহান রাফির বাড়িতে যান। সেখানে রাফির পরিবারের সদস্যদেরকে সমবেদনা জানিয়ে বলেন, নুসরাতের মতো আর কোনো মেয়ে যেন এভাবে মারা না যায়। দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে মানবাধিকার কমিশন তাদের পরিবারের পাশে থাকবে।

বাদ জুমা ওই কর্মকর্তারা নুসরাতের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতেহা পাঠ করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। গত বুধবার রাতে নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।