ঢাকা ০২:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো যশোরে জামায়াত এমপির বাড়ি ঘেরাও ইমরান খানের কারাবাস নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞের:অমানবিক আচরণ’ বন্ধের আহ্বান বঙ্গভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি দুদকের মামলায় সাবেক ডেপুটি গভর্নরের ৩ বছরের কারাদণ্ড রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে বৈঠকে সিইসি হাসনাত-সারজিস গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বেইমানি করার কারণে ছাত্র উপদেষ্টা হতে পারেনি: রাশেদ বাসার সামনে গল্প করছিল এইচএসসি পরীক্ষার্থী, হঠাৎ এলোপাতাড়ি গুলি অর্থের অভাবে কারও চিকিৎসা বন্ধ থাকবে না: সমাজকল্যাণমন্ত্রী প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে বিএনপি: হাসনাত আবদুল্লাহ

কোথাও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না: কবিতা খানম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, পৃথিবীর কোথাও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। তবে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই, যা নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকবে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হয় জনগণের কাছে। সুতরাং এমন কোনো নির্বাচন তারা করতে চান না, যার জন্য জনগণের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

শুক্রবার সকালে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এতে উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন।

কবিতা খানম বলেন, শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সেটি কোনো দেশেই হয় না; আমাদের দেশেও হবে না। সুতরাং আমরা বলতে চাই- একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা চাই, যেটি সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকে।

নির্বাচনে উৎসবের আমেজ যেন কোনোভাবে বৈরী হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সতর্ক থাকার তাগিদ দেন এ নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজ নির্বাচনের হাওয়া বইছে। আজ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং নতুন সংসদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত এ হাওয়ার মধ্যেই আমাদের বসবাস। সুতরাং হাওয়াটা যেন কোনোভাবেই বৈরী না হয়- এ নির্দেশনা অবশ্যই আপনাদের প্রতিপালন করতে হবে।

সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে কবিতা খানম বলেন, নির্বাচন কমিশন কখনই চাইবে না নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক। আমরা শপথগ্রহণের পর থেকে প্রতিটা নির্বাচনে মাঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ইতোপূর্বে কোনো কমিশন এভাবে সাধারণ নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে বিচরণ করেনি।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিচারকের নিরপেক্ষতায় দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে সাবেক এ বিচারক বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে আপনারা কোনো জাজমেন্ট করবেন না। সবার জন্য সমান আচরণ যেন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সদ্ভাব বজায় রাখার পরামর্শ দেন এ নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, আইনের মাধ্যমে একটি নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধু নির্বাচন কমিশন এ কাজ সুষ্ঠুভাবে করবে, এ আশা যারা ব্যক্ত করেন, আমি বলব- তারা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো ইগনোর করার চেষ্টা করেন।

কবিতা খানম বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের মিডিয়ায় কথা বলার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখা দরকার। এমন কিছু বলা উচিত না, যা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে।

শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা আচার-আচরণ ও কথাবার্তায় নির্বাচনকে অসুস্থ করে এমন বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হুশিয়ার করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে যেন এতটুকু অবহেলা না হয়। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ‍তুলে আনার ক্ষেত্রে আপনারা সৎ থাকবেন।

‘নির্বাচন কমিশনের শপথের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন। তিন মাসের কর্মকাণ্ড আপনাদের চাকরি জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। সুতরাং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সদ্ভাবে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন।’

কবিতা খানম বলেন, আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ না করার কারণেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটে। কমিশন সেসব ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না।

তিনি বলেন, না জেনে ভুল করবেন না এবং জেনে সতকর্তার সঙ্গে কাজ করবেন। যেহেতু সব দোষ নন্দ ঘোষ। সে কারণে জবাবদিহিতার জায়গাটি আমরা অত্যন্ত শক্ত করতে চাই। কোনো ধরনের বিচ্যুতি বা আইনের ব্যত্যয় ঘটার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন জবাবদিহিতার জায়গাটিতে শক্তভাবে প্রতিবাদ করবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরসরাই শিল্পাঞ্চলে ৩০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী তুরস্কের সানকো

কোথাও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না: কবিতা খানম

আপডেট সময় ০৪:০৭:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, পৃথিবীর কোথাও শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় না। তবে আমরা একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে চাই, যা নিয়ে কারও প্রশ্ন থাকবে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনকে জবাবদিহি করতে হয় জনগণের কাছে। সুতরাং এমন কোনো নির্বাচন তারা করতে চান না, যার জন্য জনগণের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়।

শুক্রবার সকালে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এতে উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন।

কবিতা খানম বলেন, শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, সেটি কোনো দেশেই হয় না; আমাদের দেশেও হবে না। সুতরাং আমরা বলতে চাই- একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আমরা চাই, যেটি সব প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকে।

নির্বাচনে উৎসবের আমেজ যেন কোনোভাবে বৈরী হয়ে না ওঠে, সে বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের সতর্ক থাকার তাগিদ দেন এ নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আজ নির্বাচনের হাওয়া বইছে। আজ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং নতুন সংসদ গঠন না হওয়া পর্যন্ত এ হাওয়ার মধ্যেই আমাদের বসবাস। সুতরাং হাওয়াটা যেন কোনোভাবেই বৈরী না হয়- এ নির্দেশনা অবশ্যই আপনাদের প্রতিপালন করতে হবে।

সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের ব্রিফিংয়ে কবিতা খানম বলেন, নির্বাচন কমিশন কখনই চাইবে না নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক। আমরা শপথগ্রহণের পর থেকে প্রতিটা নির্বাচনে মাঠে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। ইতোপূর্বে কোনো কমিশন এভাবে সাধারণ নির্বাচনে মাঠপর্যায়ে বিচরণ করেনি।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিচারকের নিরপেক্ষতায় দায়িত্ব পালনের তাগিদ দিয়ে সাবেক এ বিচারক বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বা অনুরাগ-বিরাগের বশবর্তী হয়ে আপনারা কোনো জাজমেন্ট করবেন না। সবার জন্য সমান আচরণ যেন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের সঙ্গে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সদ্ভাব বজায় রাখার পরামর্শ দেন এ নির্বাচন কমিশনার।

তিনি বলেন, আইনের মাধ্যমে একটি নির্বাচন তুলে আনার ক্ষেত্রে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন। শুধু নির্বাচন কমিশন এ কাজ সুষ্ঠুভাবে করবে, এ আশা যারা ব্যক্ত করেন, আমি বলব- তারা নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো ইগনোর করার চেষ্টা করেন।

কবিতা খানম বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের মিডিয়ায় কথা বলার ক্ষেত্রে ভারসাম্য রাখা দরকার। এমন কিছু বলা উচিত না, যা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা ঘটতে পারে।

শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে তিনি আহ্বান জানান, যেন তারা আচার-আচরণ ও কথাবার্তায় নির্বাচনকে অসুস্থ করে এমন বিষয়গুলো থেকে দূরে থাকেন।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হুশিয়ার করে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনে যেন এতটুকু অবহেলা না হয়। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ‍তুলে আনার ক্ষেত্রে আপনারা সৎ থাকবেন।

‘নির্বাচন কমিশনের শপথের মর্যাদা রাখার চেষ্টা করবেন। তিন মাসের কর্মকাণ্ড আপনাদের চাকরি জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। সুতরাং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সদ্ভাবে আপনারা দায়িত্ব পালন করবেন।’

কবিতা খানম বলেন, আইন সঠিকভাবে প্রয়োগ না করার কারণেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিচ্যুতি ঘটে। কমিশন সেসব ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না।

তিনি বলেন, না জেনে ভুল করবেন না এবং জেনে সতকর্তার সঙ্গে কাজ করবেন। যেহেতু সব দোষ নন্দ ঘোষ। সে কারণে জবাবদিহিতার জায়গাটি আমরা অত্যন্ত শক্ত করতে চাই। কোনো ধরনের বিচ্যুতি বা আইনের ব্যত্যয় ঘটার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন জবাবদিহিতার জায়গাটিতে শক্তভাবে প্রতিবাদ করবে।