ঢাকা ০৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সকল বৈচিত্র্যের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য মুক্ত বুদ্ধিচর্চা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনকে কটাক্ষ:অভিনেত্রী শাওন, মাহিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ আওয়ামী লীগ দেশে আর কোনোদিন রাজনীতি করতে পারবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী কৃষি কার্ডের কারণে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নিতে পারবে না : কৃষিমন্ত্রী ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি, ব্যারিস্টার ফুয়াদকে আইনি নোটিশ শিক্ষকতার চেয়ে মহান পেশা আর কিছু হতে পারে না: মির্জা ফখরুল ঐতিহাসিক জয় ফিলিস্তিনকে উৎসর্গ করল মিসর, গাজায় আনন্দের ঢেউ ইমাম খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় স্পিকারের শ্রদ্ধা

সংলাপ থেকে বেরিয়ে আ’লীগ নেতাদের বক্তব্য

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট নিরপেক্ষ অনুষ্ঠানের জন্য। সব দায়িত্ব তাদের। তফসিলের পর দায়িত্ব ইসির ওপর ন্যস্ত হবে। নির্বাচন নিয়ে ভয়ের, শঙ্কার কারণ নেই।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পর্যবেক্ষকরা আসবেন এতে আমাদের আপত্তি নেই।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা রাজনৈতিক মামলার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল ও ফখরুল সাহেবকে লক্ষ্য করে বলেছেন, যেসব মামলা মনে হয়েছে রাজনৈতিক মামলা তার একটা সংখ্যা পৌঁছে দেয়ার জন্য।

কাদের বলেন, চিঠির উত্তরে ছিল সংবিধানসম্মত সব বিষয়ে আলোচনা হবে। গণতন্ত্র এর ধারা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হয় না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বস্ত করছি। সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিষয়। এ বিষয় সংলাপের মধ্যে আসতে পারে না। দুইটি মামলা কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা।

কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বলেছেন, এ মামলা আমি ক্লেইম করিনি। এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এটা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

সেনাবাহিনী নিয়োগের বিষয়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ড. কামালকে বলেছেন, আপনি তো নির্বাচন করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার ছিল না। তাহলে এখন কেন চান?

সংলাপ আর হবে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আসলেই হবে। তারা যদি মনে করে আসার দরকার। তাহলে আমরা আমন্ত্রণ জানাব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা সফল হয়েছে, ফলপ্রসূ হয়েছে। ওরা যখন চায়, আলোচনা করতে পারবে। গণভবনের দরজা খোলা আছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আলোচনা আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে।

আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, এখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা নিয়ে কথা হয়েছে। এখানে সবগুলো দাবি আদালত সম্পর্কিত, নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত ও সংবিধান সম্পর্কিত। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই এটা তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দিলে তিনি মুক্তি পাবেন।

আরও সংলাপের প্রয়োজন কিনা জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, আমরা প্রয়োজন মনে করি না। যদি তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে থেকে বলে দেওয়া হয়েছে তারা যেকোনো সময় আসতে পারেন। তবে সব কিছুই হতে হবে সংবিধানসম্মত।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ শুরু হয়। সংলাপ শেষে রাত পৌনে ১১টার পর দুই জোটের নেতারা একে একে গণভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জুলাই চেতনা নিয়ে ব্যবসা না করার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সংলাপ থেকে বেরিয়ে আ’লীগ নেতাদের বক্তব্য

আপডেট সময় ১২:১৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট নিরপেক্ষ অনুষ্ঠানের জন্য। সব দায়িত্ব তাদের। তফসিলের পর দায়িত্ব ইসির ওপর ন্যস্ত হবে। নির্বাচন নিয়ে ভয়ের, শঙ্কার কারণ নেই।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পর্যবেক্ষকরা আসবেন এতে আমাদের আপত্তি নেই।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা রাজনৈতিক মামলার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল ও ফখরুল সাহেবকে লক্ষ্য করে বলেছেন, যেসব মামলা মনে হয়েছে রাজনৈতিক মামলা তার একটা সংখ্যা পৌঁছে দেয়ার জন্য।

কাদের বলেন, চিঠির উত্তরে ছিল সংবিধানসম্মত সব বিষয়ে আলোচনা হবে। গণতন্ত্র এর ধারা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হয় না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বস্ত করছি। সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিষয়। এ বিষয় সংলাপের মধ্যে আসতে পারে না। দুইটি মামলা কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা।

কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বলেছেন, এ মামলা আমি ক্লেইম করিনি। এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এটা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

সেনাবাহিনী নিয়োগের বিষয়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ড. কামালকে বলেছেন, আপনি তো নির্বাচন করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার ছিল না। তাহলে এখন কেন চান?

সংলাপ আর হবে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আসলেই হবে। তারা যদি মনে করে আসার দরকার। তাহলে আমরা আমন্ত্রণ জানাব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা সফল হয়েছে, ফলপ্রসূ হয়েছে। ওরা যখন চায়, আলোচনা করতে পারবে। গণভবনের দরজা খোলা আছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আলোচনা আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে।

আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, এখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা নিয়ে কথা হয়েছে। এখানে সবগুলো দাবি আদালত সম্পর্কিত, নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত ও সংবিধান সম্পর্কিত। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই এটা তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দিলে তিনি মুক্তি পাবেন।

আরও সংলাপের প্রয়োজন কিনা জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, আমরা প্রয়োজন মনে করি না। যদি তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে থেকে বলে দেওয়া হয়েছে তারা যেকোনো সময় আসতে পারেন। তবে সব কিছুই হতে হবে সংবিধানসম্মত।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ শুরু হয়। সংলাপ শেষে রাত পৌনে ১১টার পর দুই জোটের নেতারা একে একে গণভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।