ঢাকা ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার

সংলাপ থেকে বেরিয়ে আ’লীগ নেতাদের বক্তব্য

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট নিরপেক্ষ অনুষ্ঠানের জন্য। সব দায়িত্ব তাদের। তফসিলের পর দায়িত্ব ইসির ওপর ন্যস্ত হবে। নির্বাচন নিয়ে ভয়ের, শঙ্কার কারণ নেই।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পর্যবেক্ষকরা আসবেন এতে আমাদের আপত্তি নেই।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা রাজনৈতিক মামলার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল ও ফখরুল সাহেবকে লক্ষ্য করে বলেছেন, যেসব মামলা মনে হয়েছে রাজনৈতিক মামলা তার একটা সংখ্যা পৌঁছে দেয়ার জন্য।

কাদের বলেন, চিঠির উত্তরে ছিল সংবিধানসম্মত সব বিষয়ে আলোচনা হবে। গণতন্ত্র এর ধারা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হয় না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বস্ত করছি। সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিষয়। এ বিষয় সংলাপের মধ্যে আসতে পারে না। দুইটি মামলা কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা।

কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বলেছেন, এ মামলা আমি ক্লেইম করিনি। এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এটা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

সেনাবাহিনী নিয়োগের বিষয়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ড. কামালকে বলেছেন, আপনি তো নির্বাচন করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার ছিল না। তাহলে এখন কেন চান?

সংলাপ আর হবে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আসলেই হবে। তারা যদি মনে করে আসার দরকার। তাহলে আমরা আমন্ত্রণ জানাব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা সফল হয়েছে, ফলপ্রসূ হয়েছে। ওরা যখন চায়, আলোচনা করতে পারবে। গণভবনের দরজা খোলা আছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আলোচনা আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে।

আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, এখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা নিয়ে কথা হয়েছে। এখানে সবগুলো দাবি আদালত সম্পর্কিত, নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত ও সংবিধান সম্পর্কিত। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই এটা তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দিলে তিনি মুক্তি পাবেন।

আরও সংলাপের প্রয়োজন কিনা জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, আমরা প্রয়োজন মনে করি না। যদি তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে থেকে বলে দেওয়া হয়েছে তারা যেকোনো সময় আসতে পারেন। তবে সব কিছুই হতে হবে সংবিধানসম্মত।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ শুরু হয়। সংলাপ শেষে রাত পৌনে ১১টার পর দুই জোটের নেতারা একে একে গণভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পরিবার পরিকল্পনা: বাংলাদেশের সাফল্য ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

সংলাপ থেকে বেরিয়ে আ’লীগ নেতাদের বক্তব্য

আপডেট সময় ১২:১৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ নভেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাড়ে তিন ঘণ্টার সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

বৃহস্পতিবার রাতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাপারে সবাইকে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনই যথেষ্ট নিরপেক্ষ অনুষ্ঠানের জন্য। সব দায়িত্ব তাদের। তফসিলের পর দায়িত্ব ইসির ওপর ন্যস্ত হবে। নির্বাচন নিয়ে ভয়ের, শঙ্কার কারণ নেই।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে পর্যবেক্ষকরা আসবেন এতে আমাদের আপত্তি নেই।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা রাজনৈতিক মামলার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. কামাল ও ফখরুল সাহেবকে লক্ষ্য করে বলেছেন, যেসব মামলা মনে হয়েছে রাজনৈতিক মামলা তার একটা সংখ্যা পৌঁছে দেয়ার জন্য।

কাদের বলেন, চিঠির উত্তরে ছিল সংবিধানসম্মত সব বিষয়ে আলোচনা হবে। গণতন্ত্র এর ধারা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যেতে পারি না। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন হয় না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, শেখ হাসিনা আহ্বান জানিয়েছেন অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের আশ্বস্ত করছি। সরকার হস্তক্ষেপ করবে না। তিনি সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এটা আদালতের বিষয়। এ বিষয় সংলাপের মধ্যে আসতে পারে না। দুইটি মামলা কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে করা।

কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বলেছেন, এ মামলা আমি ক্লেইম করিনি। এটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। এটা তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

সেনাবাহিনী নিয়োগের বিষয়ের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ড. কামালকে বলেছেন, আপনি তো নির্বাচন করেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচন ছাড়া কোনো নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার ছিল না। তাহলে এখন কেন চান?

সংলাপ আর হবে কিনা জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, তারা আসলেই হবে। তারা যদি মনে করে আসার দরকার। তাহলে আমরা আমন্ত্রণ জানাব।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা সফল হয়েছে, ফলপ্রসূ হয়েছে। ওরা যখন চায়, আলোচনা করতে পারবে। গণভবনের দরজা খোলা আছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আলোচনা আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে হয়েছে।

আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম বলেন, এখানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সাত দফা নিয়ে কথা হয়েছে। এখানে সবগুলো দাবি আদালত সম্পর্কিত, নির্বাচন কমিশন সম্পর্কিত ও সংবিধান সম্পর্কিত। সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করার সুযোগ নেই এটা তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আদালত খালেদা জিয়াকে জামিন দিলে তিনি মুক্তি পাবেন।

আরও সংলাপের প্রয়োজন কিনা জানতে চাইলে রেজাউল করিম বলেন, আমরা প্রয়োজন মনে করি না। যদি তারা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে থেকে বলে দেওয়া হয়েছে তারা যেকোনো সময় আসতে পারেন। তবে সব কিছুই হতে হবে সংবিধানসম্মত।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ শুরু হয়। সংলাপ শেষে রাত পৌনে ১১টার পর দুই জোটের নেতারা একে একে গণভবন থেকে বেরিয়ে আসেন।