অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
গোয়েন্দা দিয়ে সরকার রাজনীতি মোকাবেলা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, ‘কোথায় আমি কি বলছি, তা গোপনে ধারণ করে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। এটাতো ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, সংবিধান পরিপন্থী। গোয়েন্দা সংস্থা চাইলে ওই রেকর্ডের ভিত্তিতে আটক করবে, অডিও রেকর্ড কোর্টে দিবে। সরকার এখন রাজনীতিকে রাজনীতি দিয়ে মোকাবেলা করছে না, মোকাবেলা করছে গোয়েন্দাদের দিয়ে।’
বুধবার রাতে বেসরকারি টেলিভিশন ইনডিপেনডেন্টে আজকের বাংলাদেশ শীর্ষক টক শো অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন আলাল। খালেদ মুহিউদ্দীনের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম।
টক শোতে নারী সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টিকে কটূক্তির ঘটনায় ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনকে গ্রেপ্তারের পর জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কেন বিবৃতি দেয়নি এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আলাল বলেন, ‘এখানে বিবৃতি নাও দিতে পারেন। এটা ওন করার বিষয় না। এখানে ড. কামাল হোসেন বিবৃতি হয়তো দেয়নি কিন্তু বিএনপি অফিসিয়ালভাবে বিবৃতি দিয়েছে।’
টক শোতে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক রেজাউল করিমের কাছে মইনুলকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আদালতের উপযুক্ত গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মঈনুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জামিন দেয়া, না দেয় বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেটের এখতিয়ার। ম্যাজিস্ট্রেট সংগত কারণে তাকে জামিন নাও দিতে পারেন। কারণ মূল মামলার কপি ঢাকার আদালতে ছিল না, ফলে ম্যাজিস্ট্রেট জামিন না দেয়ার ক্ষেত্রে কোনো অযৌক্তিক কিছুই নাই।’
রেজাউল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখার পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বিষয়টা তা না। বিষয়টা নিয়ে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল, তা প্রশমিত করার জন্য আদালতের ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে। তা না হলে উত্তাপ সৃষ্টি হলে আরও খারাপ কিছু হতে পারতো।
‘আইন প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য ব্যবহৃত হয় না। আইনের আওতায় আসার মতো কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত তারাই আইনের আওতায় আসেন।’
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জনসভা পণ্ড করতে সিলেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে অভিযানের সে অভিযোগ বিএনপি করেছে সে ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক বলেন, ‘বিষয়টা সঠিক না। যদি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি পণ্ড করার কোনো পরিকল্পনা থাকতো তাহলে এ কর্মসূচি যারা অর্গানাইজ করেছিলে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হতো। যারা গ্রেপ্তার হয়েছেন তারা কিন্তু ফ্যাক্টর কেউ না, ফলে তাদের সমাবেশ পণ্ড করা কিংবা রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে এটা সঠিক না। তারা থাকলে কি হতো/সমাবেশে ৬৮জন লোক বেশি হতো, এছাড়া আর কিছু হতো না। তাদেরকে হয়তো সন্দেহ বা অন্য কোনো অভিযোগের প্রমাণের ভিত্তি আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।’
সিলেটের জনসভায় খালেদার মুক্তির বিষয়টি ড. কামালের বক্তব্যে না আসার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আলাল বলেন, ‘সিলেটে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সভা নিয়ে একটা উত্তেজনা ছিল। কারণ সিলেটে হঠাৎ করেই ঐক্যফ্রন্টের জনসভার গেটওয়েতে আওয়ামী লীগ একটা কর্মসূচি দিয়েছিল। এ কারণে সভা শুরু করতে দেরি হয়েছিল এবং শর্তের কারণে সভা শেষ করার তাড়াহুড়ো ছিল। আমাদের নেতারা সংক্ষিপ্ত করে বক্তব্য দিয়েছিলেন। কামাল হোসেন সাহেবের তাড়াহুড়োর বক্তব্যে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা ছিলো না ঠিক, কিন্তু তাদের লিখিত সাত দফায়তো এটা প্রথম দিকেই রয়েছে।’
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















